আবাহন
আবাহন
রফিকুল বারী
আমার সংগে হেটে হেটে এসো বাড়াও পায়ের গতি ,
খেয়ো না আছাড় ! কাঁটা লতা ঝাঁড়, এড়িয়ে চলো গো ক্ষতি ।
এসো তাড়াতাড়ি আমার হাত ধরি প্রাণের পদ্মাবতী ,
ওই তো ওখানে ঝোপের ও পাশে সেজেছে লজ্জাবতী ।
তোমার জন্য ফুটায়েছে ফুল, কষ্ট ক'রে যে অতি ,
মুগ্ধ মনের প্রকাশ ঘটিয়ে উড়িয়াছে প্রজাপতি ।
রং বাহারের এতো আয়োজন পতঙ্গ - ফুলে কতো ,
ভাব ভাবনায় মোহিত আবেশে, চুম্বন অবিরত
এতো প্রণোদনা সব তোমাতেই, প্রেরণা যতো আজ ,
সঁপিবে তোমাকে উজাড় করিয়া লজ্জাবতী’র সাজ ।
লজ্জাবতী’র লতার বাঁধনে নূপুর পরাবে পায় ,
গুচ্ছ - থোকার ফুল নিয়ে সব এসো সাজাবে খোঁপায় ।
হলুদ গাদায় বাজু বনধ আর ভোলানো কোমর বিছা ,
মানাবে কতোই চোখ ফেরে না তো, বলি না মোটেও মিছা !
কন্ঠে কর্ণে ঝুলাও যত্নে রাঙানো ঝুমকো জবা ,
কুমারী পূজার কুমারী স্বরূপে হ'লে তুমি উদ্ভবা !
এই কুঞ্জের কৃষ্ণ আমি যে তুমি রাধা হ'লে আজ !
প্রেমের ভুবনে আমি শা'জাহান তুমি হবে মমতাজ !
গড়িনি দূর্গ গড়িনি প্রাসাদ শুধুই সবুজ মাঠ ,
সবুজে ভরিয়ে এই অঞ্চলে আমি হই সম্রাট ।
এতো দূর পথ জানিনা মোটেও কি ভাবে এসেছো হায় !
শুধু এই টুকু, জানি এ পথের সীমানা ভালবাসায় ।।