অহির এলেম বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সুস্থ সমাজ উপহার দেয়া সম্ভব। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক গতকাল জুমার খুতবা-পূর্ব বয়ানে বলেন, মানবতার ছবক একমাত্র কুরআন-হাদিস ও নবী (সা.)-এর সিরাত থেকে নিতে হবে।
আল্লাহ ইনসানকে ইসলামের নিয়ামত দান করেছেন। ইনসান যদি পশুত্বের পরিচায় দেয় তাহলে জাহান্নামের পথ প্রশস্ত হয়। খতিব বলেন, যে সমাজে পর্দার বিধান নিয়ে উপহাস করা হয় সে সমাজে শান্তি আসতে পারে না।
ওহির এলেম বাদ দিয়ে সমাধান হবে না। ওহির এলেম বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সুস্থ সমাজ উপহার দেয়া সম্ভব। পশ্চিমা সংস্কৃতি দিয়ে শিক্ষাকারিকুলাম তৈরি করলে সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।
খতিব বলেন, পশ্চিমা অন্ধকার দিয়ে আমাদের শিক্ষাকারিকুলাম চালালে আলোকিত মানুষ তৈরি হবে না। পশ্চিমা বেহায়াপনা ধার নিয়ে সুশীল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। হে আল্লাহ, আমরা হাইওয়ান হয়ে যাচ্ছি, আমরা বেহায়াপনার দিকে ঝুঁকছি। হে আল্লাহ, আমাদের ঈমানকে হিফাজত করেন। আমাদেরকে চারিত্রিকভাবে পবিত্র করে দিন। সব ধরনের অন্ধকার থেকে আমাদের হিফাজত করুন।
খতিব বলেন, জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনকে কাজে লাগাতে হবে। বেশি বেশি তাকবির-ইস্তিগফার পাঠ করতে হবে। ৯ জিলহজ রোজা রাখতে হবে। রাসূল (সা.) ৯ জিলহজ রোজা রাখার ব্যাপারে বলেছেন, আমি আশাবাদী ৯ জিলহজ রোজা রাখায় আগের এক বছরের গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেবেন।
খতিব বলেন, ঈমান-ইসলামের আলামত হচ্ছে কোরবানি। কোরবানির মাধ্যমে আমরা তাওহিদের শিক্ষা পাই। ইসলামের কোনো প্রতীক নিয়ে অবজ্ঞা অবমাননা করা যাবে না। আল্লাহর বিধানকে শ্রদ্ধার সাথে অনুসরণ করতে হবে।
খতিব বলেন, আল্লাহ কুরআনে মুমিনদের দৃষ্টি নিচের দিকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। নবীর শিক্ষা বাদ দিয়ে পশ্চিমা সভ্যতা দিয়ে আইন বানিয়ে শান্তি আনা যাবে না। খতিব কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ঢাকা দক্ষিণ মুগদা ব্যাংক কলোনি রসূলবাগ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি রাহমাতুল্লাহ তাক্বী বিন আব্দুল গনী গতকাল জুমার পূর্ব-খুতবায় বলেন, আল্লাহ তায়ালার মহান নিদর্শনাবলির মধ্য থেকে একটি হলো কোরবানি। এটি হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত, যা রাসূল (সা.) নিজে আদায় করেছেন, উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন এবং তার তরিকা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করেছেন। তাই আমাদের উচিত খালেস নিয়তের সাথে, হালাল সম্পদ দ্বারা এবং শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে কোরবানি আদায় করা।
এটি আল্লাহ তায়ালার নিদর্শনাবলির একটি এবং সেটিকে সম্মান করা অন্তরের তাকওয়ার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা বলেন ‘আর যে আল্লাহর নিদর্শনসমূহের সম্মান করে নিশ্চয় তা অন্তরের তাকওয়া থেকে উৎসারিত।’ (সূরা আল-হাজ্জ-৩২) আমরা কোরবানি করি আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের জন্য। আল্লাহ তায়ালা বলেন ‘বলুন, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু সবই আল্লাহর জন্য, যিনি সব জগতের প্রতিপালক। তাঁর কোনো শরিক নেই। আমাকে এরই নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং আমিই প্রথম আত্মসমর্পণকারী।’ (সূরা আল-আনআম : ১৬২-১৬৩) আল্লাহ তায়ালা বলেন ‘আর আমরা এক মহান কোরবানির বিনিময়ে তাকে অর্থাৎ ইবরাহিম (আ.)-কে মুক্ত করলাম।’ (সূরা আস-সাফফাত-১০৭) হজরত জায়েদ বিন আরকাম রা. বলেন, রাসূল (সা.)-এর সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এই কোরবানি কী?’ তিনি বললেন ‘এটি তোমাদের পিতা ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সুন্নত।’ তারা বললেন, ‘এতে আমাদের জন্য কী প্রতিদান রয়েছে?’ তিনি বললেন, ‘প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি নেকি।’ তারা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! উলের অর্থাৎ যে সব প্রাণীর পশম বেশি হয় সে ব্যাপারেও?’ তিনি বললেন, ‘উলের প্রতিটি পশমের বিনিময়েও একটি নেকি।’ (ইবনে মাজাহ-৩১২৭)
আল্লাহ তায়ালা বলেন ‘আর কোরবানির উটকে তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছি। এতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে। অতএব সেগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো অবস্থায় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করো। তারপর যখন সেগুলো কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তা থেকে তোমরা খাও এবং যে মানুষের কাছে চেয়ে খায় না ও যে চেয়ে খায় এমন অভাবগ্রস্ত মানুষদেরকে খাওয়াও। এভাবেই আমরা এগুলোকে তোমাদের অধীন করেছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’ (সূরা আল-হাজ্জ-৩৬)
রাসূল (সা.) বলেন, ‘কোরবানির দিনের কোনো আমল আল্লাহর নিকট পশুর রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে অধিক প্রিয় নয়। কিয়ামতের দিন তা তার শিং, পশম ও খুরসহ উপস্থিত হবে। আর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর কাছে কবুল হয়ে যায়। অতএব তোমরা আনন্দচিত্তে কোরবানি করো।’ (তিরমিজি-১৪৯৩)
খতিব বলেন, কোরবানি দেয়ার আগে আমাদের নিয়তকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন ‘আল্লাহর কাছে না পৌঁছে তাদের গোশত আর না তাদের রক্ত; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।’
সূরা আল-হাজ্জ-৩৭) আমাদের কোরবানি যেন শুধু সামাজিক প্রথা, লোক দেখানো বা গোশত অর্জনের উদ্দেশ্যে না হয়; বরং একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হয়। কোরবানির পশু হালাল সম্পদ দ্বারা ক্রয় করতে হবে, শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে জবাই করতে হবে এবং নিয়তকে খালিস রাখতে হবে।
ঢাকার মুগদা উত্তর মান্ডা বাইতন নূর জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি ফয়জুল্লাহ জীবনপুরী গতকাল খুতবার-পূর্ব বয়ানে বলেন, আদম (আ.)-এর যুগে কোরবানির সূচনা। পবিত্র কুরআনের আয়াত (সূরা আল-মায়িদাহ-২৭-৩১) ‘যখন তারা উভয়ে কোনো কোরবানি পেশ করল, তখন তাদের একজনের কোরবানি কবুল হলো এবং অন্য জনেরটি কবুল হলো না। সে (যার কোরবানি কবুল হয়নি) বলল, ‘আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব’। অপরজন বলল, ‘আল্লাহ তো কেবল মুত্তাকিদের (যার অন্তরে আল্লাহর ভয় আছে) কোরবানিই কবুল করেন।’ তুমি যদি আমাকে হত্যা করতে আমার দিকে হাত বাড়াও, তবুও আমি তোমাকে হত্যা করতে তোমার দিকে হাত বাড়াব না; কেননা, আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’