

ভোটারদের কাছে ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রি স্পষ্টতই শিরক ও গুরুতর গুনাহ, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, অন্য কোনো দেশ নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নবী করীম (সা.)-এর ন্যায়পরাণতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করে তিনি দেশবাসীকে এ প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নবী করীম (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতায় দেশ চালাবে ইনশাআল্লাহ। বিদেশ-নির্ভর রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, অন্য কোনো দেশ নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। দেশের মানুষই হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক সব ক্ষমতার উৎস। সে জন্যই আমরা দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিশ্বাস করি। সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়াও তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব, নরংসিদী ও আড়াইহাজার এলাকায় কয়েকটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করেন।
সিলেট মাদরাসা ময়দানের আয়োজিত লাখো জনতার উপস্থিতিতে সভায় স্থানীয় ভোটারদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ইলিয়াস, জুনায়েদ, দিনারসহ হাজারো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে যে অধিকার আমরা অর্জন করেছি, চব্বিশের গণ-আন্দোলনে সিলেট শহরে ১৩ জন জীবনদান করেছেন, এই প্রাণগুলোর বিনিময়ে যে অধিকার আদায়ের পথে আমরা নেমেছি, একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা যায়।
ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে প্রতিপক্ষ রাজনৈকি দল ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রি করছে, এমন কাজ স্পষ্টতই শিরক ও গুরুতর গুনাহের শামিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সব কিছুর মালিক আল্লাহ। সেই জান্নাতের মালিকও আল্লাহ। কিন্তু একটি দল জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে নিজেরা শিরক করছে, মানুষকে ঠকাচ্ছে। যারা মুসলমান তাদের শিরক করাচ্ছে তার তাদের কথায় বিভ্রান্ত হবেন না। নাউজুবিল্লাহ। এর আগে বক্তব্যের এক ফাঁকে হঠাৎ করে বলেন, উপস্থিত জনতার মধ্যে কে আছেন ওমরাহ বা হজ করেছেন। তার এই ডাকে সাড়া দিয়ে কয়েকজন হাত তুলেন। এ সময় সুনামগঞ্জের এ টি এম হেলাল নামের একজনকে ডেকে নেন কাছে। তাকে জিজ্ঞেস করেন, ওমরাহ করছেন, হজ করেছেন, তাহলে কাবাঘরের মালিক কে? তৎক্ষণাত এ টি এম হেলাল দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আল্লাহ। এভাবে একে একে প্রশ্ন করেন তারেক রহমান। তার উত্তরে হেলালের সাথে সমস্বরে উপস্থিত লাখো নেতাকর্মী বজ্রধ্বনি তুলে বলেন, আল্লাহ, আল্লাহ। এরপর তারেক রহমান বলেন, কয়েক দিন ধরে খেয়াল করছি, দেশের ভেতরের কিছু কিছু মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে ডাকাতি শুরু করেছে। ঠিক যেমন ফ্যাসিস্টরা ভোটাধিকার হরণ করেছিল, একই রকম ডাকাতি শুরু করেছে একটি কুচক্রী মহল। এদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে আমাদের।
তারেক রহমান বলেন, সিলেটের মানুষদের বড় একটি অংশ লন্ডনে যান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে যান। আমরা তাদের বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণ দিতে চাইÑ প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চাই। সরকার গঠন করলে আমরা তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলব, যাতে সারা পৃথিবীতে তাদের ছড়িয়ে দিতে পারি। তারেক রহমান বলেন, টেক ব্যাক বাংলাদেশের আরেকটি বড় কাজ বাকি আছে। আমাদের দেশের লাখ লাখ যুবক-যুবতী, তরুণ সমাজের সদস্য বেকার হয়ে বসে আছেন। আমরা তাদের বেকার করে রাখতে চাই না। এই বেকারদের জন্য আমরা কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাই। তিনি আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন মা-বোনদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আগামী ধানের শীষের বিএনপি সরকার সেই শিক্ষিত মা-বোনদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চায় সে কারণে ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।
জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ জনসভায় তারেক রহমান আরো বলেন, গত ১৫-১৬ বছর এই দেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক দিয়ে দিয়েছিল। সে জন্য আমি বলেছি, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’। আমি আরো বলেছিলাম, ‘টেইক ব্যাক বাংলাদেশ’। সেই পথের আমরা অর্ধেক পেরিয়ে এসেছি। স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি। এখন বাকি অর্ধেকটা পেরোতে হবে। ভোটাধিকার আদায় করতে হবে। বাংলাদেশকে নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছি। এখন ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশকে গড়ে তুলতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে। এ জন্যই আরেকটা কথা বলি, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, সিলেট থেকে সড়কপথে ঢাকা যেতে এখন ১০ ঘণ্টা লেগে যায়। সিলেটের অনেক মানুষ লন্ডন থাকেন। সিলেট থেকে ঢাকা যেতে যত সময় লাগে, লন্ডন যেতেও তত সময় লাগে না। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি বিগত ১৫-১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে কীভাবে দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দেয়া হয়েছে। আজকে এই যে ঢাকা থেকে সিলেট বা সিলেট থেকে ঢাকার যে মহাসড়ক; ২০০৫ সালে আমি এসেছিলাম সুনামগঞ্জে, বন্যা হয়েছিল। আমার আসতে লেগেছিল সাড়ে চার ঘণ্টার মতো। কিন্তু আজ আজ আমরা দেখি ১০ ঘণ্টার মতো লাগে। সিলেটের এই পুণ্যভূমির মানুষ বহু মানুষ আছেন, যারা লন্ডনে যাতায়াত করেন; লন্ডন যেতেও এত সময় লাগে নাÑ এই হচ্ছে উন্নয়নের ফিরিস্তি।
তারেক রহমান বলেন, কেউ কেউ বলে, অমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি। এবার একে দেখেন। ১৯৭১ সালে যে যুদ্ধ, যে যুদ্ধে লাখো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে, আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি, সেই মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি।
মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে দুপুর ১২টা ২৮ মিনিটে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জনসভা মঞ্চে পৌঁছান তারেক রহমান। এ সময় নেতাকর্মীরা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম, সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে, লাল গোলাপ শুভেচ্ছা, ভোট দেবো কিসে, ধানের শীষে, লাগারে লাগা, ধান লাগা’ স্লোগান দিতে থাকেন। ১২টা ৫৮ মিনিটে তারেক রহমান বক্তব্য শুরু করেন। ১টা ২৫ মিনিটে তার বক্তব্য শেষ হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর মানুষ গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। গুম হয়েছে, খুন হয়েছে; কিন্তু মাথা নত করেনি। জিয়াউর রহমানের দর্শন ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বাংলাদেশের উন্নয়ন। আজকে সিলেট থেকে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার যাত্রা শুরু হলো। তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি দল আছে, যারা আমাদের দল, আমাদের নেতার বিরুদ্ধে নানান কুৎসা রটনা করছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। সেই দল সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।
১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসনে কাঠানোর পর সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তারেক বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। গত বুধবার একটি ফ্লাইটে সিলেট আসার পর রাতে যান তার শ্বশুরালয়ের। এরপর গতকাল সকালে সিলেটের তরুণদের সঙ্গে মিলিত হন এক মতবিনিময় সভায়।
সকাল ১০টায় সমাবেশ অনুষ্ঠান নির্ধারিত হওয়ায় সুনামগঞ্জসহ সিলেটের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ রাতেই নগরীতে অবস্থান নেন। অনেকে রাত কাটান সমাবেশস্থলে। একদিকে শীতের প্রকোপ, অন্যদিকে সকালে তেজি সূর্যের তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েন উপস্থিত লাখ লাখ মানুষ। বেশির ভাগ লোক ছিলেন নির্ঘুম। অনেকে সকালে নাশতা পর্যন্ত খাওয়ার সুযোগ পাননি। নেতাকে এক নজর দেখতে নেতাকর্মীদের এমন কোরবানি ছিল সত্যিকার অর্থে অনন্য এক দৃষ্টান্ত। সকাল থেকে বিভিন্ন রঙবেরঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরে দলে দলে লোকজন ভিড় করতে থাকেন সমাবেশস্থলে। এক সময় আলিয়া মাদরাসা মাঠ ও আশপাশের সড়ক এলাকায় জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সমাবেশ অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-২ আসনের প্রার্থী ইলিয়াসপতœী তাহসিনা রুশদী লুনা, সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী এম এ মালেক, সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনে বিএনপি-জমিয়ত জোটের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, সিলেট-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী কলিম উদ্দিন মিলন, নেজামে ইসলাম পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রহমান, ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, আবুল কাহের শামীম, সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি এহসান প্রমুখ।
এস এম উমেদ আলী, মৌলভীবাজার জেলা থেকে, মৌলভীবাজার অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের মতো একটি দল আবারো ভোট চুরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সে দল সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে, দলটি ’৭১ সালে দেশ ও দেশের জনগণের পক্ষে থাকলে দেশে এত লোক মারা যেত না, আপনাদেরকে নতুন করে দেখার কিছু নেই মানুষ। ’৭১ সালেই আপনাদেরকে দেখিছে।
জামায়াতে ইসলামী মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে বেহেশতে যাবার ভোট চেয়ে শিরক করছে, তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে ধর্ম নিয়ে, তারা ক্ষমতায় গেলে কিভাবে মানুষকে ঠকাবেÑ এটি বুঝার বাকি নেই। তাদের বর্জন করতে হবে, তাদের থেকে সজাগ থাকতে হবে। বিগত বছরগুলোতে উন্নয়নের মেগা প্রকল্পের নামে দেশের সম্পদ লুট করা হয়েছে আর এখন একটি দল দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আইনপুর মাঠে বিএনপির দ্বিতীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
বিএনপি চেয়ারম্যান আরো বলেছেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয়। দেশে-বিদেশে বসে যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের থেকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের মানুষ আগেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছে। কিছু রাজনৈতিক দলগুলোকে ব্যাপক আকারে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান তারেক রহমান এবং ষড়যন্ত্রকারীদের আগামীতেও জনগণই প্রতিহত করবে।
বক্তব্য দেয়ার এক পর্যায়ে তিনি সমাবেশ থেকে ওমরাহ পালন করে আসা একজনকে মঞ্চে ডেকে নেন। বিএনপির চেয়ারম্যান ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি তো কাবা শরিফে গেছেন, কাবা শরিফের মালিক কে? এখানে সবাই মুসলমান উল্লেখ করে তারেক রহমান তার কাছে তিনি জানতে চান, এই দুনিয়া, জান্নাত-জাহান্নামের মালিক কে? জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, আল্লাহ।
এরপর বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা সবাই সাক্ষী দিলেন, দোজখের মালিক আল্লাহ, বেহেশতের মালিক আল্লাহ, এই পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, সবার মালিক আল্লাহ। জেতার মালিকও আল্লাহ। সেটা কি অন্য কেউ দেয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না। দলটি এই দেবো, ওই দেবো বলছে, বেহেশতের টিকিট দেবো বলছে। জেতার মালিক মানুষ না, সেটির কথা যে বলে, শিরক করা হচ্ছে।
বক্তব্যের শেষে সবার কাছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠন করলে আমরা নবী করীম (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে ইনশাআল্লাহ দেশ পরিচালনা করব।
সমাবেশ অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের ধানের শীষের পার্থী এম নাসের রহমান। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও তারেক রহমান মঞ্চে উঠার আগে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গৌছ, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, সাবেক মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সভাপতি আলহাজ অদুদ আলম অদুদ, জেলা ছাত্রদল সভাপতি রুবেল মিয়া, সাধারণ আকিদুর রহমান সুহানসহ অন্যরা।
আনোয়ার হোসেন জসিম, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) থেকে, মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও উপদেষ্টাদের উদ্দেশে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে, লাখো জনতার পক্ষ থেকে আমি অনুরোধ করব, যদি তাদের প্রটোকল দরকার হয়, তাহলে তা তিন ডাবল করে দিন। বিএনপির চেয়েও তিনগুণ বেশি করে দিন। তাদের প্রতিশ্রুতি শুনে মানুষ এত ক্ষিপ্ত, মানুষ কখন যে কী করে বসে, তাদের নিরাপত্তা দরকার। গতকাল মৌলভীবাজারের শেরপুর ইউনিয়নের আইনপুর মাঠে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, হাজার হাজার গুম-খুনের বিনিময়ে আজ আমরা এখানে লাখো জনতা একত্রিত হয়েছি। গত ১৫ বছর একটি দল ক্ষমতার নামে আরেকটি দেশের গোলাম হয়ে গিয়েছিল। তাই আমি বলেছি, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১৫ বছরে উন্নয়নের নামে দেশের কোটি কোটি টাকা লুট করা হয়েছে। এর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে সিলেটে আসতে যে সময় লাগে, লন্ডনে যেতে এত সময় লাগে না। সিলেট থেকে এই সমাবেশে আসতে শুধু রাস্তা ভাঙা আর ভাঙা। দেশের বেকারত্ব প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যুবকদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করতে চাই, সেটা দেশের ভেতরে হোক বা দেশের বাইরে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবক ভাইদের স্বাবলম্বী করতে চাই। বক্তব্যের একপর্যায়ে ধর্মীয় অনুভূতির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান জনতার উদ্দেশে একাধিক প্রশ্ন রাখেন, কাবা শরিফ, এই পৃথিবী, সূর্য-নক্ষত্র, বেহেশত ও দোজখের মালিক কে? মাঠভর্তি জনতা সমস্বরে ‘আল্লাহ’ বলে জবাব দিলে তিনি বলেন, আপনারা সবাই সাক্ষ্য দিলেন, সবকিছুর মালিক একমাত্র আল্লাহ। এ সময় সমাবেশ থেকে একজন বয়স্ক হাজী সাহেবকে মঞ্চে ডেকে এনে একই প্রশ্ন করেন তারেক রহমান। হাজী সাহেব ‘একমাত্র আল্লাহ’ বললে তিনিও সম্মতি জানালেন।
মো. ফজলুর রহমান, হবিগঞ্জ জেলা থেকে, হবিগঞ্জ অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়তে হবে। সকালে ভোট শুরু হওয়ার সাথে সাথেই লাইনে দাঁড়াতে হবে। তারেক রহমান বলেন দেশের মালিক ২০ কোটি জনগণ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন দেশ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য। জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই এদেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করেন। এ সময় তিনি জেলার চারটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য যারা জীবন বাজি রেখে রাজপথে ছিল সেই মানুষগুলোর প্রতি সম্মান জানাতে হলে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সজাগ থাকতে হবে। ভোট যাতে সবাই দিতে পারে। কিন্তু এরই ভেতরে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। টের পাচ্ছেন কিছু আপনারা? গত কয়েক দিন ধরে দেখবেন পত্রিকায় সংবাদ বের হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর আসছে। বিএনপি আমরা বহু বছর ধরে বলে আসছি, প্রবাসে যারা আমাদের আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব আছে, যারা বাংলাদেশি আছে তাদের ভোটের ব্যবস্থা করার জন্য। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সেই ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু আমরা পত্রিকার মাধ্যমে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারছিÑ একটি রাজনৈতিক দল সবগুলো পোস্টাল ব্যালট দখলের চেষ্টা করছে। সজাগ থাকতে হবে। তারা ভোট কেনার চেষ্টা করছে। এখন আবার ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করছে। আপনার, আপনার পরিচিত মানুষগুলোর ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করছে। জনগণকে সজাগ থাকতে হবে। সতর্কও থাকতে হবে। একই সাথে একটি রাজনৈতিক দল অনেক সময় বলছে অমুককে দেখেছেন, তমুককে ক্ষমতায় দেখেছেন। এবার আমাদের দেখুন। এখন ১৯৭১ সালে কি হয়েছি? ১৯৭১ সালে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল। লাখ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু সেদিন এ রাজনৈতিক দল কাদের পক্ষ নিয়েছিল। যারা এ দেশকে স্বাধীন হতে দেয়নি তাদের পক্ষ নিয়েছিল। তাদের পক্ষ নেয়ার ফলে লাখ লাখ মা-বোন তাদের সম্মানহানি হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছিল। ভাই যাদের দেখা বলছেন, তাদের তো ৫০ বছর আগেই দেখেছি। তাদের ভূমিকা দেশের বিরুদ্ধে ছিল। কাজেই নতুন করে আর দেখার কিছু নেই। এখন একমাত্র রাস্তা হচ্ছে জনগণের শাসন কায়েম করা। যারা এ দেশের মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ষড়যন্ত্র যে করছে তার আরো একটি খবর হচ্ছে, তাদের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি নাম্বার নিচ্ছে। নিরিহ মা-বোনদের মোবাইল নাম্বার নিচ্ছে। তারা বলে সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে। বিকাশ নাম্বার নিচ্ছে। ফোন নাম্বার নিচ্ছে। বিকাশ করে টাকা পাঠাচ্ছে। এই বলে তাদের পরিকল্পনা। যারা নির্বাচনের আগেই অসৎ কাজ করে কোনোভাবেই তাদের পক্ষে সৎ কাজ করা সম্ভব নয়। তারা যদি ক্ষমতায়ও যায়। এদেশে একমাত্র শহীদ জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়া প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, কিভাবে দুর্নীতিকে দূর করতে হয়।
সভায় তারেক রহমান হবিগঞ্জের চারটি আসনের মধ্যে হবিগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী আলহাজ জি কে গউছ ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সলকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় সভাস্থলে পৌঁছেন তারেক রহমান। এরপরই তিনি মঞ্চে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করেন।
আপনার মতামত লিখুন :