যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উস্কানিতে ইরানে নজিরবিহীন গণবিক্ষোভের পরেও দেশটিতে বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের কোন সম্ভাবনা দেখছে না পশ্চিমা কূটনীতিকরা। ব্রিটিশ সংআদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হলেও শাসকের পতনের বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলো ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপ ও আমেরিকার কূটনীতিক এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তারা গত কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। এর আগেও বেশ কয়েকবার (বিশেষ করে ২০২২-২৩ সালে) ইরানে বড় ধরনের আন্দোলনের সময় মনে করা হয়েছিল যে বর্তমান সরকারের পতন ঘণ্টা বেজে গেছে, কিন্তু প্রতিবারই দেশটি কঠোর হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাই এবারও কোনো হঠকারী সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাচ্ছেন না তারা।
পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো শাসনব্যবস্থার পতনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনী বা সামরিক বাহিনীর ভেতরে বড় ধরনের ফাটল থাকা প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং অন্যান্য বাহিনীগুলোর শীর্ষ পর্যায় থেকে কোনো বড় বিদ্রোহ বা দলত্যাগের খবর পাওয়া যায়নি। যদিও মাঠ পর্যায়ে সাধারণ সেনাদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে, তবে তা এখনো শাসনব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন এবং ‘সাহায্য আসছে’ বার্তা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তবে কূটনীতিকরা আশঙ্কা করছেন, বাইরের দেশের সরাসরি হস্তক্ষেপ বা অত্যধিক উৎসাহ হিতে বিপরীত হতে পারে। এটি ইরানি জাতীয়তাবাদকে উসকে দিয়ে সরকারবিরোধী সাধারণ মানুষকেও সরকারের পক্ষে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পশ্চিমা দেশগুলোর দুশ্চিন্তার আরেকটি বড় কারণ হলো—ইরানে বর্তমান শাসনের পতন হলে তার স্থলাভিষিক্ত কে হবে? একটি সুসংগঠিত বিকল্প নেতৃত্বের অভাব দেশটিকে সিরিয়া বা লিবিয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদী গৃহযুদ্ধ বা চরম বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।