প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আবারও অনুকূল পরিবেশের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠার পরই সফরের তারিখ চূড়ান্ত হবে।
গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন হুমায়ুন কবির। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে এটি তার প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ। বৈঠকে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। আলোচনা ছিল আন্তরিক ও ফলপ্রসূ। তিনি বলেন, অবশ্যই কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। চ্যালেঞ্জগুলো আমরা সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে কাটিয়ে উঠবো। এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে আমরা আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, কোনো একপর্যায়ে, যখন অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে, তখন প্রধানমন্ত্রীও সফর করতে পারেন। আলোচনা বেশ ভালো হয়েছে। বেশ আন্তরিক আলোচনা হয়েছে।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওইরকম কিছু আলাপ হয়নি। এটা পুরোপুরি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। সফরের সময় নির্ধারণ হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সময় তো পরে। যখন আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিকভাবে একটা জায়গায় পৌঁছাবো, যখন সফরের জন্য পরিবেশ অনুকূল হবে, তখন তারিখ ও সময়ের ব্যাপারে আলোচনা করবো। নভেম্বরে সফর হতে পারে এমন গুঞ্জনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গুঞ্জন নিয়ে তো আমি আলাপ করতে পারি না। আমি বাস্তবতা নিয়ে কথা বলি।
তিনি বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে আজ আমাদের খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। আমি খুব ইতিবাচক যে অদূর ভবিষ্যতে আমরা ইতিবাচক ফলাফল পেতে পারি। চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে আবারও জোর দিয়ে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ তো আছেই। চ্যালেঞ্জগুলো কথাবার্তার মাধ্যমেই কাটিয়ে উঠবো। পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে যখন পরিবেশ অনুকূল হবে, তখন আমরা সফর করবো।
অন্যদিকে ভারতের আমন্ত্রণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য খোলা রয়েছে জানিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনই কোনো তাড়াহুড়ার প্রয়োজন নেই। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন সফরের জন্য সুবিধাজনক সময় মনে করবেন, তখনই সফরটি হবে। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা এবং নভেম্বরে সফরের কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে ত্রিবেদী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে এর আগে যা আলোচনা হয়েছে, আবারও বলছি, এখনও আমাদের আমন্ত্রণ রয়েছে। এ নিয়ে আমার মনে হয় না এবার কোনো তাড়াহুড়ার প্রয়োজন আছে। যখন সময় হবে, নিশ্চয়ই হবে। তিনি বলেন, সবকিছুই ইতিবাচক। তবে আমাদের যথাযথ সময় দিতে হবে। সবকিছুই একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। নেতিবাচক কোনো কিছুর প্রশ্নই নেই।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, আমি ইতিবাচক, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ইতিবাচক, বাংলাদেশের মানুষও ইতিবাচক। আমি যখন রাস্তায় হাঁটি, মানুষের সঙ্গে কথা বলি, সেখানেও সবকিছু ইতিবাচক দেখি। দুই পক্ষেরই রাজনৈতিক বাস্তবতা আছে। সেটিও একটি চলমান প্রক্রিয়া। সবকিছু হয়ে যাবে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময়ের ওপরই সফরের বিষয়টি নির্ভর করছে জানিয়ে ত্রিবেদী বলেন, যখন দুই দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুবিধাজনক মনে করবেন, আমি নিশ্চিত যে তখন বিষয়টি হবে। হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে ত্রিবেদী বলেন, এটি ছিল পুরোপুরি সৌজন্য সাক্ষাৎ।
তিনি বলেন, তিনি আগে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন, এখনো আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আমি তাকে অত্যন্ত সৎ, স্পষ্টভাষী ও খোলামেলা মানুষ হিসেবে দেখি। আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, হাইকমিশনের পক্ষ থেকে, ভারতের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানাতেই আমি এসেছিলাম। তার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও আমার শুভেচ্ছা পৌঁছে দিয়েছি। নিউইয়র্কে তার দারুণ একটি বৈঠক হয়েছে। সব মিলিয়ে এটি ছিল একেবারেই সৌজন্য সাক্ষাৎ। তার নতুন দায়িত্বের জন্য আমি তাকে শুভকামনা জানিয়েছি। সামগ্রিকভাবে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ইতিবাচক আলোচনা ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পথকে আরও মসৃণ করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।