

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায়ই বাংলাদেশ মহান স্বাধীনতা অর্জন করেছে—এ মন্তব্য করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সবাইকে সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের মূল্যবোধ ধারণ করে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ‘ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) তথ্য অধিদপ্তরের এক বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়।
বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন, পরবর্তীকালে ১১ দফা আন্দোলন এবং সর্বশেষ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান-এই ধারাবাহিক সংগ্রামের পথ ধরেই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
ড. ইউনূস বলেন, তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা ও দমন–পীড়নের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালের পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশজুড়ে চলেছে তীব্র আন্দোলন। ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে শ্রমিক, কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আন্দোলন এক পর্যায়ে গণবিস্ফোরণে রূপ নেয়।
তিনি স্মরণ করেন, ২৪ জানুয়ারি শাসকগোষ্ঠীর দমননীতির প্রতিবাদে সান্ধ্য আইন ভেঙে মিছিল বের করে সংগ্রামী জনতা। সেই মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান মল্লিক। একই দিনে গুলিতে শহীদ হন মকবুল, আনোয়ার, রুস্তম, মিলন, আলমগীরসহ আরও অনেকে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের তরুণ সমাজকে যুগিয়েছে অফুরন্ত সাহস, শক্তি ও প্রেরণা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পেছনে এই আত্মত্যাগ গভীরভাবে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।”
বাণীর শেষাংশে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আপনার মতামত লিখুন :