ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের অন্যতম শক্তিশালী ও ক্ষিপ্রগতির ইউনিট `৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন’-এর প্যারাসুট বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটন পোস্ট এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খারিগ দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের মাধ্যমেই বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়। মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বীপটি কবজা করতে পারলে তেহরানের ওপর চরম অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সহজ হবে।
পেন্টাগন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩,০০০ প্যারাসুট সেনার একটি 'ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্স' (আইআরএফ) মোতায়েন করা হচ্ছে। এই বাহিনীর বিশেষত্ব হলো, নির্দেশ পাওয়ার মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে তারা যুদ্ধ শুরু করতে সক্ষম। নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে আসা এই সেনাদলের নেতৃত্বে থাকছেন মেজর জেনারেল ব্র্যান্ডন টেগটমেয়ার।
সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে মার্কিন নৌবাহিনীর মেরিন কোর দ্বীপটির ক্ষতিগ্রস্ত এয়ারফিল্ড সংস্কার করবে। এরপর ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের এই কমান্ডোরা সি-১৩০ কার্গো বিমানে করে সেখানে অবতরণ করবেন। তবে প্যারাসুট ঝাঁপ দিয়ে সরাসরি দ্বীপে নামার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিচ্ছেন না জেনারেলরা।
মজার বিষয় হলো, একদিকে যখন হোয়াইট হাউস থেকে ইরানের সাথে 'ফলপ্রসূ শান্তি আলোচনা'র কথা বলা হচ্ছে, ঠিক তখনই গোপনে এই বিশাল সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি চলছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সাফ জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তারা "বোমার মাধ্যমেই আলোচনা" চালিয়ে যাবেন।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, খারগ দ্বীপ মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ১৫ মাইল দূরে অবস্থিত। ফলে মার্কিন সেনারা সেখানে অবস্থান নিলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট।