

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এবং তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের দেওয়া শোকবার্তাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। এই শোকবার্তাকে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান ‘গভীর ভণ্ডামি’ নাকি ‘মহানুভবতা’—সেই প্রশ্ন তুলে একটি বিশ্লেষণধর্মী পোস্ট করেছেন।তার সেই পোস্ট রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সম্পর্ক সবসময়ই ছিল তীব্র সংঘাতপূর্ণ, যা আন্তর্জাতিক মহলে “দ্য ব্যাটলিং বেগমস” নামে পরিচিত। খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, বালুর ট্রাক দিয়ে বাসভবন অবরুদ্ধ করা এবং একের পর এক মামলার মাধ্যমে তাকে কারারুদ্ধ করার মতো ঘটনাগুলো এই বৈরিতার অংশ ছিল।
এছাড়াও বিভিন্ন সময় মরহুমা বেগম জিয়ার অসুস্থতা ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে খুনি হাসিনা ও তার দলের পক্ষ থেকে বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবরে শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার বয়স ও স্বাস্থ্য নিয়ে এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টের মাধ্যমে রক্তপিপাসু ও প্রতিহিংসাপরায়ণ হাসিনার এই শোকবার্তার পেছনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বিগত বছরগুলোতে বেগম খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করা এবং বিএনপিকে রাজনৈতিক ভাবে দুর্বল করার পেছনে আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। তার মতে, আওয়ামী লীগ খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করতে পারলেও বিএনপিকে ভেঙে ফেলতে সফল হয়নি।
ব্রিটিশ এই সাংবাদিক তার পোস্টে লিখেছেন, আওয়ামী লীগ বেগম খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করতে সফল হয়েছিল এবং তার দল বিএনপিকে ভেঙে দেওয়ার প্রবল চেষ্টা চালিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের শোকবার্তাকে সাধারণ মহানুভবতা হিসেবে দেখা হবে, নাকি একে ‘গভীর ও বিকৃত ভণ্ডামি’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তা নিয়ে তিনি জনমনে প্রশ্ন তুলেছেন।
উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পাঠানো এক শোকবার্তায় ভারতপলাতক হাসিনা একে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনাও জানিয়েছেন।
বার্গম্যান তার পোস্টে শেখ হাসিনার এই শোকবার্তার লিংক শেয়ার করে বর্তমান ও অতীতের রাজনৈতিক বৈপরীত্যের দিকটি ফুটিয়ে তুলেছেন। তার এই পোস্টটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :