৭ বছরের শিশুর ৮ মাসে কোরআনে হাফেজ!


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জুন ৬, ২০২২, ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ /
৭ বছরের শিশুর ৮ মাসে কোরআনে হাফেজ!

দ্রুত  শেয়ার ক্করুন-

মাত্র ৮ মাসে ফিলিস্তিনের অধিকৃত গাজা উপত্যকার সাত বছর বয়সী একটি শিশু পবিত্র কোরআন হিফজ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন তৈরি করা এই শিশুর নাম রাশাদ নিমর আবু রাস। এ শহরের সর্বকনিষ্ঠ হাফেজ হিসেবে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে শিশুটি।

রাশাদের বাবা নিমর বলেন, রাশাদকে গাজা শহরের হিফজ মাদরাসায় ভর্তি করা হয়। আমি মনে করি, আমার সন্তান যেন ছোট্ট বয়সেই কোরআনের হাফেজ হোন মহান আল্লাহ সেই ব্যবস্থা করে দেন।

ছোটবেলা থেকেই আমি তার জন্য দোয়া করতাম- ‘হে আল্লাহ আপনি তাকে সুপথপ্রাপ্ত ও সৎপথের প্রদর্শক করুন।’ তার মুখ দেখলেই আমি তার জন্য দোয়া করতাম। ভোরে ঘুম থেকে উঠে তার মাথায় হাত বুলিয়ে কপালে চুমো খেতাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতি মুহূর্তে তার জন্য আমি দোয়া করেছি- ‘হে আল্লাহ আপনি তাকে সুপথপ্রাপ্ত ও সৎপথের প্রদর্শক করুন। রাশাদের হিফজ সম্পন্ন হওয়ার পর আমি উপলব্ধি করি যে মহান আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছেন। তাকে সুপথের দিশা দিয়েছে। কারণ পবিত্র কোরআন মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সুপথপ্রাপ্তির মাধ্যম।’

রাশাদের হিফজের শিক্ষক জানান, ‘কোরআন হিফজের বিষয়টি তিনটি বিষয়ে নির্ভরশীল। শিক্ষক, পরিবার ও মাদরাস। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মাদরাসার চিন্তা ছিল, এখানের সব শিশু একদিন হাফেজ হবে।

তবে বিষয়টি মোটেও সহজ নয়। বরং এর পেছনে অনেক চেষ্টা পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের প্রয়োজন। হিফজের সময়গুলো মানুষের জীবনের সেরা মুহূর্ত। কোরআন কেন্দ্রিক জীবন ব্যবস্থা জীবনে নিত্য-নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে দেয় যা অন্য জ্ঞানচর্চায় হয় না।’

রাশাদের বাবা আরো বলেন, ‘মাদরাসায় ভর্তির পর রাশাদের হিফজের পরিমাণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। এক সময় সে নিজেই ১০ দিনে দুই পারা পর্যন্ত হিফজ করতে থাকে।

হিফজের পুরো আমরা সবাই তার প্রতি খুবই যত্নবান ছিলাম। রাশাদের শিক্ষক, তার মা ও আমি তার জন্য অনেক পরিশ্রম করতাম। এক দীর্ঘ পরিশ্রমের পর আমরা এ সাফল্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছি।’

উল্লেখ্য, রাশাদ নিমর আবু রাস গাজা শহরের আত-তাবেয়িন আশ-শরইয়্যাহ হিফজ মাদরাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ছিল চলতি শিক্ষাবর্ষে মাদরাসাটির সবচেয়ে কম বয়সী হাফেজ। তার হিফজ সমাপন উপলক্ষে মাদরাসায় বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে গাজা উপত্যাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।