যশোরের ঝুমঝুম পুর এলাকা থেকে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেফতার


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জুলাই ৩০, ২০২৬, ৮:২২ পূর্বাহ্ণ /
যশোরের ঝুমঝুম পুর এলাকা থেকে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেফতার

শেপর্যন্ত ধরা পড়েছে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ভয়ংকর চাঁদাবাজ মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। পুলিশ বলছে, ভারতে যাওয়ার পথে যশোর থেকে তাকে পাকড়াও করা হয়। চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় একের পর এক হত্যা, ঘোষণা দিয়ে চাঁদাবাজি, চাঁদার দাবিতে শিল্পপতিদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গুলিবর্ষণ, সন্ত্রাসী হামলায় রীতিমতো অতিষ্ঠ চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একের পর এক ভয়ংকর সন্ত্রাসী ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ-শঙ্কা। এ অবস্থায় ডেভিড ইমনকে ধরতে জাল পাতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। অবশেষে গতকাল বুধবার ভোরে যশোর-নড়াইল সড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় এ ভয়ংকর সন্ত্রাসীকে। এসময় তার সাথে থাকা তিন সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- তমাল, শামীম, শাফায়েত।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, তার উপর নজরদারি চলছিল। এ অবস্থায় নিশ্চিত খবর পাওয়া যায় ইমন যশোরের দিকে যাচ্ছে। এরপর সফল অভিযানে তাকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয় পুলিশ। জোড়াখুনসহ ১৮ মামলার আসামি ডেভিড ইমন গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাফ ছেড়ে বেঁচেছে। জনমনে ফিরেছে স্বস্তি। ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। ফটিকছড়ির সন্ত্রাসী যুবলীগের তৈয়ব বাহিনীর ক্যাডার হিসেবে অপরাধে তার হাতেখড়ি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যুবলীগ ছেড়ে বিদেশে পলাতক শিবির ক্যাডার হিসেবে পরিচিত আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের গ্রুপে ভিড়ে যান ইমন।সংবাদ ফটোগ্রাফি সেবা

পুলিশ সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। তার সঙ্গে সেখানে থাকতেন ইমন। এদিকে সাজ্জাদ আলীর আরেক সহযোগী মো. রায়হানকে ধরতেও গত রাতে নোয়াখালীতে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, নোয়াখালীর সেনবাগ এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই বাড়ির দেয়াল টপকে রায়হান পালিয়ে যান। তাকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন- এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তার ছিল বলে পুলিশের দাবি।

.পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন। অপরজন মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে দেশে সন্ত্রাসী দলটি নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ইমন ও রায়হান দলটির নেতৃত্বে আসেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে। পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও ইমন বড় সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন। ইমনকে গতকালই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত ১৩ জুলাই বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন) নামে একটি ইন্টারনেট সেবার প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে ফোনে দুই কোটি টাকা চাঁদা চাওয়া ও ভাংচুর এবং গত জানুয়ারিতে সাবেক সংসদ সদস্য ও স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবর রহমান চৌধুরীরর বাসায় গুলি করার পর ব্যাপক আলোচনায় আসে ইমন। এছাড়াও গেল বছরের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এক্সেস রোডের মুখে প্রাইভেট কারে গুলি করে জোড়া খুন, ২৩ মে পতেঙ্গা সৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবরকে খুন, ৫ নভেম্বর সরোয়ার হোসেন বাবলা খুনের ঘটনায় আলোচিত ডেভিড ইমন।

.চট্টগ্রাম পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, একসময় রাউজান এলাকায় বালুর মহালে টাকা তুলতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী রায়হানের হাত ধরে আলোচনায় আসে ইমনের নাম। এক বছরের মধ্যেই জোড়া খুনসহ বিভিন্ন কারণে চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের শীর্ষে নাম উঠে আসে তার।

চট্টগ্রাম নগর ও জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কাজ করা কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের এক সময়ের সহযোগী ছিলেন ভারতে মারা যাওয়া ম্যাক্সন ও গত নভেম্বরে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহ নির্বাচনী জনসভায় খুন হওয়া সরোয়ার হোসেন বাবলা। তারা দুইজন কারাগারে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বড় সাজ্জাদের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ হয় ছোট সাজ্জাদ ওরফে বুড়ির নাতি সাজ্জাদ, রায়হান ও বোরহান। তাদের মধ্যে মূলত রায়হানই দলে টানেন ইমনকে।

জানা যায়, ইমনের গুলি চালানো ও সাহসের কারণে খুব কম সময়ে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেন। রায়হানের সহযোগী হিসেবে বড় সাজ্জাদের গ্রুপের একটি অংশ পরিচালনা করেন ইমন। গত কয়েক মাস ধরে সাজ্জাদের নির্দেশে এই ইমন বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ভবন নির্মাণকারীদের ফোন দিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চিহ্নিত অপরাধী হয়েও সীমান্ত দিয়ে অবাধে ভারতে যাতায়াত করতেন এ শীর্ষ সন্ত্রাসী। পুলিশি ধরপাকড় শুরু হলে সীমান্ত পার হয়ে যেতেন। আবার পরিস্থিতি কিছু অনুকূল হলে দেশে ফিরে এসে অপরাধমূলক কর্মকা- করতেন। তাকে গ্রেফতারের পর এখন তার বাহিনীর অন্য ক্যাডারদের গ্রেফতারের দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সেইসাথে তার ভা-ারে থাকা অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ উদ্ধার এবং তার সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান জোরদার করা হবে।