রাজধানীর গণপরিবহণে চলছে নৈরাজ্য! নতুন ভাড়ার তালিকা নেই বাসে, বাড়তি টাকা আদায় করছে


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ /
রাজধানীর গণপরিবহণে চলছে নৈরাজ্য! নতুন ভাড়ার তালিকা নেই বাসে, বাড়তি টাকা আদায় করছে
  • পরিবহণকর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় যাত্রীরা * মন্ত্রী বললেও ভাড়া তদারকিতে অভিযান নেই

ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা বাড়ানোর পর রাজধানীর বিভিন্ন পথে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার মিরপুর, ফার্মগেট, কাওরান বাজার ও শাহবাগে এমন চিত্র দেখা গেছে। যাত্রীদের ভাষ্য-কিছু বাসে আগের চেয়ে ৫-১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। অনেক বাসে নতুন ভাড়ার তালিকা না টাঙানোয় পরিবহণকর্মীদের সঙ্গে যাত্রীদের বাগ্বিতণ্ডা হচ্ছে। যাত্রাবাড়ীর দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোতেও বিভিন্ন গন্তব্যের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। তবে মহাখালী বাসটার্মিনালে সকালে কয়েকটি পরিবহণের কাউন্টারে আগের ভাড়ায় টিকিট বিক্রি হচ্ছিল।

মিরপুর-১২ নম্বরের বাসিন্দা রেলওয়েত হোসেন বলেন, মিরপুর-১০ নম্বর শাহআলী মার্কেট এলাকায় যাওয়ার জন্য সাগুফতা মোড় থেকে বাসে ওঠেন তিনি। আগে এ পথে ১০ টাকা দিলেও গতকাল তার কাছে ১৫ টাকা চাওয়া হয়েছে। ভাড়ার নতুন কোনো তালিকা ছিল না। মিরপুরের ১, ২, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর এবং কালশী এলাকায়ও বাসে নতুন ভাড়ার তালিকা না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাত্রীরা তালিকা দেখতে চাইলে বাসকর্মীদের সঙ্গে তর্ক হচ্ছে। মিরপুর-১২ নম্বর থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে যাতায়াতকারী এক যাত্রী বলেন, রাজধানী পরিবহণের বাসে তার কাছ থেকে আগের চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে। মিরপুর-১ নম্বর এলাকার আরও কয়েকজন যাত্রীর অভিযোগ-নতুন ভাড়া নির্ধারণের সুযোগে কোনো কোনো বাসে ইচ্ছেমতো টাকা চাওয়া হচ্ছে। কোথাও ভাড়া নিয়ে হাতাহাতির পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে। শাহবাগ থেকে গাবতলীগামী যাত্রী জুয়েল সিকদার বলেন, আগে এ পথে তিনি ২০ টাকা ভাড়া দিতেন। গতকাল তার কাছ থেকে ৩০ টাকা নেওয়া হয়েছে। নতুন ভাড়ার তালিকা দেখায়নি বাসকর্মীরা। আজিমপুর থেকে মিরপুরগামী শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, ভাড়া ১০ টাকার স্থলে এখন ১৫ টাকা দিতে হচ্ছে। মোহাম্মদপুর থেকে মতিঝিলে নিয়মিত যাতায়াতকারী ফুয়াদ করিমের অভিযোগ, আগে ২০ টাকা নেওয়া হলেও এখন ২৫-৩০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।

কাওরান বাজার এলাকার কয়েকজন যাত্রী বলেন, কিছু বাসে ৫-১০ টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে। তাদের অভিযোগে ওয়েলকাম, প্রজাপতি ও বিকল্প পরিবহণের নাম এসেছে। ফার্মগেট এলাকায় এক বাসকর্মী বলেন, নতুন ভাড়ার তালিকা হাতে না থাকায় যাত্রীদের দেখাতে পারছেন না। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হচ্ছে। রজনীগন্ধা পরিবহনের চালক মো. সাকিব হাওলাদার দাবি করেন, নতুন তালিকা না পাওয়ায় তারা আগের ভাড়াই নিচ্ছেন।

যাত্রাবাড়ীতে দূরপাল্লার ভাড়া বৃদ্ধি : বুধবার সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাসটার্মিনাল এলাকায় কয়েকটি দূরপাল্লার পরিবহণের কাউন্টারে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। ঢাকা-কুয়াকাটা পথে আগে ২২০ টাকা নেওয়া হলেও এখন ২৫০ টাকা, ঢাকা-নবীনগর পথে ৩২০ টাকার পরিবর্তে ৩৫০ টাকা এবং ঢাকা-পিরোজপুর পথে একটি পরিবহণে ৬৫০ টাকার পরিবর্তে ৭০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম হানিফ পরিবহণের নন-এসি বাসে ৭০০ টাকা এবং ঢাকা-রংপুর বিআরএম পরিবহণে ৭৪৫ টাকা ভাড়া অপরিবর্তিত ছিল বলে কাউন্টারকর্মীরা জানিয়েছেন।

সায়েদাবাদে একটি পরিবহণের কাউন্টার ম্যানেজার এসএম তারিফুল ইসলাম বলেন, তারা আগের চেয়ে ৫০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। তার দাবি, ইকোনমি ও বিজনেস ক্লাসের নন-এসি বাসে একই হারে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম হানিফ পরিবহণের এক কাউন্টারকর্মী বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে আগের নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। যাত্রাবাড়ী এলাকায় কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন, কিছু কাউন্টারে আগের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে।

ঢাকা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলম দেওয়ান বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার পর সরকার বাসভাড়া বাড়ালেও নতুন ভাড়ার প্রজ্ঞাপন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত বর্ধিত ভাড়া নিচ্ছেন না।

নতুন ভাড়া কত : সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ডিজেলচালিত বড় বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি দুই টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে দুই টাকা ৭০ পয়সা করা হয়েছে। মহানগরীর মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকার বাস ও মিনিবাসের ভাড়া দুই টাকা ৪৩ পয়সা থেকে দুই টাকা ৬০ পয়সা হয়েছে। আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাসের ভাড়া দুই টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে দুই টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন ভাড়া মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে। মহানগরীর বাসের সর্বনিু ভাড়া ১০ টাকা এবং মিনিবাসের ৮ টাকা রাখা হয়েছে।

ভাড়া তদারকিতে নেই অভিযান : সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মঙ্গলবার বলেছিলেন, নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জরিমানার পাশাপাশি রুট পারমিট বাতিল করার কথাও তিনি বলেছিলেন। তবে গতকাল রাজধানীতে ভাড়া তদারকিতে কোনো অভিযানের খবরও পাওয়া যায়নি।