মোবাইল নম্বর লিক থেকে সুরক্ষায় থাকুন


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : আগস্ট ২২, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ /
মোবাইল নম্বর লিক থেকে সুরক্ষায় থাকুন

স্মার্টফোন এখন দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যোগাযোগের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন ব্যাংকিং, ই-কমার্স এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হয়। ফলে ব্যক্তিগত নম্বরের নিরাপত্তাও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন কারণে মোবাইল নম্বর লিক বা ফাঁস হয়ে গেলে অপরিচিতদের স্প্যাম কল, প্রতারণামূলক বার্তা কিংবা বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারেন। তাই মোবাইল নম্বর কীভাবে লিক হয় এবং কীভাবে তা সুরক্ষিত রাখা যায়, তা জানা জরুরি।

মোবাইল নম্বর লিক হওয়ার প্রধান কারণ সিম কার্ড বা মোবাইল সংযোগ নেওয়ার সময় গ্রাহকের নাম, মোবাইল নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য টেলিকম প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে সংরক্ষিত হয়। নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী এসব তথ্য বিপণন বা অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। তাই সিম নিবন্ধনের সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেসি পলিসি ও ডেটা ব্যবহারের শর্তগুলো দেখে নেওয়া উচিত।

অনলাইন ফর্ম ও নিবন্ধন অনলাইন শপিং, ওয়েবসাইটে নিবন্ধন, বিভিন্ন জরিপ বা ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের সময় অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল নম্বর দিতে হয়। কোনো ওয়েবসাইটের নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল হলে সাইবার হামলা বা ডেটা ফাঁসের ঘটনায় নম্বর অপরিচিত ব্যক্তিদের হাতে চলে যেতে পারে। এর ফলে স্প্যাম কল ও সন্দেহজনক এসএমএসের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

অ্যাপের অতিরিক্ত পারমিশন অনেক অ্যাপ ইনস্টলের সময় কনট্যাক্ট লিস্ট, ফোন বা অন্যান্য তথ্য ব্যবহারের অনুমতি চায়। প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও এসব অনুমতি দিলে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই অ্যাপকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পারমিশন দেওয়া উচিত নয়।

সার্ভার হ্যাক বা সাইবার হামলা বড় প্রযুক্তি ও টেলিকম প্রতিষ্ঠানও সাইবার হামলার ঝুঁকির বাইরে নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে সাইবার হামলা হলে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য ও মোবাইল নম্বর ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মোবাইল নম্বর সুরক্ষিত রাখতে গোপনীয়তা সেটিংস পরীক্ষা করুন মোবাইল অপারেটরের অ্যাকাউন্ট বা অ্যাপে থাকা প্রাইভেসি, মার্কেটিং ও ডেটা শেয়ারিং সেটিংস নিয়মিত পরীক্ষা করুন। অপ্রয়োজনীয় মার্কেটিং যোগাযোগ এবং ডেটা শেয়ারের অনুমতি বন্ধ করে রাখুন।

অ্যাপের পারমিশন নিয়ন্ত্রণ করুন স্মার্টফোনের সেটিংস থেকে ইনস্টল করা অ্যাপগুলোর পারমিশন নিয়মিত পর্যালোচনা করুন। কোনো অ্যাপের কনট্যাক্ট লিস্ট বা ফোন নম্বর ব্যবহারের প্রয়োজন না থাকলে সেই অনুমতি বাতিল করুন।

অনলাইনে নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন অপরিচিত ওয়েবসাইট, সন্দেহজনক অফার বা অপ্রয়োজনীয় অনলাইন ফর্মে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কোনো সেবায় নম্বর দেওয়া প্রয়োজন হলে আগে ওয়েবসাইটটির বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রাইভেসি নীতি যাচাই করুন।

সাধারণ অনলাইন নিবন্ধন বা এমন কোনো সেবায় যেখানে ব্যক্তিগত নম্বর দেওয়া জরুরি নয়, সেখানে আলাদা বা বিকল্প নম্বর ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ব্যাংকিং, সরকারি সেবা ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে নিজের বৈধ ও নিরাপদ নম্বরই ব্যবহার করা উচিত।

অপরিচিত নম্বর থেকে আসা সন্দেহজনক কল, লিংক বা এসএমএসে সাড়া দেওয়ার আগে যাচাই করুন। কখনোই ওটিপি, পাসওয়ার্ড, ব্যাংকিং তথ্য বা অন্যান্য গোপন তথ্য অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে শেয়ার করবেন না।