গুজব না সত্যি! এই মূহূর্তে এটা বিচার করা খুবই কঠিন। এআই চালু হওয়ার পর এটা আরো বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এরমধ্যেও কিছু লোক এমনভাবে গুজব ছড়ায় তা অবিশ্বাস করার কোনো পথই থাকে না। আখেরে দেখা যায়, এটা নিতান্তই গুজব। বাস্তবের সঙ্গে কোনো মিল নেই। ধরা যাক এই মুহূর্তে খবর রয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিকিৎসা নিয়ে।
একটা সূত্র বলছে, তিনি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সাইন্সেসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্য একটি সূত্র বলছে, তাকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে দেখা গেছে। একাধিক সংবাদ সূত্র এটা নিশ্চিত করলেও সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে অনুসন্ধান অব্যাহত। গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তিনি দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর থেকে দিল্লিতেই রয়েছেন।
একজন সংবাদদাতা দিল্লি থেকে জানান, সিঙ্গাপুর নয়, দিল্লিতেই তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই তাকে হাসপাতালে আনা-নেয়া করা হচ্ছে। ৭৮ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী এখন একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হতে চলেছেন। এ বছরের মধ্যেই তাকে চূড়ান্ত বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হতে পারে। খুনসহ প্রায় আড়াইশ মামলায় তিনি প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত।
ওদিকে কলকাতা প্রতিনিধি জানান, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা বার্ধক্যজনিত সমস্যা রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। গত ৮ মাসে তিনি ব্যক্তিগত কোনো চিকিৎসকের সহায়তা পাননি। তাই এইমস-এ চিকিৎসার জন্য পুরোদস্তুর গোপনীয়তায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সরকারি বা বেসরকারি কোনো সূত্র থেকে এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নয়াদিল্লির এইমসে ভিভিআইপিদের চিকিৎসার জন্য সবরকম ব্যবস্থা রয়েছে।
এদিকে কলকাতায় থাকা আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ওবায়দুল কাদেরও চিকিৎসা নিয়েছেন হাসপাতালে। আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর কিছুদিন বাংলাদেশে আত্মগোপনে থেকে সমূহ বিপদ আন্দাজ করে তিনি ভারতের শিলং হয়ে কলকাতায় পৌঁছান। কলকাতায় থাকা জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ বেশ কিছু নেতার তত্ত্বাবধানে একটি আবাসনে রয়েছেন তিনি। এখানেও দলীয় নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রয়েছেন। ৭৬ বছর বয়সী কাদেরের এমনিতেই হার্টে সমস্যা রয়েছে। বেশ কয়েক বছর আগে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হন। তবে এখন ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মাঝে মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। হার্টের চিকিৎসার জন্য তিনি নিয়মিত কলকাতার অ্যাপোলোতে যাচ্ছেন। শ্বাসকষ্টজনিত গুরুতর সমস্যায় একদিনের জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে।