ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে বিমান শক্তি এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারকে মূল কৌশল হিসেবে দেখছে মার্কিন প্রশাসন। সোমবার সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক প্রতিক্রিয়ার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাইবার অপারেশন এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা, যার উদ্দেশ্য ইরানের কমান্ড স্ট্রাকচার (সামরিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা), যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে বিপর্যস্ত করে দেওয়া। মার্কিন কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, এই অপারেশনগুলো প্রথাগত সামরিক হামলার পাশাপাশি চালানো হতে পারে অথবা একক কোনো বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা হতে পারে।
সিবিএস নিউজ আরও জানিয়েছে, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে আকাশপথের আক্রমণ এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। পেন্টাগন এমন সব পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করছে যেখানে যুদ্ধ কেবল রণক্ষেত্রের সংঘর্ষে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ডিজিটাল স্পেস এবং ইনফ্লুয়েন্স ক্যাম্পেইন বা প্রভাব বিস্তারের লড়াই পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ ডিসেম্বর ইরানি রিয়ালের ব্যাপক দরপতনের প্রতিবাদে তেহরানের ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। ৩০ ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই আন্দোলনে যোগ দেন, যা দ্রুত দেশটির বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। তেহরান এই বিক্ষোভকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং চলমান অস্থিরতার জন্য ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানে চলমান বিশৃঙ্খলা দমাতে শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনাগুলো তার কাছে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় মাপের আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সূত্র: তাস।