ধলতার নামে ঝিনাইদহের হাটে-বাজারে যেসব ব্যাপারী, ফড়িয়া ও মহাজন কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত পণ্য (৪২ কেজিতে মণ) আদায় করছে, তাদের ঠিকানা হবে সোজা কারাগার। ধলতার এই অবৈধ প্রথা অবিলম্বে বন্ধ করতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিনব্যাপী এবং বৃহস্পতিবার রাতে ঝিনাইদহ ও শৈলকুপার বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত পৃথক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এ সব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ এবং শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ।
আইনমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সমাজে হয় খুনি, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা থাকবে, নয়তো আমরা থাকব। মানুষের কাছে মাদক ও সন্ত্রাস দমনে সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।”
আইন সংস্কার কমিশন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, জুলাই সনদের আলোকেই সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কমিশনের প্রস্তাবনার আলোকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। আমরা সেগুলোর প্রায় সব সংস্কারই গ্রহণ করেছি। বাকিগুলো পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, “তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, তাহলে সরকার আইনগতভাবে যা যা করণীয়, তা-ই করবে। উনি নিজে এলে ভালো, এসে বিচারের মুখোমুখি হবেন। এখানে আইনের বাইরে সরকার কিছুই করবে না।”
হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখলে জোরপূর্বক মামলা ঠেকানো হতো, কিন্তু তা করা হয়নি। যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য ঝিনাইদহের হাটে-বাজারে ধলতার নামে বিশেষ করে সবজি চাষিদের কাছ থেকে প্রতি মণে ৪ কেজি করে বেশি পণ্য জোরপূর্বক নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ১০ মণ সবজি বিক্রি করে কৃষক দাম পেতেন ৯ মণের। সবজি ছাড়াও মাছ, পাট ও ধানেও এ সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। জেলা প্রশাসন এতদিন নিশ্চুপ থাকলেও আইনমন্ত্রীর এই কড়া নির্দেশের পরপরই শৈলকুপাসহ জেলার বিভিন্ন হাটে-বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।