স্বাধীনতার পর থেকে চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বন্ধু রাষ্ট্র ও বাণিজ্যের বড় কৌশলগত অংশীদার।
১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উভয় দেশের সম্পর্ক শক্তিশালী হয়েছে।
বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী সম্প্রতি পালিত হয়েছে। নতুন সরকারের সঙ্গে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের প্রচেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে চীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী। তাই আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তিস্তা প্রকল্প, উচ্চ প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনশক্তিকে জনসম্পদে রূপান্তরে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। আর এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে চীনের কাছে জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।
চীনও বাংলাদেশকে জ্বালানি তেল দিয়ে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে বৈঠক শেষে এই ব্যাপারে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তারা। বৈঠকে নতুন সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত কয়েকটি প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, জ্বালানী সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করবে। চীন বাংলাদেশকে জ্বালানি সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে চীন তিস্তা প্রকল্পসহ নতুন উন্নয়ন উদ্যোগে বিনিয়োগে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়ান।
এ সময় চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করবে। এ সময় নতুন ঋণ সহায়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়ান বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন সপ্তাহে অন্তত চারটি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও বাড়বে।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে চীন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়- এমন প্রকল্পগুলোতে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি জানান, বৈঠকে অর্থ ও বাণিজ্যসহ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিস্তা প্রকল্প প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, তিস্তা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এটি নতুন সরকার ও চীনের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর একটি। খুব দ্রুত এ প্রকল্পে কাজ শুরু করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বের যে নতুন ‘স্টাইল’ দেখিয়েছেন তাতে চীন খুবই আশাবাদী। চীনসহ বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশার কথা জানান চীনা রাষ্ট্রদূত।
এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশে বিনিয়োগ বাড়ছে। ভবিষ্যতে এ প্রবণতা আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েক সপ্তাহে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এবং প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ তৈরি করার জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বন্ধু রাষ্ট্র ও বাণিজ্যের অংশীদার। আমরা অর্থনৈতিকভাবে টেকসই দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা হওয়ার সকল যাত্রায় চীন সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।