

খুলনা নগরীতে পৃথক দুই অভিযানে নারীসহ তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
একদিনে নগরীতে এ ধরনের দুটি অভিযান আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অস্ত্র পাচার ও অপরাধ চক্র নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খুলনা মহানগরীর নিজ খামার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুরাইয়া পারভীন সুমি নামে এক নারীকে আটক করা হয়। তিনি সাতক্ষীরা সদর এলাকার বাসিন্দা।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তুহিনুজ্জামান জানান, সাতক্ষীরা থেকে একটি মাদকের চালান খুলনা হয়ে ঢাকায় যাচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে নিজ খামার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সাতক্ষীরা থেকে ঢাকাগামী ইমাদ পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়।
সন্দেহজনক আচরণের কারণে সুরাইয়া পারভীনের শরীর ও ব্যাগ তল্লাশি করলে সেখান থেকে ৫টি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন এবং ৯৬টি গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে লবণচরা থানায় নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে।
এদিকে একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে সোনাডাঙ্গা থানাধীন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীত পাশে মাদ্রাসা রোড এলাকায় আরেকটি যৌথ অভিযান চালানো হয়। সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল মাদ্রাসা রোডের ১৯/২ নম্বর বেগম রাবেয়ার তিনতলা ভবনের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—যশোরের শার্শা উপজেলার ঘিবা (দক্ষিণ) এলাকার মো. মোরশেদ আলী (৪৫) এবং বরিশাল কোতোয়ালি থানার কাশেমপুর এলাকার কাজী কবির আহমেদ (৫০)।
পুলিশ জানায়, কাজী কবির আহমেদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ১০ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন এবং নগদ ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী এবং বরিশালের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, নগরীতে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও খোঁজ করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :