মো: বিলায়েত হোসেন, শার্শা (যশোর): শিক্ষিত, তরুণ ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন জনপ্রতিনিধির প্রত্যাশায় যশোরের শার্শা উপজেলার ১১ নম্বর নিজামপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন খান মোহাম্মদ আলী রাজা।
ইংরেজি বিষয়ে বি.এ. (সম্মান) ও এম.এ ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি এল.এল.বি সম্পন্ন করা রাজা বর্তমানে যশোর জজ কোর্টে শিক্ষানবীশ আইনজীবী হিসেবে যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, উচ্চশিক্ষিত একজন চেয়ারম্যান ইউনিয়নের শিক্ষা, ডিজিটাল সেবা, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করতে পারেন। সেই প্রত্যাশা থেকেই নিজামপুর ইউনিয়নে খান মোহাম্মদ আলী রাজার প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যয়
খান মোহাম্মদ আলী রাজার শিক্ষাগত যোগ্যতাকে তাঁর সমর্থকরা সম্ভাব্য প্রার্থিতার অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখছেন। ইংরেজিতে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর আইন বিষয়ে পড়াশোনা করায় প্রশাসনিক ও আইনগত বিষয়ে তাঁর জ্ঞান স্থানীয় সরকার পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।
তাঁদের মতে, বর্তমান সময়ে একজন ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের শুধু রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাই নয়, শিক্ষা, প্রযুক্তি, আইন ও প্রশাসনিক বিষয়ে ধারণাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে শিক্ষিত নেতৃত্ব নিজামপুর ইউনিয়নের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও আধুনিক ও বাস্তবমুখী করতে পারে।
রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত খান মোহাম্মদ আলী রাজা। ২০০৭ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। সরকারি এম. এম. কলেজের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।
পরবর্তীতে যশোর জেলা ছাত্রদলের নির্বাহী সদস্য এবং সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলেও তাঁর সমর্থকদের দাবি।
আইন বিষয়ে পড়াশোনাও বাড়িয়েছে সম্ভাবনা
ইংরেজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পর এল.এল.বি সম্পন্ন করাকে তাঁর প্রার্থিতার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে দেখছেন সমর্থকরা। বর্তমানে যশোর জজ কোর্টে শিক্ষানবীশ আইনজীবী হিসেবে যুক্ত থাকার কারণে আইন ও নাগরিক অধিকার বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে কাজে লাগতে পারে বলে তাঁরা মনে করেন।
পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে গণসংযোগ
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশায় নিজামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন খান মোহাম্মদ আলী রাজা। সাধারণ মানুষ, তরুণ সমাজ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন তিনি।
তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য, “শিক্ষিত নেতৃত্ব, আইনের জ্ঞান ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নিজামপুরকে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।”
শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, নাগরিক সুবিধা, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং সামাজিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন তাঁর সমর্থকরা।
তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে তাঁর অবস্থান কতটা শক্তিশালী হবে, তা নির্ভর করবে দলীয় সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সর্বোপরি নিজামপুর ইউনিয়নের ভোটারদের রায়ের ওপর।