

ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়াকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করতে যাওয়া একটি মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের ব্ল্যাক হক (UH-60 Black Hawk) হেলিকপ্টারেও হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, তারা মার্কিন উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ করে দিয়েছে এবং ওই পাইলট বর্তমানে তাদের হেফাজতে রয়েছে।
শুক্রবার সকালে ইরানের অভ্যন্তরে একটি মার্কিন এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগেই এর পাইলট প্যারাসুট দিয়ে নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। এরপরই নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজে বের করতে মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি বিশেষ উদ্ধার অভিযান (CSAR) শুরু করে।
ইকোনমিক টাইমস ও ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারের জন্য মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের হেলিকপ্টার ও সি-১৩০ হারকিউলিস বিমান পাঠানো হয়েছিল। তবে ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলার মুখে উদ্ধারকারী ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারটি আক্রান্ত হয়। তেহরান দাবি করেছে, হেলিকপ্টারটিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে এবং সেটি পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থাগুলো দাবি করেছে যে, মার্কিন পাইলটকে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী আটক করেছে। অন্যদিকে, আক্রান্ত হওয়া ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের ক্রুরা নিরাপদ আছেন কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ইরানি মিডিয়া একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে যেখানে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন হেলিকপ্টারটি আকাশ থেকে ভূপাতিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও পাইলট আটক হওয়া বা হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার তথ্য এখনো নিশ্চিত করেনি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজ ক্রুদের সন্ধানে বর্তমানে বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে ইরানের একটি প্রদেশের গভর্নর ঘোষণা করেছেন, যে ব্যক্তি মার্কিন পাইলট বা ক্রু সদস্যদের জীবিত অথবা মৃত ধরতে পারবেন, তাকে বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও পুরস্কার দেওয়া হবে। এই ঘটনার ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
আপনার মতামত লিখুন :