

পঞ্চগড় সংবাদদাতাঃ
পঞ্চগড়ে এক মাঠেই মসজিদে আদায় হয় নামাজ, পাশেই মন্দিরে হয় পূজা-অর্চনা। এমন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যেই চলে হিন্দু ও মুসলমানেরা। এতে প্রশাসনের আলাদা কোনো দায়িত্ব দিতে হয় না। স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য পূজা মণ্ডপের মতো এখানেও পূজা হয়। পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের নতুনহাট এলাকায় জিতাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নতুনহাট জামে মসজিদ ও জিতাপাড়া দুর্গোমন্দির অবস্থিত।
জানা যায়, পঞ্চগড় জেলায় ৩০১টি মন্দিরে চলছে পূজা-অর্চনা। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হিন্দু-মুসলিম একসাথে নিজেদের সময় দেখেই তাদের নিজেদের কার্যক্রম সমাধান করে। এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যেই এই মসজিদ ও মন্দিরের কার্যক্রম প্রায় ২৫-৩০ বছর ধরে করে আসছে এখানকার হিন্দু ও মুসলমানেরা। এখানে আজান ও নামাজের যে সময় নির্ধারিত আছে তা পূজা কমিটির লোকজনদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঠিক সেই সময়গুলোতে পূজা কমিটি মাইক ও পূজা-অর্চনা বন্ধ রাখেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা চলে যাওয়ার পর পূজা-অর্চনা আবার শুরু করা হয়।
হিন্দু ধর্মের রঞ্জিত ও জগদীশ বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, আমরা এখানে একসাথে মিলেমিশেই থাকি। আমাদের কোনো ধরনের সমস্যা হয় না।
মসজিদের মুসল্লিরা জানান, এটা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এবং পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়েই দীর্ঘ দিন থেকে চলে আসছে এই নামাজ ও পূজা। আমাদের আজান ও নামাজের সময়ে মাইক ও পূজা-অর্চনা বন্ধ রাখেন।বাংলাদেশ সংবাদ
জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভিন জানান, একই মাঠে মসজিদ ও মন্দির, এটা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সমঝোতার ভিত্তিতে নিজেদের ধর্মের উপাসনা চলে নিজেদের নিয়মে। একজনের উপাসনার সময় হলে আরেকজন শ্রদ্ধাবোধ থেকে তাদেরকে সুযোগ করে দেয়। এই সম্প্রীতির চর্চা যেন সমাজের প্রতিটি স্তরে হয়, তাহলে সমাজে শান্তি বজায় রাখা সহজ হবে।
আপনার মতামত লিখুন :