মুহাম্মদ রুহুল আমীন এঁর এক গুচ্ছ কবিতা


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ৯:২৪ অপরাহ্ণ / ০
মুহাম্মদ রুহুল আমীন এঁর এক গুচ্ছ কবিতা

১) 

শূন্যতা মানে

জন্মাবধি জেনে আসছি

শূন্যতা শব্দের অর্থ ফাঁকা,

আমার কাছে মনে হয়

আসলে ফাঁকা নয়!

অনেক ভারী!

আরো অতি ভারী হয়!

যদি তারা একত্রে জোট বাঁধে!

হালকা হতে কত সময় লাগবে?

উৎকণ্ঠিত মন তার ধারণা রাখে না!

কোনো কোনো ক্ষেত্রে পর্যায়ক্ৰমে

তা হালকা হয়, কখনো হয় না,

অবারিতভাবে আরো ভারী হয়!

পূর্ণতা শব্দের অর্থ ভরা,

আসলে ভরা নয়! একেবারে

পাখির রঙিন পালকের মত হালকা,

শূন্যতা যতক্ষণ আচ্ছন্ন না করে

ততক্ষণ তার পেলবতা অনুভূত হয় না।

২) 

আগুনের রূপ

আগুনের স্ফুলিঙ্গের দুই রূপ

এক নান্দনিক শৈল্পিকতা

আরেক বিষাক্ত সাপের ফণা,

দুই রূপ দুই প্রকার দর্শকের

একত্রে দারুণভাবে উপভোগ্য!

তবে আগুনে যখন কোনো

সত্যাশ্রয়ীর গৃহ দগ্ধ করা হয়

তখন থেকে প্রকৃতি তার

স্বভাব পরিবর্তন করে!

৩) 

দৃষ্টিভঙ্গি

পর্বতারোহণ করলে মনে হয় পৃথিবীটা পর্বতে মোড়ানো,

সাগরে বিচরণে মনে হয়, পুরো পৃথিবীটাই জলে বুড়ানো।

অরণ্যে হারালে মনে হয় পুরো পৃথিবীটাই দুর্গম,

মরু উত্তরণে মনে হয়, পৃথিবী অসীম দিগন্ত একদম!

সবুজের মাঝে গেলে মনে হয় পুরো পৃথিবীটা মায়াময়,

আকাশ মিশেছে সীমানায় এই আকর্ষণ ফুরাবার নয়!

উড্ডয়নে মনে হয়, অসীম আকাশ পৃথিবী কত সংকীর্ণ,

নদী সাগর বিস্তীর্ণ বনরাজি সবুজ প্রান্তর কতটা শীর্ণ!

ঠিক তেমনই স্বস্ব জাতি ধর্ম বর্ণের গণ্ডিতে করে অবস্থান,

ভ্রান্ত দৃষ্টি ভঙ্গিকে ভেবে নেয় পর্বত সাগর আকাশ সমান!

বিপুল প্রকৃতির কাছে মনে হয় নিজের অস্তিত্ব একবারে তুচ্ছ!

মানুষ সৃষ্টির সেরা, যদি থাকে আচার বোধ ও শুদ্ধিতে উচ্চ।

৪) 

আড়াল

অনেককেই বলতে শুনি

“বড্ড অসময়ে গেলেন উনি!”

চলে যাবার পরে বলে

“ছিলো এক অসাধারণ গুণী!”

আমি বলি অসময়েই

চলে যাওয়া ভালো।

কারণ মানুষ যখন পৃথিবীকে

দেয় অকৃত্রিম আলো।

তখন তার কাছে অনেকেরই

বহু প্রয়োজন থাকে।

তার প্রস্থানে গভীরভাবে

অনুভূত হয় শূন্যতাকে!

অচল হবার পূর্ব থেকে

পৃথিবী করে নিযুক্ত

তার বিকল্প নিয়োগ দিয়ে

করে স্থলাভিষিক্ত!

গতিহীন মানুষকে ক’জন

বা মনে ধরে রাখে?

ক’জন নিস্বার্থে সমীহ

করে সে মানুষটাকে?

চোখের আড়াল হলে ধীরে

মনেরও আড়াল হয়ে যায়!

সকলের অগোচরে এভাবে

কে হারিয়ে যেতে চায়?