

বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের টানাপোড়েন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্যস্ফীতির প্রবল অভিঘাতে যখন বহু দেশের অর্থনীতি টালমাটাল, তখন সংকট মোকাবিলায় এক দূরদর্শী ও সাহসী নেতৃত্বের স্বাক্ষর রাখছে বাংলাদেশ। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও কৃষির প্রাণ সারের সরবরাহ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে সাময়িক টানাপোড়েন ও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা ও কূটনৈতিক তৎপরতায় তা এখন সফলভাবে উত্তরণের পথে।
আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া দামের মধ্যেও খাদ্য নিরাপত্তা অটুট রাখতে সারের পর্যাপ্ত মজুদের পাশাপাশি দ্রুত নতুন আমদানির অনুমোদন নিশ্চিত করা হয়েছে। সার বিতরণে যেসব কর্মকর্তা ও ডিলার অনিয়মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সার্বিক বিষয় মনিটরিংয়ের জন্য তিন মন্ত্রির সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে একটি কমিটিও। একই সঙ্গে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের চাকা সচল রাখতে কাতার ও ওমানের মতো দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারদের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের জ্বালানি কূটনীতি এবং অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও ভোলার পাইপলাইনের মতো যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং প্রকৃতিক গ্যাসের ওপর বাড়তি নির্ভরতা ও চাপ কমাতে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে সক্ষমতার পূর্ণমাত্রায় এবং তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সকল সেক্টরে সঙ্কটাপূর্ণ অবস্থা ও দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সরকারকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে দেয়। চাহিদা অনুযায়ী জ¦ালানি সরবরাহ না থাকা, পুরনো চুক্তি বাতিল হয়ে যাওয়া, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিদ্যুৎখাতের বেশকিছু চুক্তি অনুমোদন না দেয়াসহ নানামুখী জটিলতায় পড়ে দেশের বিদ্যুৎ, জ¦ালানি খাত। শুধু তাই নয়, স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম ইউনিটপ্রতি ১২ থেকে ১৪ ডলার থেকে বেড়ে ২৪ ডলারে পৌঁছেছে এবং তা আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। অর্থনীতি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট (সিএফটি), যেখানে সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরে ২৭০ থেকে ২৮০ কোটি ঘনফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। যদিও অতীতে স্থলভাগে পর্যাপ্ত নতুন কূপ অনুসন্ধান না করা এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে নিজস্ব উৎপাদন ঘাটতি পূরণ হয়নি। এছাড়া মহেশখালীর ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ড/ত্রুটি এবং গ্যাস কার্গো সরবরাহে সাময়িক জটিলতার কারণে গ্যাস খালাস ও গ্রিডে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটেছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এর সঙ্গে ডিলারদের অনিয়মের কারণে নতুন করে যুক্ত হয়েছে সার সঙ্কট, আর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উধ্বগতি। যদিও দেশে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিতরণ ব্যবস্থার নতুন নিয়মের সাথে খাপ খাওয়ানোর জটিলতা এবং কিছু ডিলার সময়মতো বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন ও বিতরণ না করায় মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম বা সাময়িক সংকট দেখা দেয়। বিশ্বের প্রায় ২৫% সার পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে; মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে এই আন্তর্জাতিক সরবরাহ রুটে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নানামুখী উদ্যোগে ধীরে ধীরে কাটতে শুরু হয়েছে সেই সঙ্কট। উন্নতি হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি।
সারের পর্যাপ্ত মজুদ : সম্প্রতি দেশের কিছু অঞ্চলে কৃত্রিমভাবে সারের সঙ্কট সৃষ্টি অপচেষ্টা এবং ডিলার পর্যায়ে অনিয়মের খবর আসে। যদিও ডিলারশিপ বেশিরভাগই আওয়ামী আমলে তাদের লোকজনের হাতেই এখনো রয়েছে। তাদের অনিয়ম ও অবহেলার কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ কৃষকদের মধ্যে। তবে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও সার সঙ্কটের বিষয়ে সামনে আসার পরপরই সারকারের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনিক রদবদল এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি বৃদ্ধির পাশাপাশি নিশ্চিত করা হয়েছে পর্যাপ্ত সরা আমদানি ও মজুদ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রধান চারটি সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে সঙ্কট দূর করে সরবরাহ ব্যবস্থাকে পুরোপুরি নিরবিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে বর্তমানে (২৪ আগস্ট পর্যন্ত) ১৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া- ৪ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন, টিএসপি ৩ লাখ ৬৯ হাজার মেট্রিক টন, ডিএপি ৩ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন, এমওপি ১ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন। এর বাইরেও সারের যেন কোন ঘাটতি না হয় এজন্য গত ২৪ আগস্ট সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারি ক্রয় কমিটি ৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে কানাডা, রাশিয়া এবং সউদী আরব থেকে আরো এক লাখ ১৫ হাজার টন অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।
আমদানি পর্যায়ে পাইপলাইনে আরো রয়েছে ৮ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে- টিএসপি ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন, ডিএপি ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন, এমওপি ৩ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। নতুন করে আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে ২ লখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন। যার মধ্যে রয়েছে- টিএসপি ৬০ হাজার মেট্রিক টন, ডিএপি ১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন, এমওপি ১ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন।
এছাড়া প্রায় ৬ মাস ধরে বন্ধ থাকা চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানা লিমিটেড (সিইউএফএল) কারখানাটিতে গতকাল মঙ্গলবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ফলে শিগগিরই এই কারাখানায় ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, গ্যাস পাওয়ার পর কারখানার যন্ত্রপাতির পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হবে। সিইউএফএল চালু থাকলে দৈনিক ১১ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন হবে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, সারের কোনো ঘাটতি নেই। তিনি বলেন, সার নিয়ে কোথাও কোথাও সমস্যা থাকলেও তা মূলত বিতরণ ব্যবস্থায়। সরকার বিতরণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে যাওয়ায় নতুন প্রক্রিয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো ডিলার তাদের জন্য বরাদ্দ করা সার উত্তোলন করছেন না। এ ধরনের কিছু ঘটনার কারণে কোনো কোনো এলাকায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তবে এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ডিলারদের বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন ও যথাযথ বিতরণের জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
সার উত্তোলন-বিতরণ ও ডিলার নিয়োগে কমিটি গঠন : দেশে সার উত্তোলন, বিতরণ ও সার বিক্রির ডিলার নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম পর্যালোচনা করে কৃষি মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে তিন সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন করা করা হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
উন্নতির পথে জ¦ালানি সমস্যা : বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হয় জ¦ালানি নিয়ে। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ঘিরে হরমুজ প্রাণালী ও মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা। যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ¦ালানিতে প্রভাব পড়ে। বাড়তে থাকে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদা এবং দাম। ইউনিটপ্রতি এলএনজির দাম ১২-১৪ ডলার থেকে লাফিয়ে তা ২৪ ডলারে পৌঁছেছে। অল্পকিছুদিনের মধ্যেই তা ৩০ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ভর্তুকির চাপ ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে কূটনৈতিক তৎপরতায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদি ও সাশ্রয়ী মূল্যে এলএনজি সরবরাহের জন্য মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ঐতিহ্যগতভাবে সরবরাহকারী দেশ কাতার ও ওমানের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি সম্প্রসারণ ও অতিরিক্ত কার্গো আমদানির জন্য উচ্চপর্যায়ের সরকারি কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কয়লাভিত্তিক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) দ্রুততম সময়ে মেরামত করে রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। যার ফলে বন্দরে গ্যাস কার্গো আনলোডিং স্বাভাবিক গতিতে ফিরেছে।
দীর্ঘমেয়াদে জ¦ালানি আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার অভ্যন্তরীণ স্থলভাগ ও সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিগত বছরগুলোর স্থবিরতা কাটিয়ে দেশীয় জ¦ালানি নিরাপত্তা জোরদারে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। নিজস্ব উৎস থেকে দৈনিক অন্তত ১ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফিট (এমএমএসসিএফডি) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে দেশজুড়ে ১৫০টি নতুন কূপ খনন এবং পুরনো কূপ পুনঃখনন কার্যক্রম দ্রুতগতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ভূগর্ভে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফিট (টিসিএফ) গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে, যা সঠিক পরিকল্পনায় কাজে লাগানো হচ্ছে। অন্যদিকে ভোলার বিশাল গ্যাস মজুদের পূর্ণ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে জরুরি গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। পাইপলাইন নির্মাণের পাশাপাশি এলএনজি বা সিএনজি আকারে গ্যাস পরিবহনের বিকল্প উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।
সরকার তেলভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে আরও বেশি পরিমাণে তেলে চালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সে অনুযায়ী লোডশেডিং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি শিল্প খাতে সংকট কাটাতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চলতি মাসের শুরুতে দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করেন। জানা গেছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সম্প্রতি বেসরকারি কেন্দ্রের মালিকদের ৮০ শতাংশ হারে বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য নির্দেশও দিয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে এক বৈঠকে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ফার্নেস তেলের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের চাপ সামলাতে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে বেশি বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে। সন্ধ্যায় সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ নেওয়া হলেও এখন দিনেও তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, গ্যাসের সরবরাহ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ মেরামত করা হয়েছে। তবে বর্তমানে গ্যাসের যে কার্গো রয়েছে, সেটির সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। শিগগির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। শিল্পকারখানাগুলো সচল রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল এককালীন পরিশোধের পরিবর্তে ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ব্যবসায়ীদের শঙ্কা ও গুজব দূর করতে নিয়মিত সরকারি ব্রিফিং দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে শিল্পকারখানায় ব্যবহারের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস সাশ্রয় এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোলার নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে দ্রুত জাতীয় গ্রিডে গ্যাস যুক্ত করতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে জরুরি পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। বিদেশি গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশীয় উৎস থেকে এক হাজার ৭৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখননের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার আশা করছে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। অর্থমন্ত্রীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ভালো অবস্থায় যেতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে এই পুরো সময় পরিস্থিতি খারাপ থাকবে। বরং ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।
কমছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য: সাম্প্রতিক সময়ে বন্যাসহ বেশকিছু কারণে সারাদেশে সবজি উৎপাদন কিছুটা ব্যহত হয়। তবে বন্যার পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে মাটিতে পড়া পলিকে কাজে লাগিয়ে সবজি উৎপাদন শুরু করেছেন কৃষকরা। ফলে ইতোমধ্যেই বাজারে সবজির যোগান বৃদ্ধি পেয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দামেও। দুই সপ্তাহ আগেও যেসব সবজির দাম ৮০-১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছিল তা এখন ৬০-৯০ টাকায় নেমে এসেছে। যা সাাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে বাজারে আরো সবজির যোগান বাড়বে এবং দাম অনেকটা নাগালের মধ্যে চলে আসবে বলেও মনে করছেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :