জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কারখানা চালু রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২, ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ / ০
জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কারখানা চালু রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন, বিক্ষোভ ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে শিল্প খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে জরুরি বৈঠকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যে কোনো মূল্যে পোশাক কারখানা চালু রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান। সেই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরকে ঘিরে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

গতকাল সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর শ্রম উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে গতকাল সকাল থেকেই ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভারে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। পূর্ব ঘোষণা অনুসারে গতকাল দুপুরের আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার।

এ ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। এর পরও চলতে থাকে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও ভাঙচুর। একপর্যায়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫২৯ কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। পোশাকশিল্পে চলমান বিশৃঙ্খলা ও কারখানা ভাঙচুর বন্ধ না হলে মালিকরা আর কারখানা চালু রাখতে চান না বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু।

জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর -শ্রমমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গতকাল রাতে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলছেন যে, কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান যেন সঠিকভাবে চলে, জনগণের জানমাল যেন নিরাপদ থাকে, সেজন্য আমরা সবাই যেন সজাগ থাকি। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি।

সীমান্তের ওপারের ইন্ধনে পোশাকশিল্পে অস্থিরতা -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : পোশাক শিল্পে চলমান অস্থিরতার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিরীহ গার্মেন্টশ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও উৎপাদন ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র চলছে। সরকার এ ধরনের অপতৎপরতা কঠোর হাতে মোকাবিলা করবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা লক্ষ করেছি, অনেক মুখোশধারী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঢুকে গিয়ে নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করছে। আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। গার্মেন্টশ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছেন। যাতে এখানে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায়, আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যকে ব্যাহত করা যায়, গার্মেন্টসের উৎপাদনকে ব্যাহত করা যায়।

তিনি বলেন, যারা সহিংস কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত তাদের ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে কোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে। এ সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত কোনো শ্রমিক বা সত্যিকারের শ্রমিক সংগঠন জড়িত নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এসব সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে কোনো শ্রমিক ভাই জড়িত নন। তারা আলাপ-আলোচনা করবেন। তাদের প্রতিনিধির নাম দেওয়া হয়েছে, মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে। সেই মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ হবে।

শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তাদের যাতে জীবনমান উন্নত হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, মজুরি বোর্ডকে পরামর্শ দিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ শ্রম মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে শ্রমিকের স্বার্থটা রক্ষা করা হয়। গার্মেন্টস মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা গার্মেন্টসশিল্প মালিকদের প্রতি আহ্বান জানাই যেন তাদের সব কারখানা চালু রাখেন, উৎপাদন চালু রাখেন। রপ্তানি সংকট তৈরি হয়, সেরকম কোনো কাজ না করেন এবং তারা শ্রমিকদের সঙ্গে মিলেমিশে আলোচনা করে তাদের কার্যক্রম চালাবেন। আজকে হয়তো কোনো কারণে তারা শঙ্কিত হয়ে হঠাৎ কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন, এটা সাময়িক, এটা হয়তো আজকের মধ্যেই সমাপ্ত হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ করেছি, যারা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকবে, যারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করবে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে তাদের কঠোরভাবে দমন করবে। তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি, রপ্তানি সমৃদ্ধি কেউ রুখে দিতে পারবে না।