ইরানে হামলা থেকে আপাতত বিরত থাকবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলঃ ট্রাম্প


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : আগস্ট ২, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ /
ইরানে হামলা থেকে আপাতত বিরত থাকবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলঃ ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |ফাইল ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা আপাতত স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে, তবে শর্ত হলো- কয়েক মাস ধরে চলা সঙ্ঘাতের অবসানে দ্রুত একটি চুক্তি হতে হবে।

এর আগে ট্রাম্প ইরানের ওপর ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলার হুমকি দেয়ায় এবং জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে ব্যাপক হামলার কথা বিবেচনা করছেন বলে খবর প্রকাশিত হওয়ায় সঙ্ঘাত আবারো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল। তবে তেহরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ নতুন হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এই অনুরোধের ভিত্তিতে, বিশ্বের ভবিষ্যৎ কল্যাণ এবং একইসাথে একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের টিকে থাকার স্বার্থে আমি দ্রুত একটি চুক্তি করা সম্ভব হলে হামলা বাতিল করতে সম্মত হয়েছি।’

ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে নতুন হামলা থেকে আপাতত বিরত থাকবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তিনি বলেন, ওই চুক্তির মধ্যে হরমুজ প্রণালী ‘অবিলম্বে, সম্পূর্ণ ও পুরোপুরি উন্মুক্ত’ করা এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।

ট্রাম্প আরো লিখেছেন, ‘ইসরাইলও এই অঙ্গীকারে আমার সাথে রয়েছে। সবাই কাজ শুরু করুন এবং এটি সম্পন্ন করুন।’ ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তেহরানে হামলা চালানোর মাধ্যমে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এখন পর্যন্ত এই সঙ্ঘাতের শেষ হওয়ার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

এর আগে, একই ধরনের শর্তে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। তাতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ও ছিল। তবে সেই চুক্তি ভেঙে যায়। এরপর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশ আবারো একে অপরের ওপর হামলা শুরু করলে ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করে।

নতুন করে সঙ্ঘাত শুরু হওয়ায় ও প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির সময় কমে আসায় বৈশ্বিক তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচন আর মাত্র তিন মাস বাকি। এই নির্বাচন ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো শনিবার নিজ দেশের নাগরিকদের সম্ভাব্য ‘অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা বৃদ্ধির’ বিষয়ে সতর্ক করেছে। একইসাথে প্রয়োজন হলে দ্রুত সেখান থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।

সিবিএস নিউজ জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ হামলার পরিকল্পনা করছিল। সপ্তাহের শেষ এসব হামলা হতে পারত। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল তেল শোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্র। তবে ট্রাম্প বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধের পর তিনি নতুন হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

অ্যাক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান শনিবার ট্রাম্পকে ফোন করে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুবরাজ ট্রাম্পকে উত্তেজনা কমাতে এবং হামলা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেন। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

গত মাসে কয়েক দিনের বিরতির পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আবারো পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করে। তবে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফক্স নিউজকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বড় অংশ ‘ধ্বংস করে দিয়েছে’। তার দাবি, তেহরান এখন ‘পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং প্রণালী-সংক্রান্ত চুক্তি করতে আগ্রহী, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অত্যন্ত আগ্রহী বলেও মনে হচ্ছে।’

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান এখনো ক্ষয়ক্ষতি করার সক্ষমতা রাখে। বুধবার মিসরের একটি বন্দরে নোঙর করা যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি গ্যাসবাহী জাহাজে একটি ড্রোন হামলায় আগুন লাগে। মিসর ঘটনাটির তদন্ত করছে। তবে এ হামলার জন্য এখনো কোনো গোষ্ঠীকে দায়ী করেনি।

ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, এদিকে শনিবার ওমান উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজে ‘অজ্ঞাত একটি প্রক্ষেপণাস্ত্র’ আঘাত হেনেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীর নৌ-চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ওই পথ ব্যবহার করতে জাহাজগুলোকে আগে অনুমতি নিতে এবং ট্রানজিট ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে। সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্লেপলার শুক্রবার জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ কমে গেছে।

এদিকে, লোহিত সাগরকে ভারত মহাসাগরের সাথে যুক্ত করা এবং সুয়েজ খালের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে পৌঁছানোর গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে- এমন অভিযোগ শনিবার অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হাউছিরা।

এই সংকীর্ণ নৌপথটি সৌদি আরবের তেল পরিবহনের জন্য ক্রমেই আরো গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।