গার্ডিয়ান আরও যে সব তথ্য ফাঁস করলো ইসরাইলের


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : মে ২৯, ২০২৪, ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ /
গার্ডিয়ান আরও যে সব তথ্য ফাঁস করলো ইসরাইলের

ইসরায়েল কর্তৃক সংঘটিত অপরাধের তদন্তকালীন বেনসুদা শুধু নজরদারিতেই ছিলেন না, তাকে দেওয়া হয়েছিল হুমকিও।ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক প্রধান ইয়োসি কোহেন একাধিক গোপন বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এই প্রধান কৌঁসুলিকে হুমকি দিয়েছিলেন।

একাধিক গোপন বৈঠকে তদন্ত কাজ বাদ দেওয়ার জন্য তার উপর চাপও সৃষ্টি করেছিলেন কোহেন। বেনাসুদা যাতে ইসরায়েলর প্রত্যাশা মত কাজ করেন সেটি নিশ্চিতে তার সঙ্গে সমঝোতার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন নেতানিয়াহু। তার অনানুষ্ঠানিক দূত হিসেবেই সেসমস্ত কাজ করছিলেন কোহেন।

সাম্প্রতিক সময়েও এই আড়িপাতা ও হ্যাকিং অব্যহত রেখেছে ইসরায়েল। ফলে চলমান সংঘাতে যুদ্ধঅপরাধ ইস্যুতে আইসিসির সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে আগেই রক্ত পেয়ে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু। এখন নজরদারীর কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন করিম খান। আইসিসির কাছে তার যুদ্ধ সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারি পরোয়ানা চাওয়ার বিষয়টি আড়িপেতে আগেই জেনে গিয়েছিল ইসরায়েল। ফলে আবেদনের আগে থেকেই করিম খানের উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে যুক্তরাষ্ট্র।

গার্ডিয়ানকে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, নেতানিয়াহু আইসসিতে চলমান মামলার ব্যাপারে গোপন তথ্য জানতে এই ধরণের নজরদারিতে ব্যাপক ‘আগ্রহ’ ছিল নেতানিয়াহুর। এই গোপন কর্মকাণ্ড দেখভাল করতেন তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা। আইসিসির উপর নিখুঁত নজরদারি নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজ করতো গোয়েন্দা সংস্থা, সিন বেত, সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা, আমান,সাইবার ইন্টিলিজেন্স ডিভিশন, ইউনিট ৮২০০। আড়িপাতা ও হ্যাকিং থেকে প্রাপ্ত যাবতীয় গোপণ তথ্য শুধু সরকারের শীর্ষ মহলে প্রকাশ করা হতো।

গার্ডিয়ান জানায়,নেতানিয়াহুরর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত সাবেক মোসাদ প্রধান কোহেন আইসিসি প্রসিকিউটরকে হুমকি ও প্রলুদ্ধ করার কাজে সহযোগী হিসবে পেয়েছিলেন ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলকে।

এসব তৎপরতার ব্যাপারে গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে পরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের কাছে পাঠানো প্রশ্নগুলোতে অনেক মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন বিষয় রয়েছে, যা ইসরায়েল রাষ্ট্রকে আঘাত করার জন্য করা হয়েছে।’

কোহেন এ বিষয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটির কাছে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। বেনসুদার পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

তবে এ ব্যাপারে গার্ডিয়ানকে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে আইসিসি।আদালতের এক মুখপাত্র জানান,’আদালতের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ বেশ কিছু জাতীয় সংস্থার গোপনীয় তথ্য জানার ব্যাপারে পরিচালিত গুপ্তচরবৃত্তির ব্যাপারে আমরা অবগত। আইসিসি ক্রমাগত এই ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। এবং সাম্প্রতিক সময় চালানো এসব প্রচেষ্টার কোনটি আইসিসির মূল তথ্য-প্রমাণের ধারণের জায়গায় প্রবেশ করতে পারেনি, যা এখনও নিরাপদ ও সুরক্ষিত আছে।’