গণহত্যাকারীদের এ দেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৬, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ / ০
গণহত্যাকারীদের এ দেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, গণহত্যাকারীদের এ দেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।

জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম আমাদের ইসলাম এক নয়: মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী

সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথই সিরাতুল মুস্তাকিম এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আদর্শ উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামী ও মওদূদীবাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও দেশের প্রবীণ আলেমেদ্বীন আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর দ্বীন আমাদের দ্বীন নয়, জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম আমাদের ইসলাম নয়। তাঁর অভিযোগ, সাহাবায়ে কেরামকে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে অস্বীকার করার মাধ্যমে মওদূদীবাদ ইসলামের মৌলিক ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

একই সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গণহত্যা, নির্যাতন ও ফ্যাসিবাদী শাসনের সঙ্গে জড়িতদের বাংলাদেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। যারা মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে এবং গণ হত্যা চালিয়ে এখনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি, তাদের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দেশের মানুষ দেবে না।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর)চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম দুই দিনব্যাপী বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনে এসব বক্তব্য উঠে আসে।

সম্মেলনে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথ কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পথই সাহাবায়ে কেরামের পথ, যা কোরআন ও হাদিসের মাধ্যমে উম্মতের কাছে পৌঁছেছে। এ পথই সিরাতুল মুস্তাকিম। যারা এ পথে থাকবে, তারাই নাজাত পাবে।

তিনি বলেন,রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী উম্মতের মধ্যে ৭২টি ভ্রান্ত ফিরকার আবির্ভাব ঘটেছে। বর্তমানে বিভিন্ন ভ্রান্ত মতাদর্শের বিস্তার ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাহাবায়ে কেরাম সত্যের মাপকাঠি নন – এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে হেফাজত আমির বলেন, আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার বিধানসহ ইসলামের মৌলিক আমলগুলো সাহাবায়ে কেরামের মাধ্যমেই পেয়েছি। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজের পদ্ধতি সাহাবিরাই প্রত্যক্ষ করেছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাহলে সাহাবায়ে কেরামকে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে অস্বীকার করলে দ্বীনের ধারাবাহিকতাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আ’লা মওদূদীর চিন্তাধারার সমালোচনা করে বলেন, মওদূদী সাহাবায়ে কেরামকে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে মানতে চাননি। তাঁর মতে, মওদূদীর বিভিন্ন বক্তব্য ইসলামের প্রচলিত আকিদা ও ধর্মীয় ব্যাখ্যার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ প্রসঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর ধর্মীয় আদর্শকে নিজেদের অনুসৃত ইসলামী আদর্শ থেকে পৃথক বলে মন্তব্য করেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি ধর্মীয়-রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কঠোর সমালোচনা করেন।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা বাংলাদেশে অন্যায়-অবিচার ও দুঃশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের রক্ত নিয়েছে, দেশের ওপর অত্যাচার করেছে, এমনকি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো একজন মানুষকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে, সেই জালেম, স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ট ও খুনি আওয়ামী লীগের এ দেশে আর কোনো রাজনীতি হবে না।

তিনি বলেন, যারা তাদের প্রত্যাবর্তন সহজতর করতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তিকর রাজনীতি করছে, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই – বাংলাদেশের মানুষ গণহত্যাকারীদের এ দেশে রাজনীতি করতে দেবে না। যারা গণহত্যা চালিয়ে এখনো দুঃখ প্রকাশ করেনি, অনুশোচনা বা অনুতপ্ত হয়নি, তারা গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। তারা দিল্লিতে অবস্থান করছে। তারা কখনো এ দেশে ফিরে রাজনীতি করতে পারবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য ও বিভক্তি থাকতে পারে। প্রত্যেকের আলাদা আদর্শভিত্তিক রাজনীতি থাকতে পারে। কিন্তু যারা এ দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, দীর্ঘ ১৭ বছর আলেম-ওলামাদের ওপর নির্যাতন করেছে এবং মসজিদে নামাজ আদায় করতে বাধা দিয়েছে, তাদের বিষয়ে সবাইকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।

আন্দোলনের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা করুন, তবে তা হতে হবে গঠনমূলক। সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতা করতে পারেন, কিন্তু দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা করবেন না। দেশকে ঐক্যবদ্ধ রেখে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় পৌছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর দোয়া গ্রহণ করেন। পরে মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

মাদরাসার ১০৪তম দুই দিনব্যাপী এ বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলন বৃহস্পতিবার বাদ ফজর শুরু হয়। আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেশবরেণ্য ওলামা-মাশায়েখ, ইসলামী চিন্তাবিদ ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।

সম্মেলনে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও দেশবরেণ্য আলেম-ওলামারা উপস্থিত ছিলেন।