কাদা-পানির বুক চিরে চলছে জীবনের অপরাজেয় এক অদম্য লড়াই আর কাদার বুক চিরে দেখছে সোনালী স্বপ্ন


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ /
কাদা-পানির বুক চিরে চলছে জীবনের অপরাজেয় এক অদম্য লড়াই আর কাদার বুক চিরে দেখছে সোনালী স্বপ্ন

প্রতিবেদকঃ মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের ঘোপ বাওড়। শীতের সকালে চারদিকে যখন নিঝুম-নিস্তব্ধতা, ঠিক তখন কাদা-পানির বুক চিরে চলছে এক অদম্য লড়াই। দৃশ্যটি কেবল জমি সমতল করার নয় বরং পলিমাটির বুকে আগামীর সোনালী স্বপ্ন বোনার এক মহা-আয়োজন। এমনি ভাবেই সারাদেশ জুড়ে চলছে এখন ইরি-বোরো চাষের ব্যস্ততা। 

যেখানে যান্ত্রিক শক্তি হার মেনেছে, সেখানে জেগে উঠেছে মানুষের আদিম ও অদম্য প্রাণশক্তি। দুই জোড়া হাত আর পাহাড়সম ইচ্ছাশক্তির ওপর ভর করে কর্দমাক্ত রুক্ষ জমি হয়ে উঠছে আবাদের উপযোগী। রোদে পোড়া তামাটে পিঠ আর কাদা-মাটির চিরায়ত ঘ্রাণে মিশে আছে এই কৃষিজীবী মানুষের বেঁচে থাকার নিরন্তর সংগ্রাম। প্রতি ফোঁটা ঘাম যখন কাদার বুক চুঁইয়ে মাটিতে মিশছে, তখন সেখানে আঁকা হচ্ছে এক অদৃশ্য আলপনা। যে আলপনা কেবল ফসলের নয় বরং একটি মানুষের অন্নের নিশ্চয়তার।

এই যে হাড়ভাঙা খাটুনি, একে কেবল শরীরিক শ্রম বললে ভুল হবে। এটি মূলতঃ বাংলার পলিমাটির সাথে মানুষের আত্মিক বন্ধন। কাদা-পানি মাখা এই শরীরগুলোই আমাদের সভ্যতার ধারক। শীত-কুয়াশা কিম্বা প্রখর রোদের তাপ তাদের দমিয়ে রাখতে পারে না। মাটির প্রতি অগাধ মায়া তাদের করে তুলেছে অপরাজেয়। তারা জানেন, এই পলিমাটির গভীরেই লুকিয়ে আছে সোনালী ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।

বাংলার প্রতিটি শস্যদানা ঋণী এই মানুষগুলোর কাছে। যারা মাটির মায়ায় জীবন উৎসর্গ করে আমাদের থালায় অন্ন তুলে দেন। মহম্মদপুর উপজেলা সদরের ঘোপ বাওড়ের এই দৃশ্যটি আবারও মনে করিয়ে দেয়-মাটির প্রতি কৃষকের নিখাদ ভালোবাসা। এই কর্দমাক্ত প্রান্তরে আজ যা পরিশ্রম, কাল তাই হয়ে উঠবে দিগন্তজোড়া সোনালী ধানের হাসি।