

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি বজায় রেখেছেন। মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম ফক্স নিউজের বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে এবং আন্দোলনরত ‘সাধারণ মানুষের’ পথ প্রশস্ত করতে তিনটি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সামরিক হামলার কথা চিন্তা করছে।
ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র
ইরান বর্তমানে চীন থেকে কাঁচামাল আমদানি করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। সিআইএ-র মানচিত্র অনুযায়ী, ইরানের বিভিন্ন স্থানে ভূগর্ভস্থ এবং উন্মুক্ত দুই ডজনেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা ও মজুদাগার রয়েছে। ফক্স নিউজের মতামতধর্মী ওই নিবন্ধে বলা হয়, ট্রাম্প এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারেন, যাতে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার সক্ষমতা চিরতরে শেষ হয়ে যায়।
মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র
ইরানের মহাকাশ গবেষণা বা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রযুক্তি মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রেরই নামান্তর। সম্প্রতি ইরান নতুন মহাকাশ বন্দর থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে যা জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের এই ‘স্পেস লঞ্চ’ কেন্দ্রগুলোকে টার্গেট করার কথা ভাবছে যাতে ইরান তার আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি আর উন্নত করতে না পারে।
ড্রোন কারখানা
ইউক্রেন যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে ইরানের তৈরি ড্রোন পৌঁছে যাচ্ছে। ‘শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ’ এবং রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দ্বারা পরিচালিত এই ড্রোন কারখানাগুলো আমেরিকার তালিকায় শীর্ষ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রয়েছে। ফক্স নিউজের নিবন্ধ মতে, এই কারখানাগুলো ধ্বংসের মাধ্যমে ইরানের কথিত সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং ড্রোন সরবরাহ বন্ধ করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে, মার্কিন বাহিনীর ওপর কোনো ধরনের আঘাত আসলে ইরানকে এমন স্তরে জবাব দেওয়া হবে যা তারা আগে কখনো দেখেনি। গত ২ জানুয়ারি ট্রুথ সোশ্যালে তিনি ইরান ইস্যু নিয়ে ‘Locked and Loaded’ বা যুদ্ধের পূর্ণ প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন।
মার্কিন গণমাধ্যমটির নিবন্ধে দাবী করা হয়, এই সম্ভাব্য হামলার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সাধারণ মানুষের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানানো এবং ইরানের সামরিক শক্তির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। আমেরিকার সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) ইতোমধ্যেই এই ধরণের হামলার জন্য এফ-৩৫ এবং বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমানসহ টমাহক ক্রুজ মিসাইল ব্যবহারের প্রস্তুতি রেখেছে।
নিবন্ধটির উপসংহারে বলা হয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনির শাসনের অবসানই অধিকাংশ আমেরিকান দেখতে চান। আর সেই দিন না আসা পর্যন্ত ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে ‘লক্ষ টুকরো’ করে দেওয়ার এই কঠোর পথেই হাঁটতে পারেন।
আপনার মতামত লিখুন :