উপকূলীয় অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ মৎস্যজীবী জনগোষ্ঠীর জীবিকার সুরক্ষার সাথে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ গভীরভাবে জড়িত।
এরই অংশ হিসাবে উত্তরণ ও FISHNET প্রকল্পের যৌথ বাস্তবায়নকারী সংস্থা একযোগে ১,১২৫ মৎস্যজীবী পরিবারকে বিকল্প জীবিকার সুযোগ প্রদান করছে। এর মাধ্যমে সামুদ্রিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীলতা ও চাপ কমানোর পাশাপাশি উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।
মৎস্যজীবী পরিবারের বেশিরভাগ নারীর জীবিকার সুযোগ সীমিত। তাদের উৎপাদনশীল সম্পদ কম এবং আর্থিক নিরাপত্তাও পর্যাপ্ত নয়। মাছ ধরার নিষিদ্ধকালীন সময়ে আয়ের সুযোগ কম থাকায় জীবিকা নির্বাহের তাগিদে কেউ কেউ প্রাকৃতিক উৎস থেকে রেণু সংগ্রহ করতে বাধ্য হন, বিশেষ করে চিংড়ি রেণু যা বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা যায় । এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে কিছুটা তারা জানেন। কিন্তু বিকল্প আয়ের পথ না থাকায় এবং টিকে থাকার লড়াইয়ে তাদের এই পথ বেছে নিতে হয়।
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে চিংড়ি চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবিকার মাধ্যম। কিন্তু মাছ ধরার মৌসুমের বাইরে নদী ও উপকূলীয় জলাশয় থেকে প্রাকৃতিক উৎসে চিংড়ির রেণু সংগ্রহের সময় এ সকল জালে অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্যান্য মাছের পোনা ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীও ধরা পড়ে, যা বাইক্যাচ (Bycatch) নামে পরিচিত। । এর ফলে অন্যান্য মাছের রেণু নষ্ট হয়, জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মাছের প্রাকৃতিক পুনরুৎপাদন ব্যাহত হয়।
উপকূলীয় অঞ্চলের মাছ ধরার নিষিদ্ধকালীন সময়ে প্রাকৃতিক রেণু সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এবং পাশাপাশি পরিবার গুলোর মৌলিক চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন বিকল্প জীবিকার সুযোগ।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ফিশনেট প্রকল্পের মাধ্যমে বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টির ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে ঝুঁকিপূর্ণ মৎস্যজীবী পরিবারগুলোর আয়ের উৎস বহুমুখী হয়, দরিদ্রতা কমে এবং সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানের ওপর চাপ হ্রাস করা সম্ভব হয়। জীবিকার আরও নিরাপদ সুযোগ থাকলে নারীরা প্রাকৃতিক রেণু সংগ্রহের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারবেন। এতে জলজ জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত হবে এবং মাছের প্রাকৃতিকভাবে পুনরুৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।
কারণ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষার পাশাপাশি এর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষাও নিশ্চিত করা জরুরি।
FISHNET প্রকল্পটি Ocean Community Empowerment and Nature Grants Programme - OCEAN এবং UK International Development-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। উত্তরণের নেতৃত্বে কনসোর্টিয়াম অংশীদার সংস্থা CNRS, CBDP, SheRее, WJCC ও ACF এবং উপকূলীয় জেলে সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগে প্রকল্পটি সামুদ্রিক প্রতিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই মৎস্যচর্চার প্রসার এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমানের টেকসই উন্নয়নে কাজ করছে।