

শেখ মিজানুর রহমান মায়া (কেশবপুর) যশোর থেকেঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯০ যশোর-৬ কেশবপুর আসনে প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা ও আয়-ব্যয় বিবরণী পর্যালোচনায় জানা গেছে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোক্তার আলী তার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনি ব্যয়ের একটি অংশ তিনি টিউশন থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বহন করবেন। পাশাপাশি কন্যা ও দুই পুত্রের কাছ থেকে ধার নেবেন এবং নির্বাচনি এলাকার তিনজন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় তাকে মোট ১২ লাখ টাকা সহায়তা দেবেন।
অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ নির্বাচনের সম্পূর্ণ ব্যয় নিজ অর্থায়নে বহন করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি নিজের ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা নির্বাচনি কাজে ব্যয় করার কথা উল্লেখ করেছেন।
দাখিল করা হলফনামায় আবুল হোসেন আজাদ তার নিজের ও পরিবারের আয়-ব্যয় এবং সম্পদের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেছেন। হলফনামা অনুযায়ী, তার মোট অস্থাবর সম্পদের আনুমানিক মূল্য ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৭ টাকা।
তথ্য অনুযায়ী, প্রার্থীর বার্ষিক আয়ের বড় একটি অংশ আসে শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে। ব্যবসা খাত থেকে তার আয় দেখানো হয়েছে ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার ৩৮৬ টাকা। এছাড়া বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ভাড়া থেকে বছরে আয় রয়েছে ১৫ লাখ ১৬ হাজার ৮০৬ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের তালিকায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, যানবাহন, স্বর্ণালঙ্কার, ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্রের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রার্থীর নামে ব্যাংকে জমা আছে ১৮ লাখ ৫৮ হাজার ২০৬ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ ৯১ হাজার ৬০৫ টাকা। সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে তার বিনিয়োগ ৭৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪ টাকা এবং তার স্ত্রীর বিনিয়োগ ১ কোটি ২৫ লাখ ২১ হাজার ৯৭০ টাকা। যানবাহনের তালিকায় দুটি কার, একটি মাইক্রোবাস ও একটি জিপ রয়েছে। এছাড়া ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২২ হাজার ৮৯০ টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ৫ লাখ টাকা। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি ও বিদেশি রেমিট্যান্সসহ অন্যান্য খাতে সম্পদের মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৫ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার ৩১৫ টাকা।
স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে অকৃষি জমিতে বিনিয়োগের অর্জনকালীন মূল্য ৩ কোটি ২৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে, যার ৫০ শতাংশ যৌথ মালিকানাধীন। সব মিলিয়ে তার নামে স্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯১ হাজার টাকা। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রার্থী বা তার পরিবারের নামে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ নেই।
আয়কর সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ করবর্ষে আবুল হোসেন আজাদ ও তার স্ত্রী দু’জনই আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। প্রার্থীর রিটার্নে প্রদর্শিত আয় ৫৯ লাখ ২১ হাজার ৮৮৬ টাকা, সম্পদ ১১ কোটি ৯২ লাখ ৭২ হাজার ৬৬৭ টাকা এবং পরিশোধিত কর ১৬ লাখ ২৯ হাজার ৫৩৯ টাকা। তার স্ত্রীর প্রদর্শিত আয় ১৩ লাখ ২৫ হাজার ৭৬৭ টাকা, সম্পদ ৩ কোটি ৮ লাখ ৮৯ হাজার ৮৪০ টাকা এবং পরিশোধিত কর ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯০ টাকা।
অন্যদিকে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মোক্তার আলীর হলফনামা অনুযায়ী, তার মোট কৃষি জমির পরিমাণ ২৮ দশমিক ৮২ শতক। এর মধ্যে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমি ২৫ দশমিক ৫০ শতক এবং ক্রয়কৃত জমি ৩ দশমিক ৩২ শতক। এছাড়া ৭ দশমিক ৫ শতক জমির ওপর একটি বসতবাড়ি রয়েছে। ব্যবসা, চাকরি, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র বা অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তার কোনো আয় নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার ঘরে রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা মূল্যমানের একটি ফ্রিজ ও ওভেন এবং ৩০ হাজার টাকা মূল্যমানের চারটি খাট, সোফা, আলমারি, বুকশেলফ ও শোকেজ। একসময় অধ্যাপনা পেশায় যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তিনি টিউশনি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :