হার-জিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্যঃ জাতির উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণে বললেন প্রধান উপদেষ্টা


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ / ০ Views
হার-জিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্যঃ জাতির উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণে বললেন প্রধান উপদেষ্টা

১৮ মাসের দীর্ঘ পথচলা শেষে এবং একটি অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ প্রদান করেছেন। মূলত সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার ও রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুদায়িত্ব পালন শেষে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান।

মঙ্গলবার নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগমুহূর্তে আজ সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি। ভাষণটি শুরু হয় রাত ৯টা ১৫ মিনিটে। এই বিশেষ ভাষণে তিনি নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি গণতন্ত্রের প্রকৃত তাৎপর্য ও গত ১৮ মাসের অভিজ্ঞতার কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে একটি উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্পন্ন করার মাধ্যমে জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলো একটি প্রশংসনীয় নজির সৃষ্টি করেছে। ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অচল রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সচল করার যে কঠিন দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেছিলেন, মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথের মাধ্যমে তার চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। ৫ আগস্টের সেই মহা মুক্তির দিনটির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “দৈত্যের গ্রাস থেকে তরুণ ছাত্রছাত্রীরা দেশকে বের করে এনেছে। দেশ মুক্ত হয়েছে। কিন্তু দেশ সম্পূর্ণ অচল। অচল এই দেশটিকে কীভাবে সচল করা যাবে সেটা ছিল সবার মনে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “বিগত ১৮ মাস আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন শেষে, একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেবার জন্য উপস্থিত হয়েছি।” প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন—এই তিনটি মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাঁর সরকারের নিরলস প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন যে মানবাধিকার ও দুর্নীতির বিচার প্রক্রিয়াকে প্রতিশোধের ঊর্ধ্বে রাখা হয়েছে। প্রফেসর ইউনূস হার-জিতের দার্শনিক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “হার-জিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।”

তিনি উল্লেখ করেন যে যারা জয়ী হয়েছেন তারা যেমন জনআস্থা পেয়েছেন, তেমনি যারা পরাজিত হয়েছেন তাদের ওপরও প্রায় অর্ধেক ভোটারের সমর্থন রয়েছে যা গণতন্ত্রের একটি শক্তিশালী ও সুন্দর দিক। অতীতে রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর মানুষের আস্থা হারিয়ে যাওয়া ও গণতন্ত্র ধূলিসাৎ হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান যে ১৮ মাসে ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন সংস্কার করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেকে স্থাপন করতে না পারে। বর্তমানে দেশে একটি নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সূচনা হতে যাচ্ছে এবং মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ও বিকেলে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকার পূর্ণাঙ্গভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে।