
ছোট বেলা থেকেই বাবা-মায়ের সংসারে বিচ্ছিন্নতা, অভাব নিত্য সঙ্গী ছিলো মিথিলার। নানা-নানীর কাছেই যেতো বেশি সময়। ছোট্ট বেলা থেকেই বাইসাইকেল চালানো, এরপর বাইকার হওয়া। সৎ বাবার বাইক চালিয়েই উড়িবার স্বপ্ন দেখতো মিথিলা। বয়স খুব বেশি না। মাত্র ১৫ বছর।
প্রায় সারাদিন উপজেলা শহরে বাইসাইকেলে ঘুরাঘুরি করে বেড়াতো ছোট্ট মেয়েটা। শহরে বা শহরের বাইরে বাইকে রাইড করতো। কৈশোরের গতির সাথে ছিলো বাইকের গতি। তবে এভাবে এই বয়সেই চলে যেতে হবে সে কি বুঝতে পেরেছিলো? হয়তো পেরেছিলো বৃহস্পতিবারই তার শেষ দিন।
বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকেও শহরে বাইকের পেছনে অয়নকে নিয়ে পুরো চৌগাছা উপজেলা শহর ঘুরেছে৷ ঘুরেছে চৌগাছার বিভিন্ন গ্রাম, হাট-বাজারে। শেষে যাচ্ছিলো আড়ারদহের ক্যাফেতে। হয়তো দুপুরের খাবার খেতেই দুজন যাচ্ছিলো সেখানে। সেই যাওয়ায় শেষ যাওয়া। মায়ের কোলে ফিরলো দুজনেরই লাশ। বাইক চালাচ্ছিলো লেডি বাইকার মিথিলা! যাচ্ছিলো চৌগাছা থেকে আড়ারদাহ ক্যাফেতে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
চৌগাছা-যশোর সড়কের টালিখোলা মোড়ে পৌছালে সামনের দিক থেকে আসা পিকআপ এর সাথে মু'খোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাইকের পেছন ছিটে থাকা অয়ন হাসানের (১৯) মৃত্যু হয়। অয়ন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার আদমপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অয়নকে মৃত ঘোষণা করেন। মিথিলাকে (১৫) ভর্তি করা হয় সার্জারি বিভাগে। সেখানে তার অবস্থা অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসক। ঢাকায় নেয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই মিথিলার মৃত্যু হয়। মিথিলা চৌগাছা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাকপাড়ার নামজুল ইসলামের মেয়ে। এভাবে আর কত জীবন চলে যাবে-?