মার্কিন কূটনীতিকদের সউদী আরব ছাড়ার নির্দেশ দিল যুক্তরাষ্ট্র


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ / ০
মার্কিন কূটনীতিকদের সউদী আরব ছাড়ার নির্দেশ দিল যুক্তরাষ্ট্র

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর হামলার আশঙ্কায় সউদী আরবে অবস্থানরত জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন—এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে মার্কিন কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। সউদী আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলা এবং হতাহতের ঘটনার পর নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর রয়টার্সের।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সউদী আরবে হামলার প্রেক্ষাপটে জরুরি দায়িত্বে নেই—এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ইরান-সমর্থিত হুথিরা সউদী আরবের বেসামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে। এসব হামলায় হতাহতের পাশাপাশি যাতায়াতব্যবস্থাও বিঘ্নিত হচ্ছে।

রয়টার্সকে চার মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলো কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। তবে সউদী আরবের বাইরে অন্য কোনো দেশে এ ধরনের নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র।

সউদী আরবে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। বিমানবন্দরের স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতিও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তবে হামলায় কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা কর্তৃপক্ষ জানায়নি।

একই দিন সউদী আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শায়বাহ তেলক্ষেত্রের একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়। ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে আগুন ধরে যায়। এতে ফিলিপাইন ও নেপালের দুই নাগরিক নিহত এবং পাকিস্তান ও ভারতের দুই নাগরিক আহত হন। তবে তেলক্ষেত্রটির কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ পরিস্থিতিতে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। দূতাবাসের সতর্কবার্তায় সউদী আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়। এর আগে মার্চের শুরুতে ইরানের পাল্টা হামলার সময় রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস ও সেখানে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) কার্যালয়ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

তবে কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছে ওয়াশিংটন। রয়টার্সকে চার মার্কিন কর্মকর্তা উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতেও মার্কিন মিশনের কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা বললেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পরে জানায়, আনুষ্ঠানিকভাবে দেশ ছাড়ার নির্দেশটি শুধু সউদী আরবে কর্মরত জরুরি দায়িত্বের বাইরে থাকা মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্যই প্রযোজ্য। উপসাগরীয় সব দেশে একই ধরনের নির্দেশ জারির খবরকে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট ভুল বলে উল্লেখ করেন।

ইয়েমেনে হুথি গোষ্ঠী ও সউদী-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নতুন করে হামলা শুরু হলে জ্বালানি অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক নৌ ও আকাশপথের যোগাযোগ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।