জঙ্গল সলিমপুর এখন পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : মার্চ ১০, ২০২৬, ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ / ০ Views
জঙ্গল সলিমপুর এখন পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে
  • চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্যে অভিযান, সাঁজোয়া যানে সজ্জিত যৌথ বাহিনীর ৩,২০০ সদস্যের টানা নয় ঘণ্টা অভিযান : ৩টি হেলিকপ্টার ১৫টি এপিসি ১২টি ড্রোন ব্যবহার : ব্রিজ কালভার্ট উপড়ে সড়কে ব্যারিকেড প্রতিরোধের চেষ্টা সন্ত্রাসীদের : আগাম তথ্য ফাঁসে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা : র‌্যাব পুলিশের দুটি ক্যাম্প স্থাপন

চট্টগ্রামে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যখ্যাত জঙ্গল সলিমপুরে টানা নয় ঘণ্টার এক নজিরবিহীন যৌথ সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে। এরপর সেখানে প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

গতকাল সোমবার ভোররাত ৫টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত এ অভিযানে সাঁজোয়া যানসহ অত্যাধুনিক সব অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত সেনাবাহিনী-র‌্যাব-পুলিশ-বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় সাড়ে তিন হাজার সদস্য অংশ নেন। অভিযান কার্যকর ও নিরাপদে ছিল তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি, তিনটি ডগ স্কোয়াড ও ১২টি ড্রোন। অভিযান ঠেকাতে ব্রিজ-কালভার্ট উপড়ে, ট্রাক বিকল করে সড়কে ব্যারিকেড এবং সড়ক কেটে দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে সন্ত্রাসীরা। এসব মোকাবেলা করেই পরিচালিত হয় এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান। অভিযানে সন্ত্রাসী গডফাদারখ্যাত ইয়াছিন, রোকনসহ শীর্ষ কোন সন্ত্রাসী গ্রেফতার কিংবা ভারী কোন অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। অন্যান্যবারের মতো এবার সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার সাহস পায়নি। ধারণা করা হচ্ছে অভিযান টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পাহাড়, জঙ্গলে ঘেরা দুর্গম পথে পালিয়ে গেছে। অভিযান শেষে জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১২ জনকে গ্রেফতার এবং বিপুল অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাব-পুলিশের কর্মকর্তারা।

অভিযানে টানা চার দশক প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা রাষ্ট্রের ভেতরে এই আরেক ‘রাষ্ট্রের’ পতন ঘটেছে জানিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, সেখানে এখন রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ অভিযান সফল হয়েছে দাবি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেখানে র‌্যাব এবং পুলিশের দুটি ক্যাম্প স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। এসব ক্যাম্পে ১০০-১৫০ র‌্যাব-পুলিশ সদস্য অবস্থান করছেন। অন্যদিকে জঙ্গল সলিমপুরকে ঘিরে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরুর কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন।

চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার সীতাকু- উপজেলার মধ্যবর্তী তিন হাজার ১০০ একর সরকারি খাস জমির পাহাড়, টিলা, জঙ্গলাকীর্ণ এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল এবং দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্য হিসেবে পরিচিত। বিস্তীর্ণ এ এলাকা অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানা। সরকারি পাহাড়, টিলা দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। সাধারণ মানুষের কাছে প্লট বিক্রি করে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে যান পাহাড়খেকো ভূমিদস্যুরা। সেখানে তাদের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়। প্লট বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে গড়ে তোলা হয় অসংখ্য সন্ত্রাসী বাহিনী। জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠে একাধিক অস্ত্র তৈরির কারখানা। সেখানে তৈরি অস্ত্র বিক্রি হয় চট্টগ্রামসহ সারাদেশের অপরাধীদের কাছে। লোকজনকে অপহরণ করে নিয়ে সন্ত্রাসী আস্তানায় আটকে রেখে আদায় করা হয় মুক্তিপণ।

আইন এবং প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সন্ত্রাসীরা সেখানে আলাদা ‘রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা করে। সিসিটিভি ক্যামেরা এবং নিজস্ব ‘গোয়েন্দা’ বাহিনীর মাধ্যমে পুরো এলাকাকে নিñিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে রেখে আসছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বছরের পর বছর ধরে জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের ভয়াল জনপদে পরিণত হয়। মাঝেমধ্যে সেখানে র‌্যাব-পুলিশের অভিযান কিংবা বিপুল অস্ত্র উদ্ধার হলেও অক্ষত থেকে যায় সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সেখানে অভিযানে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রবাজির মুখে ফিরে আসতে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। সর্বশেষ গত ১৯ জানুয়ারি অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র‌্যাব-৭ এর ডিএডি নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। সন্ত্রাসীরা র‌্যাব সদস্যদের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে তাদের পিটিয়ে আহত করে। ভাঙচুর করা হয় র‌্যাবের গাড়ি।

প্রশাসনিক কাঠামোতে জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান সীতাকু- উপজেলার আওতায় হলেও ওই এলাকায় প্রবেশ করতে হয় চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকা দিয়ে। বায়েজিদ লিঙ্ক রোড দিয়ে ভাটিয়ারি যাওয়ার পথে ডান দিকে জঙ্গল ছলিমপুর। যার আয়তন তিন হাজার ১০০ একরের বেশি। ২০২২ সালে এ খাস জমি দখলমুক্ত করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আইকনিক মসজিদ, ইকো পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা করার পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার। তখন উচ্ছেদ অভিযানে বারেবারে বাধার মুখে পড়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। টানা উচ্ছেদ অভিযানে সেখানে ‘পাহাড় ব্যবস্থাপনা ক্যাম্প ও চেকপোস্ট’ বসিয়েছিল জেলা প্রশাসন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর সেখানে আবারও সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়ে যায়। এলাকাটিতে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারায় থাকে সন্ত্রাসীরা। র‌্যাবের ওপর হামলার আগে জঙ্গল সলিমপুরে গত বছরের অক্টোবরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হন।

পুলিশ ও জঙ্গল সলিমপুরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইয়াসিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীতাকু-ের তৎকালীন সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ইয়াসিন নিজেকে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী দাবি করে আসছেন। যদিও আসলাম চৌধুরী তা অস্বীকার করেছেন।

অভিযানে থাকা একজন কর্মকর্তা জানান, সন্ত্রাসীরা অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার অনেক চিহ্ন সেখানে ছিল। তাদের গোপন আস্তানাগুলো থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ সরিয়ে নেওয়ার চিহ্নও পাওয়া গেছে। পাহাড়, জঙ্গলে সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা, বসতবাড়ি, তাদের আড্ডাস্থল সর্বত্রই তল্লাশি চালায় যৌথ বাহিনী। এ সময় সেখান থেকে ১২জনকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয় বিভিন্ন রকমের অস্ত্রশস্ত্র। অভিযানের অংশ হিসেবে, জঙ্গল সলিমপুরের চারপাশ ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে বসানো হয় তল্লাশি চৌকি, যাতে অভিযান শুরুর পর কেউ পালিয়ে যেতে না পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অভিযানে অংশ নেন। সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের কমান্ডিং অফিসার এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন অতিরিক্ত কমিশনারসহ শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা অভিযানে অংশ নেন। অভিযানে সেনাবাহিনীর চৌকস সদস্য, পুলিশের দেড় শতাধিক সদস্য ছাড়াও র‌্যাব-বিজিবি, এপিবিএন, আরআরএফ সদস্যরা অভিযানে ছিলেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন। চট্টগ্রাম রেঞ্জ ও মহানগর ছাড়াও ফেনী, বান্দরবানসহ দেশের অন্যান্য জেলা থেকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অভিযানে অংশ নিতে আনা হয়। অভিযানে অংশ নেন সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

কালভার্ট উপড়ে ঠেকানোর চেষ্টা : স্থানীয় সূত্র জানায়, যে কোন সময় অভিযান এটা আগে থেকে টের পায় জঙ্গল সলিমপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। আর এ কারণে তারা আগেভাগেই তাদের অস্ত্র, গোলাবারুদের মজুদ অন্যত্র সরিয়ে নেয়। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনেকেও শেষ মুহূর্তে এসে পাহাড়, জঙ্গল দিয়ে এলাকা ছেড়ে পালায়। অভিযানের বিশালতা টের পেয়ে অস্ত্রহাতে সন্ত্রাসীরা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেনি। তবে সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা নানা উপায়ে অভিযানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। কয়েকটি এলাকায় তারা সড়কে কালভার্ট উপড়ে ফেলে। কাঁচা সড়ক কেটে যান চলাচল ব্যাহত করার চেষ্টা করে। কয়েকটি সড়ক ও গলির মুখে ইট, বালুসহ মালামালবোঝাই বেশ কয়েকটি ট্রাক আড়াআড়ি করে রেখে ওইসব ট্রাক বিকল করে দেয়া হয়। যৌথ বাহিনীর গাড়ি ঢুকতে না পারার জন্য এসব প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে তারা।

অভিযানে যোগ দেয়া চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে ‘কর্মপরিকল্পনা’ তৈরি করে অভিযান পরিচালনা করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান বাধা দিতে ছিন্নমূলের পর আলী নগরের শুরুতে একটি বড় ট্রাক আড়াআড়ি করে রেখে দেয়া হয়েছে। কিছু দূরে খালের ওপর কালভার্ট ভেঙে দেওয়া হয়েছে যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে না পারে। খালে ইটবালি সিমেন্ট দিয়ে ভরাট করে গাড়ি প্রবেশ করানো হয়েছে। তবে যৌথ বাহিনী এসব প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে এবং কালভার্ট ব্রিজের স্থানে মাটি, বালি ফেলে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করে অভিযান পরিচালনা করেছে। জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অপর পক্ষে রোকন উদ্দিন। ইয়াসিন গত জানুয়ারিতে ওই এলাকায় অভিযানে যাওয়া এক র‌্যাব কর্মকর্তাকে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি। জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় রয়েছে তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ।

পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে : জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘পূর্ণ অধিকার’ প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ। অভিযানের শেষপর্যায়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই দাবি করেন। তিনি বলেন, এখানে মানুষ নানা ভাবে নিপীড়িত নির্যাতিত ছিল এবং এখানে এক ধরণের চক্র কাজ করেছিল। যারা সরকারকে পাশ কাটিয়ে, সরকারের প্রচলিত রীতি নীতি পাশ কাটিয়ে, এসি ল্যান্ডকে পাশ কাটিয়ে তারা নিজেরাই জমির কাগজ তৈরি এবং জমির হস্তান্তর কার্যক্রম পরিচালনা করত। এখানে এমনই একটা অবস্থা ছিল, সাধারণ মানুষ এখানে ঢুকতে পারত না। বিশেষ করে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখানে ঢুকতে ভয় পেত অনেক সময়। এবার পঞ্চমবারের মত এই ব্যবস্থা। এর আগে আরো চারবার এখানে আসবার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছি আমরা।

এবারের অভিযান সফল দাবি করে ডিআইজি বলেন, এবার আমরা সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে, যৌথভাবে- আমাদের পুলিশের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব আর জেলা প্রশাসনের বিরাট একটি অংশ সবাই মিলে এবার আমরা সফল হয়েছি বলে মনে করছি। এই জায়গার উপর আমাদের পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আজ থেকে এখানে দুটি ক্যাম্প চলমান থাকবে- বাংলাদেশ পুলিশের একটি ক্যাম্প এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের একটি ক্যাম্প। দুটি ক্যাম্প এখানে চলমান থাকবে। এবং পরবর্তী সময়ে যেন আমাদের কার্যক্রম এখানে চলমান রাখতে পারি বিভাগীয় কমিশনারকে অনুরোধ করেছি তিনি যেন আমাদের এখানকার যাতায়াতের ব্যবস্থা সহজতর করার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, এখানে যেসমস্ত উন্নয়ন কার্যক্রম সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে ছিল সেগুলো যেন দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নরে কার্যক্রম শুরু করেন। তা না হলে এই জায়গাটার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে। আশা করছি বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় এ ব্যপারে তার কর্ম পরিকল্পনা আমাদের সবাইকে জানাবেন। এখানে আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল জায়গার উপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। এটা আমরা করতে সক্ষম হয়েছি।

অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইজি বলেন, এখানে যে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলাম এটার মাধ্যমে দ্রুত সময়ে আরো অস্ত্র উদ্ধার করতে পারব। আমরা পুরো নিয়ন্ত্রণে আছি। এটা অনেক বড় জায়গা। কত বড় জায়গা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। এ পর্যন্ত ১২জনের মত আটক করা হয়েছে। কিছু সংখ্যককে আমরা পাইনি। বিভিন্নভাবে হয়ত তারা জেনে যেতে পারে। অভিযান, তল্লাশী চলমান রয়েছে। সন্ধ্যায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযানে একটি পিস্তল, একটি এলজি, চার রাউন্ড কার্তুজ, ১১টি বিস্ফোরক, ১৭টি দেশী অস্ত্র, ১৯টি সিসি ক্যামেরা, দুটি বায়নোকুলারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

শুরু হবে উন্নয়ন কাজ : বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন জানিয়েছেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিনের প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ায় এখন সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। সলিমপুরের প্রবেশমুখে অভিযান পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, এ এলাকার উন্নয়নের জন্য সরকার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল এখন তা বাস্তবায়ন শুরু হবে। এলাকাটি শহরের খুব কাছে হওয়া সত্ত্বেও এতদিন প্রশাসনের জন্য এটি একটি বড় সমস্যা ছিল। বিষয়টি অনেক আগেই সমাধান হওয়া উচিত ছিল। সম্প্রতি সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার কারণে প্রশাসনের মনোযোগ দিকেই ছিল। নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই সমন্বিতভাবে আমরা এ অভিযানের প্রস্তুতি নিই এবং অভিযান শেষ করি। এর মাধ্যমে এ এলাকায় সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।