

দেশের ৪৩ জেলায় কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি! চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত সিলেটে আবার বন্যার আশঙ্কা
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে দেশের ৪৩টি জেলায় কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, বরিশাল, খুলনা ও সিলেট। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ৫ লাখেরও বেশি কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার হেক্টরের বেশি জমির বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জমির বড় অংশই আউশ ধানের আবাদ।
আমনের বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজি, আদা, হলুদ, পেঁপেসহ নানা ধরনের ফসলও বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে। দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা থাকায় অনেক খেতের গাছ পচে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে রয়েছে ৭৯ হাজার ৫০০ হেক্টর আউশ ধানের খেত, ১০ হাজার ৫০৪ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ১৭ হাজার ৮০০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদি জমি।
চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত : সাম্প্রতিক বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামের অধীনে চলমান ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
গত রাতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কপথের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অবশিষ্ট বিষয়গুলোর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর সংশোধিত সময়সূচি পরে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছেন বন্যায় প্রায় ১ হাজার ২৮৬ হেক্টর আউশ ধান, ২৪৮ হেক্টর শাকসবজি, ২০ হেক্টর ফলের বাগান ও ১৫৫ হেক্টর আমন বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, জেলায় ২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে।
৯৯ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ এবং ৯২৬ হেক্টর জমির আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
মৌলভীবাজার : জেলার রাজনগর উপজেলায় রোপা আমন ৬০ হেক্টর ও কমলগঞ্জ উপজেলায় ৮৩ হেক্টর বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস : গতকাল সন্ধ্যায় প্রকাশিত বিশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে এবং দুই দিনে আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের ভিতরে এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তৃতীয় দিনে সিলেট বিভাগ ও সংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, তিন দিনে উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম এবং সংলগ্ন উজানে ১০০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে বান্দরবান, কক্সবাজার এবং চট্টগ্রাম, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলাতেও সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর দুটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সুনামগঞ্জের মারকুলী স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে রংপুর অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি দুই দিন কমতে পারে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের ফেনী, মুহুরী, গোমতী, সাঙ্গু, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানিও কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
আপনার মতামত লিখুন :