আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জাল ভোট দেওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগ তুলেছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন দাবি করেছেন, একটি রাজনৈতিক দল বিপুল পরিমাণ বোরকা ও হিজাব প্রস্তুত রেখেছে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে দলটি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে ড. মাহদী আমিন এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়ার সুপরিকল্পিত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে একটি দল নারী ভোটারের ছদ্মবেশ ব্যবহার করতে বোরকা ও হিজাব মজুত করছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটারদের বাসায় গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের মাধ্যমে ভোট জালিয়াতির সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে। তার ভাষায়, “এই ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।”
বিএনপির এই নেতা জানান, লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে নির্বাচনি সিল তৈরির অভিযোগে আটক এক ব্যক্তি জবানবন্দিতে বলেছেন যে, তিনি এক জামায়াত নেতার নির্দেশে কাজটি করেছেন। এ ঘটনা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার বড় ধরনের অপচেষ্টার ইঙ্গিত দেয় বলে দাবি করেন তিনি।
জাল ভোট প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে ড. মাহদী আমিন বলেন— বোরকা বা হিজাব পরিহিত ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ে নারী কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। ভোটকেন্দ্রে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে হবে। প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে ইসিকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্রিফিংয়ে তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সসহ কয়েকটি বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তারেক রহমানকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় বিএনপির ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি আগামী ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন আসনে তারেক রহমানের জনসভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান। এসব জনসভাসহ সব রাজনৈতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পরিষেষে বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা অভিযুক্ত রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনকে ঘিরে জাল ভোট ও কারচুপির আশঙ্কা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।