মোদির ইসরায়েল সফরের আগে পশ্চিম তীর ইস্যুতে ৮৫ দেশের বিবৃতি করা থেকে সরে গেল ভারত
Sarsa Barta
প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ /
০

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন ইসরায়েল সফরের আগে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিশাল এলাকা দখলের ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের ৮৫টি সদস্য রাষ্ট্রের যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থেকেছে ভারত।
মোদী আগামী ২৫ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি দুই দিনের সফরে ইসরায়েল যাচ্ছেন। সফরে তিনি দেশটির সংসদ নেসেটে ভাষণ দেবেন এবং প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক নানা ইস্যুতে আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যৌথ ঘোষণাপত্রে ভারতের অনুপস্থিতি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নে নয়াদিল্লির বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। সাম্প্রতিক গাজা যুদ্ধ ইস্যুতে জাতিসংঘের ভোটাভুটিতেও ভারত সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বারবার বিরত থেকেছে।
ইসরায়েলের ভূমি নিবন্ধন সিদ্ধান্ত কেন বিতর্কিত ১৫ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ঘোষণা দেয়, তারা অধিকৃত পশ্চিম তীরের বড় অংশকে “রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি” হিসেবে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। এর ফলে জমির মালিকানা প্রমাণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট জমি সরাসরি ইসরায়েলের নামে নিবন্ধিত হয়ে যাবে। অসলো চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিম তীর তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত—
এলাকা-এ : পুরোপুরি ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রণে এলাকা-বি : ফিলিস্তিনি প্রশাসন, তবে ইসরায়েলি নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে
এলাকা-সি : পশ্চিম তীরের প্রায় ৬১ শতাংশ, যা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন।ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের জন্য এসব অঞ্চল দাবি করে আসছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বসতি সম্প্রসারণকে অবৈধ ও শান্তির পথে বড় বাধা হিসেবে দেখে।
৮৫ দেশের কড়া নিন্দা : আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি মিশনের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করা উচিত। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। পাশাপাশি সৌদি আরব, কাতার, মিসর, জর্ডান ও তুরস্কের মতো আঞ্চলিক শক্তিরাও এতে যোগ দিয়েছে।
ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হচ্ছেসম্প্রতি ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি এবং যৌথ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন নিয়ে দুই দেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
গত বছর একাধিক ইসরায়েলি মন্ত্রী ভারত সফর করেছেন এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও তেল আবিব সফরে নেতানিয়াহুসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।পশ্চিম তীরে বাড়ছে সহিংসতা ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে সহিংসতা তীব্র হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ১,১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত, প্রায় ১১,৫০০ আহত এবং ২২,০০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সূত্র : সিয়াসাত ডেইলি।
আপনার মতামত লিখুন :