

বিএনপি সরকারের প্রথম তিন মাসে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে কোন ধরণের হস্তক্ষেপ না করে সংবাদপত্রকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ। এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন সংগঠনের নির্বাহী কমিটির সদস্যগণ। একইসঙ্গে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাধীন গণমাধ্যমের যে অঙ্গীকার করেছিল তা তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে অব্যাহত থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে সম্পাদকদের সংগঠনটি।
রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের বৈঠকে এ আশাবাদ ব্যক্ত করে সম্পাদক পরিষদ। সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সম্পাদক পরিষদ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেন।
সম্পাদক পরিষদ জানায়, গণমাধ্যম বিষয়ক আইনগুলো অনেক পুরোনো এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতিন্ধকতা তৈরি করে। এগুলো বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশেষ করে পত্রিকা প্রকাশের ঘোষণাপত্রের ফর্ম ‘বি’-তে প্রকাশকদের ঘোষণা ও স্বাক্ষর দিয়ে বলতে হয়, “আমি এই মর্মে আরও ঘোষণা করিতেছি যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বার্থের পরিপন্থী বা কোন আপত্তিকর বিষয় আমার উক্ত পত্রিকায় প্রকাশে বিরত থাকিব এবং ১৯৭৩ সনের ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ডিক্লারেশন ও রেজিস্ট্রেশন) আইনের সমুদয় নিয়মাবলি মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিব”। এ ধারাটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে অগণতান্ত্রিক চরিত্র রয়েছে। সম্পাদক পরিষদ এ ধারা বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
বৈঠকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গণমাধ্যম সংস্কারের জন্য গণমাধ্যম কমিশন গঠন অথবা প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার বিষয়গুলো সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তথ্যমন্ত্রীকে আগামী জুন মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জুলাই মাসের মধ্যেই সরকার যেন একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারে, সে অনুযায়ী উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্ব-নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে জোর দেন। এর প্রেক্ষিতে সম্পাদক পরিষদ ২০২৬ সালের জুলাই মাসের মধ্যে সাংবাদিকদের জন্য একটি ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ বা আচরণবিধি প্রণয়ন ও গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান এবং বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে।
বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের কয়েকজন সদস্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন। সম্পাদক পরিষদ মনে করে, ন্যায়বিচারের স্বার্থেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন; কিন্তু হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা জানিয়েছেন, কোন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণসাপেক্ষ অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পিত্তি করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী সম্পাদক পরিষদকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করবেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রক নয়; বরং সহায়ক হিসেবে কাজ করতে চায়। তিনি বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, শক্তিশালী গণমাধ্যম রাষ্ট্রের একটি অপরিহার্য অংশ এবং তাঁর সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিকভাবে কাজ করবে। বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সদস্য মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, কোষাধ্যক্ষ ও দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক এবং সুপ্রভাত বাংলাদেশ সম্পাদক রুশো মাহমুদ। এছাড়া বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
আপনার মতামত লিখুন :