কারামুক্ত হলেন জামায়াত নেতা ও সাবেক সাংসদ মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ / ০
কারামুক্ত হলেন জামায়াত নেতা ও সাবেক সাংসদ মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা, কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে করা মামলায় কারামুক্ত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এ সময় তাকে সংবর্ধনা জানাতে কারাফটকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা।

এর আগে রোববার (১ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করে। সোমবার (২ নভেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের জামিন বহাল রাখেন। ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা থাকেনি। আদালতে তার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

গত ২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা ও দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে দুই দফা জামিন আবেদন নাকচ হলে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর সৌদি আরবের মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় ফেরেন। তাদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ইমিগ্রেশন শেষে যাত্রীরা লাগেজ সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত বেল্টে গেলে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে ট্রলি সংকট ও দীর্ঘ অপেক্ষার পরিস্থিতি তৈরি হয়। লাগেজ পেতে দেরি এবং জমজমের পানি না পাওয়া নিয়ে কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে গেলে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং হুমকি দেন। এ ছাড়া বিমানবন্দরের দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও রয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা করেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে এখনো বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।