নিজস্ব প্রতিনিধি: যশোর জেলার শার্শা উপজেলার ১১ নং নিজামপুর ইউনিয়নের কন্দর্পপুর গ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগজনক হারে বিস্তার লাভ করছে পার্থেনিয়াম নামক ক্ষতিকর ও বিষাক্ত আগাছা।
কৃষিজমি, রাস্তার পাশ, খালি জায়গা এবং বসতবাড়ির আশপাশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই আগাছা বর্তমানে স্থানীয় জনগণ, কৃষক এবং পরিবেশ সচেতন মহলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পার্থেনিয়াম আগাছার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে কন্দর্পপুরে এক জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অসিত কুমার মন্ডল, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, শার্শা, যশোর।। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পার্থেনিয়াম বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিকর আগাছা হিসেবে পরিচিত। এটি অত্যন্ত দ্রুত বংশবিস্তার করতে সক্ষম এবং একবার কোনো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি জানান, পার্থেনিয়াম আগাছার ফুল ও পরাগরেণু মানুষের শরীরে অ্যালার্জি, চর্মরোগ, চোখে জ্বালাপোড়া, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টের মতো নানা জটিল রোগের সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘদিন এর সংস্পর্শে থাকলে শারীরিক সমস্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এই আগাছা কৃষিক্ষেত্রের জন্যও মারাত্মক হুমকি। পার্থেনিয়াম জমির উর্বরতা কমিয়ে দেয় এবং অন্যান্য ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে। ফলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং ফলন কমে যায়। গবাদিপশু ভুলবশত এই আগাছা খেলে তাদের বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই আগাছাটি দেখা মাত্রই সতর্কতার সঙ্গে অপসারণ করতে হবে এবং ফুল ও বীজ ছড়িয়ে পড়ার আগেই ধ্বংস করতে হবে।
অসিত কুমার মন্ডল উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, “পার্থেনিয়াম শুধু একটি আগাছা নয়, এটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি নীরব হুমকি। এর বিস্তার রোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মোঃ মোস্তাক মোরশেদ, বীরপ্রতীক ইসহাক কলেজ, বাঘারপাড়া, যশোর। তিনি বলেন, একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে ক্ষতিকর আগাছা ও পরিবেশবিরোধী উপাদান সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও তরুণ সমাজকে এ ধরনের কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মোঃ বেলায়েত হোসেন, জেলা প্রতিনিধি, সারসা বার্তা। তিনি বলেন, সমাজের সার্বিক উন্নয়নের জন্য পরিবেশ সুরক্ষা অপরিহার্য। পার্থেনিয়াম আগাছার বিস্তার রোধে নারী নক্ষত্র সোসাইটি ও নারী নক্ষত্র যুব সোসাইটি নিয়মিতভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, যুবসমাজ, কৃষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পার্থেনিয়াম আগাছা চিহ্নিত করা, অপসারণ করা এবং অন্যদের সচেতন করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল কন্দর্পপুর গণগ্রন্থাগার। সচেতনতামূলক এই কর্মসূচির প্রচারে সহযোগিতা করে নারী নক্ষত্র সোসাইটি এবং নারী নক্ষত্র যুব সোসাইটি।
সভা শেষে উপস্থিত সকলে পার্থেনিয়াম আগাছার ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় এর বিস্তার রোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বক্তারা মনে করেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এই ক্ষতিকর আগাছার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।