বেনাপোলে ইউনুস হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেফতার ২


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ /
বেনাপোলে  ইউনুস হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেফতার ২

যশোরের বেনাপোলে চাঞ্চল্যকর ইউনুস আলী (৪৭) হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র দুই দিনের মধ্যে উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পরকীয়া ও দাম্পত্য কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।এই ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতারসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত ইউনুস আলী বেনাপোল পোর্ট থানার ছোট আচড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থলবন্দরের একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে সিকিউরিটি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ইউনুস আলীর স্ত্রী তাসলিমা খাতুন তাকে ছেড়ে আনোয়ার হোসেনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর তাসলিমা পুনরায় ইউনুসের কাছে ফিরে আসেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আনোয়ার হোসেন ইউনুস আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পরিকল্পনামাফিক আসামি তরিকুল ইসলাম কাজের কথা বলে ইউনুসকে জনৈক রানার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে আনোয়ার হোসেন ও রানা মিলে ইউনুসের ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। পরবর্তীতে মৃতদেহটি আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে আসামি সবুজের মোটরসাইকেলে করে চারা বটতলা নামক স্থানে ফেলে পালিয়ে যায় তারা।

গত ২৩ এপ্রিল নিহতের ভাই ইউসুফ আলী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই যশোর জেলা স্বউদ্যোগে তদন্ত শুরু করে।

২৭ এপ্রিল ২০২৬ গোপালগঞ্জ সদর থানা এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত মোঃ তরিকুল ইসলামকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়।তার তথ্যের ভিত্তিতে একই দিনে বেনাপোল থেকে মোঃ সবুজ হোসেনকে (২১) গ্রেফতার করা হয় এবং সবুজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বাড়ি থেকে মৃতদেহ বহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।

পিবিআইয়ের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে যে, আনোয়ার হোসেনের পরিকল্পনা ও প্ররোচনায় তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। গ্রেফতারকৃত তরিকুল ও সবুজ ইতিমধ্যে আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

“স্ত্রীর পরকীয়া ও পুনরায় স্বামীর কাছে ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। মূল পরিকল্পনাকারী ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”