

কলকাতায় একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল আয়োজন করেছে ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ’। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্যটির ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ২৭ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার তারা এই কর্মসূচি পালন করে। জমিয়তের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে মিছিলটি রাজাবাজার এলাকা থেকে শুরু হয়ে মৌলালী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এই বিক্ষোভে ধর্মীয় নেতা, মানবাধিকার কর্মী এবং সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার ফলে তারা পাসপোর্ট সেবা ও শিক্ষাসংক্রান্ত সুবিধা সহ বিভিন্ন সরকারি ও প্রশাসনিক সেবা পেতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তারা বাদ পড়া ভোটারদের নাম দ্রুত পুনর্বহালের দাবি জানান এবং প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করতে প্রতিটি জেলায় ট্রাইব্যুনাল গঠনের আহ্বান জানান।
সমাবেশে জমিয়তের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুফতি আবদুস সালাম, মুফতি ইব্রাহিম কাসেমী, মাওলানা বদরুল আলম, মাওলানা আব্দুস সামাদ ও মুফতি মাইদুল ইসলাম।
বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় মুফতি আবদুস সালাম বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার পর ২৭ লাখেরও বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যেসব মানুষের নাম বাদ পড়েছে, বা ‘বিবেচনাধীন’ রয়েছে কিংবা ট্রাইব্যুনালে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে, তাদের মনে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই অনিশ্চয়তার কারণে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রশাসনিক কাজে সমস্যায় পড়ছেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা। তারা দ্রুত এসব মামলা নিষ্পত্তির জন্য জেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান।
মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনঃসংযোজনের দাবিতেই আমাদের এই প্রতিবাদ মিছিল। এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করব। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আমরা আরও বড় ধরনের আন্দোলনে নামব।”টার তালিকার পাশাপাশি বিক্ষোভকারীরা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ থেকে পুলিশ কর্তৃক মাইক সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর অভিযোগ, কোনো লিখিত আদেশ না দেখিয়ে একাধিক মসজিদের কমিটিগুলোকে মৌখিকভাবে মাইক খুলে নিতে বলা হয়েছে অথবা পুলিশ নিজেই তা খুলে ফেলেছে।
তিনি বলেন, “বিভিন্ন জেলা থেকে খবর আসছে যে স্থানীয় পুলিশ কোনো আইনগত নোটিশ ছাড়াই মসজিদে গিয়ে মাইক সরিয়ে নিচ্ছে অথবা মসজিদ কমিটির সদস্যদের মাইক খুলে ফেলার জন্য হুমকি দিচ্ছে।
এমনকি কিছু এলাকায় ফজরের আজানের জন্য মাইক ব্যবহারে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন সিদ্দিকুল্লাহ। তিনি জানান, মসজিদ কমিটিগুলো ইতোমধ্যে শব্দদূষণ সংক্রান্ত নিয়ম মেনে মাইকের আওয়াজ অনেকটাই কমিয়ে এনেছে।
তিনি বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা) আইন’ মেনে মসজিদের মাইকের আওয়াজ আগেই কমিয়ে আনা হয়েছে। তা সত্ত্বেও পুলিশের এ ধরনের জোড়জবরদস্তিমূলক আচরণ সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক, উদ্বেগ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে।”
পুলিশ কর্মকর্তারা কার নির্দেশে মাইক সরাচ্ছেন, মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিরা লিখিত আদেশ দেখতে চাইলে তারা কোনো নির্দেশনাপত্র দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ তোলা হয়।সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, “মাইক অপসারণ বা বন্ধের বিষয়ে সরকারের আদৌ কোনো লিখিত নির্দেশনা রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করে রাজ্য পুলিশকে অবিলম্বে বিবৃতি দিতে হবে।”
এদিনের প্রতিবাদ মিছিলে দুটি প্রধান দাবি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—প্রথমত, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ভোটারদের দ্রুত নাম পুনর্বহাল করা এবং দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় উপাসনালয়ে মাইক ব্যবহারের বিষয়ে রাজ্য প্রশাসনের অবস্থান পরিষ্কার করা।
আপনার মতামত লিখুন :