রোজায় নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ /
রোজায় নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস

পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনই গতকাল বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ খেজুর, ব্রয়লার মুরগি ও সবজির দাম কয়েক দফা বেড়েছে। যার প্রভাবে এখনো নিত্যপণ্যের বাজারে লক্ষ করা গেছে। ছোলা, ডাল, বেগুন, লেবু, খেজুর থেকে শুরু করে মুরগি ও গরুর গোশতসহ প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। এ চিত্র সারাদেশেই বলতে হবে।  

রাজধানীর বেশ কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নতুন সরকারের প্রথম দিনই বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর হুঁশিয়ারি থাকলেও ব্যবসায়ীরা তোয়াক্কা করছেন না। শুল্কছাড়ের সুবিধা নিয়ে খেজুর আমদানি করে চড়া দামে বিক্রি করছেন। আবার বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো রমজান সামনে রেখে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করছে মুরগির বাজারে। অতিদ্রুত তদারকির ব্যবস্থা জোরদার না করলে জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।

জানা যায়, রমজানে প্রতিদিনের ইফতারের অনুষঙ্গ খেজুর। এর বাজার বেশ চড়া হয়ে উঠছে। খেজুরের আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা এ তিন পর্যায়ের মূল্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আমদানি মূল্যের তুলনায় কয়েক গুণ দামে ভোক্তাকে খেজুর কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ডিউটিসহ মোট শুল্ক প্রায় ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ। মেডজুল, আজওয়া ও আম্বার জাতের প্রতি কেজি খেজুরের আমদানি খরচ (শুল্কসহ) ৬৪৩ থেকে ৬৫০ টাকা, মরিয়ম খেজুরের আমদানি খরচ প্রায় ৬০০ টাকা, মোটামুটি সাধারণ মানের খেজুরের আমদানি খরচ কেজিতে ৪০০ টাকার কিছু বেশি পড়েছে।

কিন্তু বাজারে এসব খেজুর আমদানির চেয়ে দ্বিগুণ-তিন গুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। বাদামতলীতে পাইকারি মেডজুল খেজুরের কেজি দেড় হাজার এবং বিভিন্ন খুচরা বাজারে তা এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা ছাড়িয়েছে। একইভাবে আজওয়া পাইকারিতে ৭০০ টাকা হলেও খুচরায় বিক্রি হচ্ছে কমবেশি ৯৫০ টাকায়, মরিয়ম পাইকারিতে কমবেশি ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরায় কিনতে খরচ হবে ১১০০ থেকে ১৩০০ টাকা। সাধারণ খেজুরের আমদানি খরচ কম হলেও বাজারে তা তুলনামূলক চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনের দর হয়েছে দ্বিগুণ। লম্বা বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। তবে কিছুটা নিম্নমানের বেগুন কেনা যাচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। লেবুর দাম এখনো আকাশচুম্বী। শসা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, লেবু কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেলের দামও কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে।

গরুর গোশত কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে দাম দাঁড়িয়েছে ৮০০ টাকা। মাছের বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রতি কেজি আলু ২০-২৫ টাকা, রসুন ১১০-১২০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১১০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এর মধ্যে মাল্টার দাম কেজিপ্রতি বেড়ে ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আপেল প্রকারভেদে ৩০০ থেকে ৪২০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। লাল আঙ্গুর ৩৪০ টাকা কেজি, সবুজ আঙ্গুর ৪০০ টাকা। কমলা প্রকারভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি। আনার ৩৫০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তরমুজ আকারভেদে কেজিপ্রতি দাম ৯০ থেকে ১০০ টাকা। কলার ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। পেয়ারার দাম প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। প্রতিটি আনারস ৩০ থেকে ৬০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

লেবু ১ পিচ ২৫ টাকা, ডজন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা এবং হালি ১০০-১৪০ টাকা। শসা কেজি ১০০ টাকা, আগে বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা। টমেটো কেজি ৬০ টাকা, আগে বিক্রি হয়েছে ৩৫ টাকা। বেগুন কেজি ১০০ টাকা, আগে বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। মরিচ কেজি ১০০-১২০ টাকা, আগে বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দামে। গাজরের কেজিতে দাম বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা। আদার কেজি ১৬০ টাকা। পিয়াজ দেশি ৬০ টাকা, আগে ছিল ৫০/৫৫ টাকা। হাঁসের ডিম ডজন ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের দাম ডজন ২২০ টাকা। তবে পাড়া-মহল্লার বাজারগুলোতে ৫-১০ টাকা করে বাড়তি দাম রয়েছে ডিমের।

সোনালী মুরগির কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা, আগে ছিল ১৮০ টাকা। লেয়ার মুরগি কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়ে ৩১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। খাশির গোশত কেজি ১১৫০ থেকে ১৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে ৭৮০, তবে পড়া মহল্লার দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি। মাছের বাজারেও রয়েছে দাম বাড়তি চিংড়ি মাছ সাইজ ভেদে ৮০০ থেকে ১৪৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

সাইফ নামের এক ক্রেতা বলেন, রমজান মাস চলছে। এ মাসে নিত্যপণ্যের দাম কমার কথা কিন্তু বেড়েছে সব পণ্যের। সংসার চালাতে এখন হিসাব করে কিনতে হচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এত দাম বৃদ্ধি অস্বাভাবিক। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি থাকলে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়াতে পারত না। আমরাদের মাসিক আয়তো বাড়েনি বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম।