
উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি অব্যাহত বৃদ্ধিতে বন্যার আশঙ্কা! টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাট ও সুনামগঞ্জ জেলায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এরই মধ্যে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরগুলোতে ঢলের পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
তিস্তার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল এবং নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, আবাদি জমি, চরাঞ্চল ও সুনামগঞ্জের হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে।
গতকাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টা জেলার নদ-নদীর পানি আরো বাড়তে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি জেলায় একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
না বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাট ও সুনামগঞ্জ জেলায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরগুলোতে ঢলের পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
তিস্তার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল এবং নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, আবাদি জমি, চরাঞ্চল ও সুনামগঞ্জের হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে। গতকাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টা জেলার নদ-নদীর পানি আরো বাড়তে পারে।
এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি জেলায় একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদনÑ
শফিকুল ইসলাম বেবু, কুড়িগ্রাম থেকে জানান, কুড়িগ্রামের দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
তবে জেলার অন্য সব নদ-নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জেলার অন্তত ৩৫টি স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও স্থানীয় মাঝারি বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর এই পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পাউবো।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ২৪ দশমিক ৭ মিটারে স্থিতিশীল রয়েছে, যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯৮ মিটার নিচে। তবে তালুকশিমুলবাড়ী পয়েন্টে পানি কিছুটা কমে ২৯ দশমিক ৬৮ মিটারে নেমেছে (বিপৎসীমার ১ দশমিক ১৯ মিটার নিচে)।
অন্যদিকে, দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি বেড়ে ২৮ দশমিক ৬১ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপৎসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া ও চিলমারী পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ২৩ দশমিক ৮২ মিটার ও ২১ দশমিক ৪৬ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এই দুটি পয়েন্টেও পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল রোববার কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ৩০ মিলিমিটার, পাটেশ্বরীতে ২৫ মিলিমিটার এবং কাউনিয়ায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার নিচু এলাকাগুলোতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও নদীর তীরবর্তী বাদাম ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। অনেক চাষি লোকসান এড়াতে জমি থেকে অপরিপক্ক বাদাম তুলত বাধ্য হচ্ছেন।
রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের বুড়িরবাধ এলাকার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। খেত তলিয়ে যাওয়ায় অপরিপক্ক বাদাম জমি থেকে তুলে ফেলতে বাধ্য হয়েছি।
পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি জেলায় প্রায় ৩৫টি স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। কুড়িগ্রাম পাউবো জানিয়েছে, এর মধ্যে ২০টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টা জেলার নদ-নদীর পানি আরো বাড়তে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি জেলায় একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার শঙ্কা রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
হালিম আনছারী, রংপুর থেকে : তিস্তাসহ রংপুরের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে চলেছে। ইতোমধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে রংপুর অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত শনিবার রাত থেকে গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৭ দশমিক শূন্য ১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তাসহ উত্তরাঞ্চলের সব নদ-নদীর পানি বেড়ে চলেছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে বিপদ ও আতঙ্ক। ইতোমধ্যে তিস্তার বিভিন্ন স্থানে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে।
তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মহিপুর তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে বাঁশের পাইলিং ভেঙে গেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুসহ রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে নির্মিত ৯০০ মিটার সেতু রক্ষা বাঁধের ১৫০ মিটারের বেশি অংশই ভেঙে গেছে। এতে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে রংপুর-লালমনিরহাট জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি ধ্বসে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গতকাল রোববার সকাল ৯টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া তিস্তা সেতু পয়েন্টে ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। দুপুরে পানি প্রবাহ কিছুটা বেড়ে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
এদিকে, তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়াতে রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি আরো বাড়লে রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার তিস্তাা-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি অনেক ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এছাড়া, গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নে সেতু রক্ষা বাধে ধ্বসের কারণে তিন গ্রামের ১ হাজারের বেশি পরিবার হুমকির মুখে রয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারত গজলডোবা ব্যারেজের গেট খুলে দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যারাজের সবগুলো জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। নদী তীরবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানিয়েছেন, নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ও নদী তীরবর্তী ভাঙন পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, গঙ্গাধর, জিঞ্জিরাম ও ঘাঘট নদীতে আপাতত বন্যা পরিস্থিতি না থাকলেও তিস্তাপাড়ে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
দুলাল হোসেন, লালমনিরহাট থেকে জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গতকাল দুপুর ১২টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন শনিবার থেকেই পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করায় ব্যারাজের ভাটিতে থাকা নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় তিস্তার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি ও আবাদি জমিতেও পানি ঢুকতে শুরু করেছে। তবে বর্তমানে মাঠে উল্লেখযোগ্য কোনো মৌসুমী ফসল না থাকায় কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা নেই বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে আগামী ৭২ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে করে স্বল্পমাত্রার বন্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, মূলত উজানের ঢল এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই তিস্তা ও ধরলায় বন্যার সৃষ্টি হয়। গত শনিবার থেকেই তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং বৃষ্টির কারণে পানি মাত্রা ওঠানামা করছে।
তিনি আরো বলেন, বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। আমরা ধরলা এবং তিস্তা নদীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছি এবং সতর্ক অবস্থায় রয়েছি।
টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাট ও সুনামগঞ্জ জেলায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরগুলোতে ঢলের পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
তিস্তার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল এবং নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, আবাদি জমি, চরাঞ্চল ও সুনামগঞ্জের হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে।
গতকাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টা জেলার নদ-নদীর পানি আরো বাড়তে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি জেলায় একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
কুড়িগ্রামের দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে জেলার অন্য সব নদ-নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জেলার অন্তত ৩৫টি স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও স্থানীয় মাঝারি বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর এই পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পাউবো।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ২৪ দশমিক ৭ মিটারে স্থিতিশীল রয়েছে, যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯৮ মিটার নিচে। তবে তালুকশিমুলবাড়ী পয়েন্টে পানি কিছুটা কমে ২৯ দশমিক ৬৮ মিটারে নেমেছে (বিপৎসীমার ১ দশমিক ১৯ মিটার নিচে)।
অন্যদিকে, দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি বেড়ে ২৮ দশমিক ৬১ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপৎসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া ও চিলমারী পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ২৩ দশমিক ৮২ মিটার ও ২১ দশমিক ৪৬ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এই দুটি পয়েন্টেও পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল রোববার কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ৩০ মিলিমিটার, পাটেশ্বরীতে ২৫ মিলিমিটার এবং কাউনিয়ায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার নিচু এলাকাগুলোতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
বিশেষ করে চরাঞ্চল ও নদীর তীরবর্তী বাদাম ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। অনেক চাষি লোকসান এড়াতে জমি থেকে অপরিপক্ক বাদাম তুলত বাধ্য হচ্ছেন।
রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের বুড়িরবাধ এলাকার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। খেত তলিয়ে যাওয়ায় অপরিপক্ক বাদাম জমি থেকে তুলে ফেলতে বাধ্য হয়েছি।
পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি জেলায় প্রায় ৩৫টি স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। কুড়িগ্রাম পাউবো জানিয়েছে, এর মধ্যে ২০টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টা জেলার নদ-নদীর পানি আরো বাড়তে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি জেলায় একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার শঙ্কা রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
তিস্তাসহ রংপুরের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে চলেছে, ইতোমধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে রংপুর অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত শনিবার রাত থেকে গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৭ দশমিক শূন্য ১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তাসহ উত্তরাঞ্চলের সব নদ-নদীর পানি বেড়ে চলেছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে বিপদ ও আতঙ্ক। ইতোমধ্যে তিস্তার বিভিন্ন স্থানে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে।
তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মহিপুর তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে বাঁশের পাইলিং ভেঙে গেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুসহ রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে নির্মিত ৯০০ মিটার সেতু রক্ষা বাঁধের ১৫০ মিটারের বেশি অংশই ভেঙে গেছে। এতে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে রংপুর-লালমনিরহাট জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি ধ্বসে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গতকাল রোববার সকাল ৯টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া তিস্তা সেতু পয়েন্টে ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। দুপুরে পানি প্রবাহ কিছুটা বেড়ে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
এদিকে, তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়াতে রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি আরো বাড়লে রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার তিস্তাা-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি অনেক ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া, গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নে সেতু রক্ষা বাধে ধ্বসের কারণে তিন গ্রামের ১ হাজারের বেশি পরিবার হুমকির মুখে রয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারত গজলডোবা ব্যারেজের গেট খুলে দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যারাজের সবগুলো জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। নদী তীরবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানিয়েছেন, নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ও নদী তীরবর্তী ভাঙন পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, গঙ্গাধর, জিঞ্জিরাম ও ঘাঘট নদীতে আপাতত বন্যা পরিস্থিতি না থাকলেও তিস্তাপাড়ে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
দুলাল হোসেন, লালমনিরহাট থেকে জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল দুপুর ১২টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন শনিবার থেকেই পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করায় ব্যারাজের ভাটিতে থাকা নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় তিস্তার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি ও আবাদি জমিতেও পানি ঢুকতে শুরু করেছে। তবে বর্তমানে মাঠে উল্লেখযোগ্য কোনো মৌসুমী ফসল না থাকায় কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা নেই বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে আগামী ৭২ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে করে স্বল্পমাত্রার বন্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, মূলত উজানের ঢল এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই তিস্তা ও ধরলায় বন্যার সৃষ্টি হয়। গত শনিবার থেকেই তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং বৃষ্টির কারণে পানি মাত্রা ওঠানামা করছে।
তিনি আরো বলেন, বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। আমরা ধরলা এবং তিস্তা নদীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছি এবং সতর্ক অবস্থায় রয়েছি।
গত কয়েক দিনের টানা অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নদী-নালা ও খাল-বিলে হুহু করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার সীমান্তবর্তী নদী খাসিয়ামারা, চেলা, কালিউরি, মৌলা ও চিলাই নদী দিয়ে বিপদজনক মাত্রায় পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় বন্যার শষ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল সকাল থেকে উজানের ভারতের মেঘালয় থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি আকস্মিকভাবে উপজেলার এসব নদী দিয়ে হাওরে প্রবেশ করছে। ঢলের শ্রোতে নতী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
টানা বৃষ্টির পানিতে পানিবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে রাস্তাঘাট কাদায় ভরে গেছে। অতি বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। এদিকে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা।
দোয়ারাবাজার উপজেলা পাউবো কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মেঘালয় রাজ্যে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন হাওলাদার বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যার শঙ্কা রয়েছে।