

নিজস্ব প্রতিনিধি: মামলা দায়েরের দীর্ঘ তিন মাস অতিবাহিত হলেও গ্রেফতার হয়নি যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি।
এতে পুলিশের ভূমিকা ও সদিচ্ছা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
অন্যদিকে, আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় চরম সামাজিক অবমাননা ও আসামিপক্ষের অব্যাহত হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন ওই নারী।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে শার্শার ৯ নম্বর উলাশী ইউনিয়নের কন্যাদাহ গ্রামের (——–)কে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে একই এলাকার শরিফুল ইসলাম বকুল নামের এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে শার্শা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৬)।
ভুক্তভোগী কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন,
“স্বামী মারা যাওয়ার পর এমনিতেই আমি অসহায় দিন কাটাচ্ছি। এর ওপর বকুলের পাশবিকতার শিকার হয়ে বিচার চেয়ে থানায় মামলা করেছি। কিন্তু তিন মাস হয়ে গেল পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারল না। উল্টো আসামিপক্ষের লোকজন এখন আমাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানা ধরনের ভয়ভীতি ও জানে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমি এখন ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপত্তা পাচ্ছি না।”
দীর্ঘদিনেও আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহলও। তাদের প্রশ্ন— তিন মাসেও একজন চিহ্নিত ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার না হওয়া কি তদন্তের ধীরগতি, নাকি এর পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের তদবির বা প্রশাসনিক গাফিলতি রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চিরঞ্জিত মণ্ডল বলেন, “কন্যাদাহ এলাকাটি ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। আসামিকে আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগী ওই বিধবা নারী প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :