ভারতজুড়ে মসজিদ-মাদরাসা ও ঈদগাহ ভাঙা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জমিয়তের


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ / ০
ভারতজুড়ে মসজিদ-মাদরাসা ও ঈদগাহ ভাঙা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জমিয়তের

ভারতজুড়ে মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ, মাজারসহ মুসলিম ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে চালানো উচ্ছেদ অভিযান অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ (মাহমুদ মাদানি গোষ্ঠী)। একই সাথে সংবিধানে দেওয়া সংখ্যালঘুদের অধিকার সমুন্নত রাখতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলোর প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

হরিয়ানার নুহ জেলার পিপাকা অঞ্চলের সহসোলা পাত্তিতে ডিএলএফ স্প্রিংফিল্ডে আয়োজিত জমিয়তের পরিচালনা পর্ষদের (গভর্নিং কাউন্সিল) বার্ষিক সভায় গৃহীত তিনটি মূল প্রস্তাবের অংশ হিসেবে এই দাবি জানানো হয়। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২,০০০ কাউন্সিল সদস্যের পাশাপাশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং উলামারা অংশ নেন। সম্মেলনটির সভাপতিত্ব করেন জমিয়তের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানি।

প্রথম প্রস্তাবে স্বীকৃতি বা অনুমোদনের অজুহাতে মাদরাসাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা, ভিত্তিহীন অপপ্রচার এবং সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘিরে বিতর্ক তৈরির চেষ্টায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ভারত সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কে অবিলম্বে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার এবং মাদরাসাগুলোর সাংবিধানিক অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে মাদরাসা ব্যবস্থাপনা কমিটিকে জমির সঠিক কাগজপত্র, অনুমোদিত ভবনের নকশা, শিক্ষার্থীদের পরিচয় সংক্রান্ত রেকর্ড এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে নিরীক্ষিত (অডিটকৃত) আর্থিক হিসাব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রস্তাবটিতে মসজিদ এবং অন্যান্য ইসলামিক ধর্মীয় স্থান সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয় যে, মসজিদ মুসলিমদের বিশ্বাস ও সমষ্টিগত পরিচয়ের প্রতীক এবং সংবিধানে অনুচ্ছেদ ২৫ ও ২৬-এ প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতারই রূপ। ‘ধর্মীয় উপাসনালয় (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে প্রস্তাবে বলা হয়, ভারতের সুপ্রিম কোর্টও তাদের অযোধ্যা সংক্রান্ত রায়ে এই আইনটিকে সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

সম্বল-এর ঐতিহাসিক শাহী জামে মসজিদের সাম্প্রতিক উদাহরণ টেনে নিম্ন আদালতগুলোর উপাসনালয়ে জরিপ পরিচালনার আদেশের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জমিয়ত। সুপ্রিম কোর্টের ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বরের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ যেন পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র ও উচ্চ আদালতের প্রতি আহ্বান জানায় সংগঠনটি। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে ন্যায্য শুনানির সুযোগ না দিয়ে পৌরসভা, রাজস্ব বা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যেকোনো ধরনের উচ্ছেদ অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
তত্ত্বাবধায়ক পর্ষদের গৃহীত তৃতীয় প্রস্তাবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ (ইউসিসি)-কে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করা হয়। সংগঠনটি এই আইনটিকে মূলগতভাবেই বৈষম্যমূলক বলে অভিহিত করেছে।

জমিয়তের পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সংগঠনের সকল প্রাদেশিক, জেলা ও তহসিল ইউনিটসমূহ পরবর্তীতে নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে দেশের প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করবে। এছাড়া আগামী ছয় মাসের মধ্যে জমি, রাজস্ব রেকর্ড এবং মিউনিসিপ্যাল ট্যাক্স সংক্রান্ত সমস্ত আইনি দলিল সম্পন্ন করতে স্থানীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটিকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়ার জন্য সকল ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।