বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ৮০ হাজার মানুষের চাকরি চলে গেছেঃ কর্নেল অলি


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ / ০
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ৮০ হাজার মানুষের চাকরি চলে গেছেঃ কর্নেল অলি

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রায় ৮০ হাজার মানুষের চাকরি চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় বন্ধের পথে। অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকার ক্ষমতায় আসার আগে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এখন উল্টো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রায় ৮০ হাজার মানুষের চাকরি চলে গেছে। নতুন করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে না, মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ। মানুষ রাতে নিরাপদে ঘুমাতে পারে না, রাস্তায় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে না। দেশে আইনশৃঙ্খলা আছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

বিচারব্যবস্থা নিয়ে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, মানুষ ন্যায়বিচার পাচ্ছে না। যারা সরকারের সঙ্গে আছে, তারা বিচার পাচ্ছে। কিন্তু সরকারের বাইরে থাকা মানুষ বিচার পাচ্ছে না। নিজের ছেলের পুনর্গণনা-সংক্রান্ত একটি মামলার উদাহরণ দিয়ে বলেন, এ ধরনের বিষয়ে এক বছর ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অথচ প্রয়োজনীয় যুক্তি ও কাগজপত্র যাচাই করে দ্রুত সিদ্ধান্ত দেয়া সম্ভব। ব্যাংকিং খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক ব্যাংক প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হোক। তবে দেশে থাকা যেসব ব্যাংকমালিকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, তাদের ব্যাংক পরিচালনার সুযোগ ফিরিয়ে দেয়া উচিত। এতে মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসবে।

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সমস্যার কথা তুলে ধরে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, অনেক প্রবাসী দুই থেকে তিন বছর আগে ভিসা নিয়ে বিদেশে গেছেন। তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় আইন অনুযায়ী নতুন ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করেছেন। এ জন্য এক থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও অনেকে অনুমতি পাচ্ছেন না। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের সমস্যার সমাধান করা। প্রধানমন্ত্রীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিতে হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশে গিয়ে প্রবাসীদের সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানের উদ্যোগ নেন। রাষ্ট্রদূতদেরও দায়িত্ব হলো, সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশের নাগরিকদের সমস্যা সমাধান করা।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে কর্নেল অলি বলেন, আপনার চারপাশে যারা আছেন, তাদের অনেকেই আপনাকে সঠিক পরামর্শ দেয়ার মতো অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা রাখেন না। তাদের কারণে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। আপনার শত্রু বিরোধী দল নয়, বরং আপনার আশপাশের ভুল পরামর্শদাতারা।

দুর্গাপূজার সময় কিছু নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দেয়া উচিত নয়। একজন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব হলো সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা। মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তিনি বলেন, মানুষের পেটে ভাত নেই, চোখে ঘুম নেই। অথচ এসব বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ বাড়ানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে জনগণের দুর্ভোগের দিকে নজর দিতে হবে।