ভারতে এবার ২২৬ বছরের পুরনো একটিসহ ৬ ঐতিহাসিক মসজিদ ভাংগা হচ্ছে


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : মে ১৬, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ /
ভারতে এবার ২২৬ বছরের পুরনো একটিসহ ৬ ঐতিহাসিক মসজিদ ভাংগা হচ্ছে

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে উন্নয়নের নামে মুসলিম ঐতিহ্যের ওপর আবারও চালানো হচ্ছে আগ্রাসী বুলডোজার নীতি। এবার ঐতিহাসিক ও মুসলিম-প্রধান এলাকা ডালমন্ডিতে রাস্তা সম্প্রসারণের অজুহাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে শত শত ঘরবাড়ি এবং দোকানপাট।

চরম উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযানের কোপে পড়েছে ২২৬ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক একটি মসজিদসহ ওই এলাকার অন্তত ছয়টি পবিত্র মসজিদ।

পবিত্র উপাসনালয় ও বসতভিটা হারানোর এই নির্মম সরকারি উদ্যোগে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বারাণসীর অত্যন্ত জনাকীর্ণ ও প্রাচীন মুসলিম এলাকা হিসেবে পরিচিত ডালমন্ডির সরু গলিগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে একটানা চলছে প্রশাসনের বুলডোজার। সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের নামে গণপূর্ত বিভাগ (পিডাব্লিউডি) ইতিমধ্যে ১০৭টি ঘরবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী ৩১ মে-র মধ্যে পুরো উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে শত শত নিরীহ পরিবার।

উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা বাসিন্দারা জানান, হুট করে মাথার ওপর থেকে ছাদ এবং রুটি-রুজির একমাত্র অবলম্বন দোকানপাট কেড়ে নেওয়ায় তারা এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এদিকে, এই উচ্ছেদ অভিযানের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও বেদনাদায়ক দিকটি হলো পবিত্র মসজিদগুলোর ওপর আঘাত।

স্থানীয় চৌক থানা এলাকার অন্তর্গত মির্জা করিমুল্লাহ বেগ মসজিদ, মার্বেল ওয়ালি মসজিদ, আলী রেজা খান মসজিদ, নিসারান মসজিদ, রঙ্গিলে শাহ মসজিদ এবং ল্যাংড়ে হাফিজ মসজিদকে উচ্ছেদের জন্য তালিকাভুক্ত করেছে বারাণসী প্রশাসন।

এর মধ্যে মির্জা করিমুল্লাহ বেগ মসজিদটি প্রায় ২২৬ বছরের পুরনো, যা এই অঞ্চলের মুসলমানদের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক আবেগের সাথে জড়িয়ে রয়েছে।

বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন এই ন্যাক্কারজনক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে উন্নয়নের নামে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে।

মসজিদের সুরক্ষায় উদ্বেগ প্রকাশ করে করিমুল্লাহ বেগ মসজিদের মুয়াজ্জিন বাবু জান ক্ষোভের সাথে জানান, ‘‘আইনি ও সাংবিধানিক রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যদি কোনো জোরজুলুম করা হয়, তবে মুসলমানরা তা মুখ বুজে সহ্য করবে না এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হবে।’’

তিনি আরও বলেন, যদি কোনো অনিবার্য কারণে মসজিদ সরাতেই হয়, তবে তা অত্যন্ত সম্মানজনক উপায়ে অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে পুনঃস্থাপন করতে হবে।

অন্যদিকে, তীব্র প্রতিবাদের মুখে বারাণসী প্রশাসন দাবি করেছে, উচ্ছেদকৃত জমির মালিকানা যদি ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে থাকে তবেই কেবল ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। অন্যথায়, বিতর্কিত ধর্মীয় স্থান স্থানান্তরের নিয়ম নীতি অনুযায়ী তা সরিয়ে নেওয়া হবে। এলাকাটিতে যানজট নিরসন ও আধুনিকায়নের দোহাই দিয়ে প্রতিদিন ৩টি বুলডোজার এবং শতাধিক শ্রমিক দিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ভাঙচুর চালানো হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদি-যোগীর আমলে ভারতে উন্নয়নের আড়ালে সুপরিকল্পিতভাবে মুসলিম ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের যে ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ চালু হয়েছে, বারাণসীর ডালমন্ডির এই ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা। ঘরবাড়ি ও মসজিদ হারানোর আশঙ্কায় পুরো ডালমন্ডি এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।