লক্ষ কোটি টাকার কোরবানি ও অর্থনীতি


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জুন ১, ২০২৬, ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ /
লক্ষ কোটি টাকার কোরবানি ও অর্থনীতি
  • বিপুল আনন্দ-উচ্ছ্বাসে সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন গ্রামীণ অর্থনীতি ব্যাপক চাঙ্গা :: এমপি-মন্ত্রীদের কাছে পেয়ে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত :: স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরাও কোরবানি দিয়েছেন

স্বস্তিতে ও আনন্দে কেটেছে এবারের ঈদুল আজহা। বিএনপি সরকার গঠনের পর এটি ছিল প্রথম কুরবানির ঈদ। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব এমপি-মন্ত্রীদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ঈদ উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী মন্ত্রী-এমপিরা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে ঈদ উৎসব পালন করেছেন। এতে ঈদের আনন্দ আরো বহুগুণে বেড়ে গেছে।

এমপি-মন্ত্রীরা দু’হাত খুলে এবার কুরবানি করেছেন। অনেকে নিজ এলাকায় একাধিক পশু কুরবানি করে গরিব অসহায় মানুষের মাঝে গোশত বিতরণ করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন। শুধু যে সরকারি দলের এমপি-মন্ত্রীরাই এমনটা করেছেন তা নয়, বিরোধী দলের এমপিরা আরো বেশি করেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের জামায়াতে ইসলামীর এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল তার নির্বাচনী এলাকায় নিজে ১৫টি গরু কুরবানি দিয়েছেন। এছাড়া তিনি তুরস্কের একটি এনজিওর সহায়তায় ওই এলাকায় মোট ৯৫টি গরু কুরবানি দিয়ে অসহায় দুস্থদের মাঝে গোশত বিতরণ করেছেন। এভাবেই এবারের ঈদে যেন কুরবানির দেয়ার এক অলিখিত প্রতিযোগিতা চলেছে। এছাড়া সামনে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এই নির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ গোছাতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ যেমন বাড়াচ্ছেন তেমনি কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি কাড়তেও বেশ দরাজ দিলে খরচপাতি করে যাচ্ছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও এবার বড় বড় গরু জবাই করে গোশত বিতরণ করেছেন।

সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। সব মিলিয়ে এবারের ঈদে লক্ষ কোটি টাকার কুরবানি হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশিদ ঈদের আগেই প্রায় এক কোটি পশু এবার কুরবানি হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন। সেটি অনেকটাই পূরণ হয়েছে। অনেকে বলছেন এবার পশু কুরবানির পরিমাণ এক কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। অফিস খোলার পরেই এর সঠিক সংখ্যাটা জানা যাবে।

কুরবানির পশু বেচাকেনা ছাড়াও এবারের ঈদে গ্রামীণ অর্থনীতি বেশ চাঙ্গা হয়েছে। ঈদের লম্বা ছুটি পেয়ে চাকরিজীবীরা নাড়ির টানে বাড়ি গেছেন ঈদ উদযাপন করতে। সেখানে গিয়ে তারা নানান কেনাকাটা করেছেন। এতে গ্রামের হাটবাজারগুলোও ছিল বেশ জমজমাট। অন্যদিকে যেসব এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র বা বিনোদন কেন্দ্র রয়েছে সেগুলোও ঈদের ছুটিতে একেবারে পরিপূর্ণ। পর্যটন ব্যবসায় যে মন্দাভাব দেখা দিয়েছিল সেটাও এবার ঈদে কেটে গেছে। পর্যটন ব্যবসাও ঈদকে ঘিরে বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। এছাড়া সরকারের সামাজিক সুরক্ষার যেসব অনুদান যেমন বয়স্ক ভাতা, দুস্থ ভাতা, বিধবা ভাতা, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের অনুদান এসবও গ্রামের অসহায় মানুষের হাতে ঈদের আগেই পৌঁছে গেছে। এতে গরির দুঃখীরাও মনের আনন্দে কেনাকাটা করে ঈদের আনন্দ উপভোগ করেছেন। রাজধানীসহ সারা দেশ থেকে ঘরে ফেরা থেকে শুরু করে কর্মস্থলে ফিরে যেতে পরিবহন সেক্টরেও লেনদেন হয়েছে বিপুল পরিমাণ টাকা। অজপাড়া গাঁয়ের অটোরিকশা-চালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিবহন খাতেও ছিল জমজমাট অবস্থা। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ বেশ স্বস্তি ও আনন্দের মধ্য দিয়ে কেটেছে। ঈদকে ঘিরে সারা দেশের অর্থনীতির চালচিত্র নিয়ে আমাদের সংবাদদাতারা যে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন তা তুলে ধরা হলো।

রাজশাহী থেকে জানান, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রাজশাহী অঞ্চলে পালিত হলো পবিত্র ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ। ঈদকে ঘিরে ১০ দিন নগর গ্রামে ব্যাপক আয়োজন। ঈদের ছুটিটি ছিল লম্বা। শিক্ষার্থীরা আগেভাগে ঘরে ফিরেছে। কটাদিন পর ফিরেছে পেশাজীবী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে। এবারের ঈদে অন্য রকম আমেজ ছিল। নতুন ধানের চাল, কুরবানির গোশত আর এখানকার প্রিয় ফল রসালো শাসালো আম, লিচু রসনা মিটিয়েছে। এবারের ঈদ অর্থনীতি ছিল নানামুখী। ধান, আম আর ঘরে ফেরা মানুষের দু’হাত ভরে খরচ ও কুরবানির পশু বিক্রির বিশাল একটা অর্থ যুক্ত হয়েছে ঈদ অর্থনীতিতে। নির্বাচনের পর প্রথম কুরবানির ঈদ। নিজ নিজ এলাকায় ফিরেছে মন্ত্রী-এমপিসহ নেতারা। তাদের ঘিরে ছিল অন্য রকম বলয়। নেতাকর্মীদের জন্য ভালোই খরচপাতি করেছে। সামনে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনের ঘোষণা রয়েছে। সেটি ঘিরে এখন থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ গোছাতে আর নেতাদের দৃষ্টি কাড়তে মানুষের মাঝে খরচাপাতির কমতি ছিল না। আবার বড় বড় গরু জবাই করে বিতরণের প্রতিযোগিতা ছিল কোথাও কোথাও। বেশ কয়েক বছর ধরে গ্রামের বাড়িতে দু-চারটি গরু-ছাগল লালন-পালন সাধারণ ব্যাপার। লক্ষ্য থাকে কুরবানির ঈদ। তাদের কাক্সিক্ষত দাম না পেলেও গরু-ছাগল অবিক্রীত থাকেনি, যা গ্রামীণ কুরবানির অর্থনীতিকে বেশ সচল করেছে। মানুষ পশু বিক্রি করে তার একটি অংশ দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছে। হাটে নেয়া গরু-ছাগল প্রায় ফেরত আসেনি। খামারিরা তাদের মতো ব্যবসা করেছেন। এ সময় গাছে গাছে ঝুলছে রসালো-শাসালো কাঁচাপাকা আম। টাটকা আম, লিচুর স্বাদ নিতে কেউ হাতছাড়া করেনি। আচারের জন্য কাঁচা আমও বেশ বিক্রি হয়েছে। সব মিলিয়ে নগর গ্রামীণ ঈদ অর্থনীতি বেশ চাঙ্গা।

বগুড়া থেকে জানান, প্রতিবছর ঈদে বগুড়া শহরে যেভাবে দলে দলে কুরবানির গোশত নিতে মানুষ দলে দলে শহরে ভিড় করতোÑ এবার সে রকমটা হয়নি। এই মূল্যায়ন বগুড়া শহরের রহমাননগর মহল্লার মহিমা খাতুন রুমির। তিনি জানালেন, কুরবানির গোশতের যে এক ভাগ মিসকিনদের জন্য রাখা হয় সে অংশের বিলি-বণ্টন বেলা ৩টা নাগাদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এবার ৪টার পরও দেখা গেছে সেই মিসকিনের ভাগের গোশত শেষ হয়নি। বগুড়া নগরীর প্রায় সব এলাকারই চিত্র ছিল প্রায় একই রকম। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে এবার বগুড়ায় অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংখ্যায় গরু, খাসি, ভেড়া কুরবানি হয়েছে। মন্ত্রী-এমপি, জেলা পরিষদ প্রশাসক, সিটি প্রশাসকসহ সিনিয়র বিএনপি নেতারা প্রায় সবাই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় অধিক সংখ্যায় কুরবানি দিয়ে সুষ্ঠুভাবে মাথাপিছু কুরবানি দিয়েছেন। খুব নিকটেই ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা এবং সিটি মেয়র ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং সদস্য পদে ভোট হবে ধরে নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কুরবানি করেছেন এবং সুষ্ঠুভাবে হিসাব কষে তা বিলি০বণ্টনের ব্যবস্থা করেছেন। ফলে মোটামুটি ঘরে বসেই মানুষ এবার কুরবানির গোশত এবং কিছু আর্থিক সহায়তাও পেয়েছেন মূলত সে কারণেই এবার শহরে গোশত সংগ্রহে গ্রামের মানুষ আসেনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার সংসদের বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামের পক্ষ থেকেও বিশেষভাবে কুরবানির গোশত এবং ঈদ সেলামি বণ্টনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটা করা হয়েছে আসন্ন তৃণমূল নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের সাফল্য নিশ্চিত করার জন্য। এমনকি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পলাতক ধনী শ্রেণির লোকেরাও তাদের দলের অসহায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের জন্য ঈদ সেলামি এবং কুরবানির গোশত বিলি-বণ্টনের ব্যবস্থা করেছেন। বগুড়ায় এবার যেসব লোকজন ঢাকা, খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রাম থেকে ঈদের খুশি উদযাপনের জন্য এসেছেন তারা এবার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়, শারিয়াকান্দি ও ধুনটের যমুনা পাড়ের পর্যটন স্পটগুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছেন। তাদের ব্যয়ের অর্থ বাজারে মানি সার্কুলেশন বৃদ্ধি করেছে। চাঙ্গা ভাব এনেছে স্থানীয় অর্থনীতিতে। বগুড়ার কয়েকজন ডেইরি ফার্মের মালিক জানিয়েছেন এবার বগুড়ার পশুরহাটে ভারতীয় ও মিয়ানমারের গরুর উপস্থিতি ছিল না। ফলে স্থানীয়ভাবে কুরবানির জন্য প্রস্তুত গরু, খাসি, ভেড়া, এমনকি দুম্বা অবিক্রীত থাকেনি। ফলে এই খাতের লোকজনের হাতে এবার অর্থ এসেছে আশাতীত। এছাড়া বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মীরা বেশ আর্থিকভাবে সহায়তা পেয়েছেন। সে কারণে তারাও বাজারে কেনাকাটা করায় নিঃসন্দেহে সেই অর্থও বাজারে অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি করেছে।

চট্টগ্রাম থেকে জানান, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এখন দারুণ চাঙা চট্টগ্রাম অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি। প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাবেÑ চট্টগ্রামে এবার আট লাখের বেশি পশু কুরবানি হয়েছে। এর বিরাট অংশ জোগান দিয়েছেন এ অঞ্চলের খামারি ও গৃহস্থরা। এতে প্রান্তিক মানুষের হাতে নগদ টাকা এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনে মন্ত্রী-এমপিরা নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করেছেন। তারা ব্যাপক হারে দান-সদকাহ করেছেন। চট্টগ্রামের ১৬ জন সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকাগুলোর হতদরিদ্র মানুষের মাঝে নগদ অর্থ, কুরবানির গোশতসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সামনে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা উদার হস্তে দান-খয়রাত করেছেন। দলীয় কর্মীদের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন তারা। ৩০ মে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকীতেও মন্ত্রী-এমপিসহ বিএনপির নেতারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। শুকনো খাবারের পাশাপাশি বস্ত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

মহানগরী ফাঁকা রেখে নগরীর বাসিন্দাদের বিরাট অংশ চলে গেছেন গ্রামে। শহরের সড়কে সুনশান নীরবতা। পক্ষান্তরে সরগরম গ্রামের হাটবাজার থেকে শুরু করে সড়ক-মহাসড়ক। চট্টগ্রামের বেশির ভাগ উপজেলায় রয়েছে একাধিক পর্যটনকেন্দ্র। ঈদের লম্বা ছুটিতে পর্যটন কেন্দ্র্রগুলোতে এখন উপচেপড়া ভিড়। তাতে পর্যটনভিত্তিক অর্থনীতি কর্মকা-ও এখন বেশ জমজমাট। গ্রামে লোক সমাগম বেড়েছে, তাতে পরিবহন চালকদেরও আয়-রোজগার বেড়ে গেছে। গ্রামের হাটবাজারগুলোতে জমজমাট বেচাকেনা হচ্ছে। শাকসবজির পাশাপাশি আম, জাম, কাঁঠাল, লিচুসহ হরেক ফলমূলে ঠাসা গ্রামের বাজারগুলো। বাজারে লোক সমাগম বেড়ে যাওয়ায় প্রান্তিক চাষি ও খামারিরা ফল-ফসলের ভালো দাম পাচ্ছেন। সব মিলিয়ে গ্রামীণ জনপদে অর্থনীতির প্রতিটি খাত এখন দারুণ চাঙ্গা।

বরিশাল থেকে জানান, অর্থনীতির টানা খরা এবং অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এবারের ঈদুল আজহা গ্রামীণ অর্থনীতিকে অনেকটা গতিশীল হতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। এ অঞ্চলে যে চার লক্ষাধিক পশু কুরবানি হয়েছে সেখানেই হাতবদল হয়েছে নগদ চার হাজার কোটি টাকারও বেশি। পাশাপাশি ঈদ কেন্দ্রিক আরো বিভিন্ন ধরনের কেনাকাটায় কয়েক হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশ থেকে ঘরে ফেরা থেকে শুরু করে কর্মস্থলে ফিরে যেতে পরিবহন সেক্টরেও কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এমনকি অজপাড়া গাঁয়ের ভ্যানচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিবহন খাতেও অর্থনৈতিক গতি ফিরে এসেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ঘরের মানুষগুলো গ্রামে পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদুল আজহা উদযাপন করতে এসেও কম-বেশি নগদ অর্থ ব্যয় করায় বিভিন্ন ব্যবসায়ও গতি ফিরে এসেছে। সব মিলিয়ে সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহা দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিকে অনেকটাই গতিশীল হতে সহায়তা করেছে।

কক্সবাজার থেকে জানান, এবারে কক্সবাজারে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, নিরাপদ ঈদযাত্রা ও ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে। নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর এটিই ছিল প্রথম ঈদুল আজহা। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ছিল বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা ও স্বস্তির আবহ। জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের ঈদে কক্সবাজার জেলার ৯টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভাসহ পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ঈদযাত্রা ছিল নির্বিঘœ ও স্বস্তিদায়ক। সড়ক-মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। সচেতন মহলের মতে, সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ, প্রশাসনের তৎপরতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণেই এবারের ঈদে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। অনেকেই এটিকে বিএনপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিকতা ও দক্ষ নেতৃত্বের প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করেছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, কক্সবাজারের সন্তান হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দায়িত্ব গ্রহণ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকা-ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে গোটা জেলার অর্থনীতিতেও দেখা গেছে ব্যাপক গতি। কুরবানির পশুর হাট, পরিবহন, বিপণিবিতান, পোশাক, খাদ্যপণ্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসা-বাণিজ্যে ছিল উল্লেখযোগ্য লেনদেন। শহর থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের মুখে ছিল সন্তুষ্টির হাসি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাঁচজন সংসদ সদস্য, একজন জেলা পরিষদ প্রশাসক, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং শতাধিক এনজিও ঈদ উপলক্ষে ব্যাপক ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এসব কার্যক্রমে নি¤œআয়ের মানুষ, এতিম, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী উপকৃত হয়েছেন। ফলে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে তৃণমূল পর্যন্ত।

সিলেট থেকে জানান, সিলেটে ঈদুল আজহা কেটেছে আনন্দ উৎসবের মাধ্যমে। ঈদের প্রধান জামাত শাহী ঈদগাহ ময়দানে লাখো মুসল্লি ছিলেন উপস্থিত। একই সাথে অন্যত্রও। কুরবানি পশু কুরবানির বর্জ্য অপসারণে নতুন রেকর্ড গড়ে সিলেট সিটি করপোরেশন। মাত্র ৮ ঘণ্টার ব্যবধানে পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার হয়ে যায়। জনবান্ধব এমন তৎপরতায় নগরবাসী খুশি। প্রাচীন শহর সিলেটে বিদ্যমান আছে অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন। ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভরপুর সিলেটকে বলা হয় ঐতিহ্যের শহর। তার সঙ্গে প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যে জুড়ায় চোখ। মনে আসে প্রশান্তি। ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মিশেলে সিলেট হয়ে উঠেছে পর্যটন নগরী। এবারের ঈদের ছুটিতে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সিলেটে এসেছেন কয়েক হাজার পর্যটক। ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সব ক্লান্তি ভুলে যেতে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। বর্ষার যৌবনা সাদাপাথর সিলেটের সবুজে মোড়ানো চা-বাগানগুলোও হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম গন্তব্য। শহরের ইট-পাথরের ব্যস্ত জীবন থেকে একটু স্বস্তির খোঁজে মানুষ ছুটে আসছেন সবুজে ঘেরা চা-বাগানের নির্মল পরিবেশে। সাদাপাথর, রাতারগুল, জাফলং কিংবা চা-বাগান সিলেটের প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্র ঘিরেই গড়ে উঠেছে হাজারো মানুষের জীবিকা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আগমনে তাই প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মুখেও। তবে তারা বলছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ওয়াশরুম আরো কিছু সুযোগ-সুবিধা বাড়ালে পর্যটন কেন্দ্রটি হয়ে বিশ্ব মানের পর্যটন কেন্দ্রে।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘প্রাকৃতিক কন্যা জয়ন্তিকা, জাফলং, বিছানকান্দি, কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর, লালাখাল এগুলা মানে তারা ভিজিটরসরা আসে। নজরদারি রাখা হয় ঈদ উপলক্ষে এবং সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল এবং যাতে কোনো ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন না হয়। এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ঈদের জামাতে শরিক হন শাহী ঈদগাহ ময়দানে। এরপর দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সিলেটের অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও নিজ নিজ আসনের সাধারণ জনগণের মাঝে ঈদ উদযাপন করেন। এতে তাদের জনসম্পৃক্তার নতুন নজির স্থাপন করেন তারা। বাণিজ্যমন্ত্রী ঈদের দিন দুপুরে সিলেট ত্যাগ করলেও নির্বাচনী আসন সিলেট-৪ এর জনসাধারণের সাথে মিলেমিশে ঈদে উৎসবে মেতে উঠেন। এছাড়া তার নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মিলিত হতে নির্ধারিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে নগরীর বাসভবনে নগরবাসীর সাথে তার ঈদ আনন্দে শরিক হন তিনি। সব মিলিয়ে সিলেটে ঈদ ছিল বেশ জমজমাট ওআনন্দমুখর।

কুমিল্লা থেকে জানান, পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব সাড়া জেগেছে। কুারবানির পশু বেচাকেনা, ঢাকা-চট্টগ্রাম বা অন্যান্য দূরবর্তী জেলার চাকরিজীবীদের গ্রামে ফেরা এবং উৎসবের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে জেলার ১৭টি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাটবাজারগুলো ছিল উৎসবমুখর। অর্থনীতিবিদ ও কুমিল্লার ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, এই ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ জনপদে শত কোটি টাকারও বেশি আর্থিক লেনদেন হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। ঈদুল আজহার মূল চালিকাশক্তি কুরবানির পশুর হাট। কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশুর জোগান ছিল। খামারি ও সাধারণ কৃষকরা সারা বছর ধরে লালন-পালন করা পশু হাটে তুলছেন। নগদ টাকা সরাসরি এসেছে প্রান্তিক মানুষের হাতে। এতে গ্রামীণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পশুর হাটের হাসিল, গোখাদ্য বিক্রি এবং পশু পরিবহনের সাথে জড়িত হাজারো মানুষের দৈনিক আয় কয়েক গুণ বেড়েছে।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের বড় একটি অংশও ঈদের এই সময়ে গ্রামে খরচ হয়েছে। অর্থনীতির এই চাঙ্গাভাবকে আরো বেগবান করেছে ঈদ উদযাপনে মানুষের গ্রামে ফেরা। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে নাড়ির টানে কুমিল্লায় নিজ নিজ গ্রামে ফিরেছেন। একই সাথে সরকারের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে এরও একটি বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ভিআইপিদের এলাকায় অবস্থানকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক কর্মকা- বৃদ্ধি পেয়েছে। এমপি-মন্ত্রীদের ঘিরে থাকা বিশাল কর্মী ও শুভাকাক্সক্ষী বাহিনীর যাতায়াত এবং উৎসবকেন্দ্রিক খরচের কারণে গ্রামীণ বাজারগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। স্থানীয় মুদি দোকান, কাপড়ের শোরুম, সেলুন থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানগুলোতে বেচাকেনা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

খুলনা থেকে জানান, গত দু’বছরে টানা মন্দার পর এবার খুলনাঞ্চলে ঈদকে ঘিরে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছে। এ অঞ্চলে কুরবানিকে ঘিরে কয়েক শত কোটি টাকার অর্থনীতি আবর্তিত হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে এলাকায় এমপি-মন্ত্রীরা আসায় রাজনীতি আর ঈদের আমেজ সংমিশ্রণে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে গোটা উৎসব। কুরবানির পশু উৎপাদন ও বিক্রি মূলত গ্রামকেন্দ্রিক হওয়ায় এর সুফল সরাসরি প্রান্তিক খামারি পাওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতি উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দেশি গরুর খামার ও গৃহস্থ পর্যায়ে গবাদিপশু পালন বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি হাটে পশু বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন। কুরবানির পশু বেচাকেনার পাশাপাশি পরিবহন, মসলা বাজার, কসাই এবং কামার ও দা-বঁটি প্রস্তুতকারক পেশাজীবীদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। কুরবানির বাড়তি আয়ের কারণে গ্রামীণ এলাকায় ফ্রিজ, ফার্নিচার ও পোশাকের মতো ভোগ্যপণ্যের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।

নোয়াখালী থেকে জানান, ঈদকে ঘিরে নোয়াখালীতে সংসদ সদস্যদের পদচারণায় এ অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে সুবাতাস বইছে। মানুষের মাঝে কর্মস্পৃহা ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসছে। সরকারের বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বিমোচনে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণ কর্মমুখী এবং স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন আঁকছে। নোয়াখালীর সর্বত্র সরকারের খাল খনন কর্মসূচি, কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা), বিশেষ ভিজিডি, টেস্ট রিলিফ, জিআর, এসবের ফলে গ্রামীণ জনপদের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

নেত্রকোনা থেকে জানান, পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে নেত্রকোনার গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বোরো ধান কাটা মওসুমে অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ নি¤œাঞ্চলের ফসল পানিতে তলিয়ে যায় আর উঁচু এলাকার কৃষকরা বৃষ্টিপাতের মধ্যেই কোনোরকমে তাদের পাকা ধান ক্ষেত থেকে কেটে রোদ না থাকায় অনেক ধান নষ্ট হয়ে যায়। ফলে কৃষকরা তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে মন্ধাভাব দেখা দেয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর তিন মাসের মাথায় সরকারপ্রধান তারেক রহমান এমপি-মন্ত্রীদের স্ব-স্ব নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে ঈদ করার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং বিরোধী দলের অপপ্রচার বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে জনসাধারণের মাঝে জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ প্রদান করেন। এর পর পরই এমপি-মন্ত্রীরা নিজ নিজ এলাকায় ছুটে গেছেন। প্রত্যেক এমপি-মন্ত্রীর নামে বরাদ্দকৃত অর্থ ও চাল স্থানীয় দুস্থ অসহায় হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে জেলা শহর থেকে গ্রাম-গঞ্জের সব জায়গায় ঈদের কেনাকাটার ধুম পড়েছিল। গ্রামীণ হাটবাজারে কুরবানির পশু থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহরের বিভিন্ন শপিংমল ও বিপণি বিতানগুলো সরগরম হয়ে ওঠে জমজমাট বেচাকেনায়। এ ছাড়া পরিবার-পরিজনের স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উৎসব পালন করতে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। এতে গ্রামীণ জনপদেও অর্থের প্রবাহ বাড়ছে। ফলে ঈদ ঘিরে চাঙ্গা হয়ে উঠছে অর্থনীতি। সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং গার্মেন্টসে কর্মীরা ঈদের ছুটিতে ঈদের বেতন-বোনাস পেয়ে অনেকেই নাড়ির টানে বাড়িতে চলে এসেছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঈদুল ফিতরের মতো না হলেও ঈদুল আজহায় কুরবানির পশু বেচাকেনার পাশাপাশি পায়জামা-পাঞ্জাবি, জুতা, ঘড়ি, টুপি, জায়নামাজ, আতর ও পোশাক বিক্রি বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেড়ে যায় বলে ব্যবসা বাড়ে। এ ছাড়া ঈদ ঘিরে পোশাকের পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের চাহিদাও বেড়ে যায়। বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহও বাড়তে থাকে। ফলে অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়ে। এতে সামগ্রিকভাবে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে ওঠে।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে জানান, পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌরসভাসহ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে গ্রামীণ অর্থনীতি ব্যাপকভাবে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কুরবানির পশু, বিশেষ করে গরু ও ছাগলের বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সরকারি ছুটির কারণে ঈদের আনন্দ ও উৎসবের আমেজ ছিল চোখে পড়ার মতো। সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং প্রবাসীফেরত অনেক মানুষ নিজ নিজ গ্রামে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছেন। ফলে গ্রামের বাজার, হাট এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। পোশাক, মুদি, কসমেটিকস, মিষ্টি, জুতা এবং কুরবানি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পণ্যের দোকানে বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গফরগাঁও রেলস্টেশন রোডের মনিহারি ব্যবসায়ী পাপন মোদক জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে ক্রেতাদের ভিড় ছিল সন্তোষজনক। উপজেলার বিভিন্ন হাটে কুরবানির পশুর ব্যাপক কেনাবেচা হয়েছে। ফলে কৃষক, খামারি ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। গ্রামাঞ্চলে অর্থের প্রবাহ বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বস্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করেছে। গফরগাঁও উপজেলার ৯ নম্বর পাঁচবাগ ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের বাসিন্দা মো. ফয়জুল্লাহ বলেন, অনেক দিন পর গ্রামের বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পেরে খুবই আনন্দিত। চারদিকে কুরবানির পশু কেনাবেচা ও কুরবানি দেওয়ার দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে।