ইরানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আর্থিক লেনদেনে সহায়তার অভিযোগে কানাডার আটটি মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার এবং কিছু ক্ষেত্রে অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরের অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানি রিয়ালসহ বিভিন্ন মুদ্রা বিনিময়ের মাধ্যমে অর্থ পাচারে সহায়তা করেছে। কিছু ক্ষেত্রে এসব অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো ডিজিটাল সম্পদে রূপান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি মাদক পাচার চক্রের কথিত প্রধানকেও কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান সহায়তা করেছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্টারিওভিত্তিক মিলিয়ন এক্সচেঞ্জ, ক্রিপ্টয়াল ও দারভিশ এক্সচেঞ্জ এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়াভিত্তিক আমিন এক্সচেঞ্জ। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোও অন্টারিও ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় কার্যক্রম পরিচালনা করে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরান সরকার ও তাদের মিত্রদের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তাকারীদের জন্য কানাডা নিরাপদ আশ্রয় হতে পারে না।
নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ করা হবে। পাশাপাশি মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাদের সব ধরনের আর্থিক লেনদেন নিষিদ্ধ হবে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
কানাডার আর্থিক লেনদেন ও প্রতিবেদন বিশ্লেষণ কেন্দ্র (ফিনট্র্যাক) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অপরাধবিষয়ক সংস্থা ফিনসেনের সঙ্গে সমন্বয় করেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে পৃথক এক ঘোষণায় সেশেলসভিত্তিক ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্রতিষ্ঠান এমএক্সসি গ্লোবালের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে ফিনসেন। সংস্থাটির অভিযোগ, ইরান, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ১৬ বিলিয়ন ডলারের অবৈধ লেনদেনে সহায়তা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমএক্সসি গ্লোবালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অর্থায়নের উৎস সংকুচিত করতে নিষেধাজ্ঞার চাপ আরও বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। এর আগে বুধবার ভারত ও তুরস্কে সক্রিয় একটি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের তেল রপ্তানি ও বিমান সংস্থাগুলোকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার অভিযোগে ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তবে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে অন্টারিওর ডাইভার্স ট্রেড ইনকরপোরেটেড (মিলিয়ন এক্সচেঞ্জ), টপ পিসি টেকনিশিয়ান ইনকরপোরেটেড, ফারাহ এক্সচেঞ্জ, সিসিসি ইনকরপোরেটেড, বি গ্যালাক্সি ইনকরপোরেটেড (ক্রিপ্টয়াল) ও দারভিশ এক্সচেঞ্জ। এ ছাড়া ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ১৩৮০০৭৯ বিসি লিমিটেড (আমিন এক্সচেঞ্জ) এবং এনআইএ নেশনস কারেন্সি লিমিটেডও রয়েছে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা